ইসরায়েলের গুপ্তচর হওয়ার অভিযোগে ইরানে বাড়ছে গ্রেপ্তার
ইরানে নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই, ইসরায়েলের কাছে সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক ডজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রবিবার আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ইরানে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রাদেশিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের কাছে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা সম্পদের অবস্থানের বিবরণ পাঠানোর অভিযোগ এনেছে।
উত্তর-পূর্ব ইরানে, যা এখনও বিমান হামলা থেকে তুলনামূলকভাবে অক্ষত রয়েছে, সেখানেও রবিবার ১০ জনকে গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে তাসনিম।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে সংবেদনশীল স্থান এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেভল্যুশনারি গার্ডের গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রাদেশিক শাখা বলেছে, 'যেহেতু জায়নবাদী শত্রু (ইসরায়েল) এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করছে, তাই তারা পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দাঙ্গা সৃষ্টির জন্য একইসঙ্গে তাদের ভাড়াটে সৈন্য ও গুপ্তচরদের সক্রিয় করছে।'
স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্কও রবিবার জানিয়েছে যে, 'জনমত বিঘ্নিত করার চেষ্টা (...) এবং শোকের প্রতীক পোড়ানোর' অভিযোগে পশ্চিমাঞ্চলীয় লোরেস্তান প্রদেশে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক কৌশল সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র চলতি সপ্তাহে রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইসরায়েল এখন মাঠপর্যায়ের তথ্যদাতাদের দেওয়া গোপন খবরের ভিত্তিতে নিরাপত্তা চৌকিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে শুরু করেছে, যা ইরানে তাদের হামলার একটি নতুন ধাপকে নির্দেশ করছে।
জানুয়ারি মাসে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমান যুদ্ধ শুরু করার কয়েক সপ্তাহ আগে, ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ধরপাকড়ের মাধ্যমে সেই বিক্ষোভ দমন করা হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ এই বিক্ষোভকে 'সহিংস দাঙ্গা' হিসেবে আখ্যায়িত করে এর মদত দেওয়ার জন্য ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা।
