ইরানকে ড্রোন কৌশল নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিচ্ছে রাশিয়া, বলছে পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্র
ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন ব্যবহারের অত্যাধুনিক কৌশল রপ্ত করেছে রাশিয়া, আর এখন সেই কৌশল দিয়েই তারা ইরানকে সাহায্য করছে, এমনটাই জানিয়েছেন একজন পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তা। উদ্দেশ্য একটাই, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে যেন ইরান আরও নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে।
ইরানের নকশায় তৈরি 'শাহেদ' ড্রোনগুলো রাশিয়ায় ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হয়, যা ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ড্রোনগুলোই এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে অপ্রত্যাশিতভাবে সফল হচ্ছে।
আগে ধারণা করা হতো, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে কেবল সাধারণ লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান হয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, রাশিয়া সুনির্দিষ্ট কৌশলগত পরামর্শও দিচ্ছে, যা তাদের পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতার এক নতুন ধাপ।
সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে কথা বলার শর্তে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, 'আগে যা ছিল কেবল সাধারণ সমর্থন, তা এখন রীতিমতো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেনে রাশিয়া ড্রোন দিয়ে যেভাবে টার্গেট ঠিক করত, সেই কৌশলগুলোও তারা ইরানকে শেখাচ্ছে।'
ঠিক কী ধরনের কৌশল শেখানো হচ্ছে, তার বিস্তারিত বিবরণ তিনি দেননি। তবে এটা জানা গেছে যে, রাশিয়া ইউক্রেনে 'ঢেউ'য়ের মতো দলে শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে। এই কৌশলে একাধিক ড্রোন একসাথে ওড়ে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে নিয়মিত দিক পরিবর্তন করে।
বুধবার এক্সে (সাবেক টুইটার) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও একই দাবি করেছেন। তিনি বলেন, 'রাশিয়া এখন ড্রোন দিয়ে ইরানি শাসনকে সমর্থন করা শুরু করেছে। এটি নিশ্চিতভাবেই তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষায়ও সহায়তা করবে।'
এদিকে ইউক্রেনও ইতিমধ্যে তাদের ড্রোন প্রতিহতকারী বিশেষজ্ঞদের উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠিয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, তুলনামূলক সস্তা শাহেদ ড্রোন (যার দাম প্রায় ৩০ হাজার ডলার) কীভাবে আটকাতে হয়, সেই দক্ষতা উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। ইউক্রেন নিজে খুব ছোট আকারের 'ইন্টারসেপ্টর' বা প্রতিরোধক তৈরি করেছে, যার প্রতিটির দাম মাত্র ৫ হাজার ডলার এবং এগুলো খুব দ্রুত বিপুল সংখ্যায় তৈরি করা সম্ভব।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বৃহত্তর হুমকির বিষয়ে ওই পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেন, 'হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন ব্যবহারের পাশাপাশি মার্কিন রণতরীর ওপর সমুদ্র-ড্রোন এবং 'ধো' (Dhow) নামের মাছ ধরার নৌকা ব্যবহার করে কম প্রযুক্তির বা লো-টেক আক্রমণ নিয়ে আমরা সত্যিই উদ্বিগ্ন।'
যুদ্ধের শুরুতে ইরান দাবি করেছিল যে তারা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন'-এ আঘাত হেনেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তা সঙ্গে সঙ্গেই অস্বীকার করে। ওই সময় ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্সে জানিয়েছিল, 'লিংকনে কোনো আঘাত লাগেনি। নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এর ধারেকাছেও আসতে পারেনি।'
পশ্চিমা এই কর্মকর্তা আলোচনার শেষে জানান, ইরানের প্রতি চীনের সমর্থনও 'উদ্বেগজনক'। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আর কিছু জানাতে রাজি হননি।
