প্রথমবারের মতো ইরানি সস্তা ‘শাহেদ’ ড্রোনের আদলে তৈরি ড্রোন দিয়েই ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলা
শনিবার ইরানের ওপর হামলায় যুক্তরাষ্ট্র এমন এক ধরনের ড্রোন ব্যবহার করেছে, যা দেখতে প্রায় ইরানি 'শাহেদ' ড্রোনের মতো। 'লো-কস্ট আনম্যানড কমব্যাট অ্যাটাক সিস্টেম' বা সংক্ষেপে 'লুকাস' নামের এই ড্রোনটি এক ধরনের একমুখী আত্মঘাতী ড্রোন। উল্লেখ্য, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে এই শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করছে এবং বর্তমানে তারা এর নিজস্ব সংস্করণও তৈরি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম তদারককারী সংস্থা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গত ডিসেম্বরে জানিয়েছিল যে, তারা এই অঞ্চলে প্রথমবারের মতো 'লুকাস' ড্রোন ব্যবহারের জন্য একটি নতুন টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে।
শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়ে এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, তাদের 'টাস্ক ফোর্স স্কর্পিয়ন স্ট্রাইক' প্রথমবারের মতো এই সাশ্রয়ী একমুখী আত্মঘাতী ড্রোন যুদ্ধে ব্যবহার করেছে। পরবর্তীতে তারা আরও যোগ করে যে, 'ইরানের শাহেদ ড্রোনের আদলে তৈরি এই কম খরচের ড্রোনগুলো এখন আমেরিকার হয়ে প্রতিশোধ নিচ্ছে।'
'লুকাস' ড্রোনটি মার্কিন প্রকৌশলী সংস্থা 'স্পেকট্রেওয়ার্কস' তৈরি করেছে। এটি ক্যাটাপাল্ট, যানবাহন এবং মোবাইল গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্যমতে, এতে রকেট-সহায়তা নিয়ে উড্ডয়ন বা টেকঅফ করার ক্ষমতা এবং 'বিশাল' পাল্লা বা রেঞ্জ রয়েছে।
এই ড্রোনটিকে একমুখী আত্মঘাতী ড্রোন বা 'লোইটারিং মিউনিশন' হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, 'লুকাস' দীর্ঘক্ষণ ধরে লক্ষ্যবস্তুর ওপর উড়তে পারে এবং পরবর্তীতে লক্ষ্যবস্তুর ওপর আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। ড্রোনের ডেল্টা-উইং নকশাটি ইরানি শাহেদের মতো হলেও এই ধরনের অস্ত্রের জন্য এই নকশাটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
শাহেদ বা এর রুশ সংস্করণ 'জেরান-২'-এর মতো আত্মঘাতী ড্রোনগুলো ইউক্রেনের শহরগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত যোদ্ধারাও নিয়মিত এসব অস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী, ইসরায়েল এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। পেন্টাগন এখন কম খরচে ড্রোন তৈরির যে উদ্যোগ নিয়েছে, 'লুকাস' তারই অংশ। ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পাল্লা দিতে চালকবিহীন সমরাস্ত্র উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
শনিবার ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি মার্কিন বাহিনী যে একাধিক অস্ত্র দিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছে, 'লুকাস' সেগুলোর মধ্যে অন্যতম।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা 'বিজনেস ইনসাইডার'-কে জানিয়েছেন, যুদ্ধজাহাজ থেকে 'টমাহক' ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং স্থলবাহিনী 'হিমার্স' রকেট সিস্টেম ব্যবহার করেছে। অপারেশনে 'এপিক ফিউরি'-তে আরও কিছু গোপন সমরাস্ত্র ও বিমান শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত প্রধান মার্কিন ঘাঁটিগুলো এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য এমআইএম-১০৪ প্যাট্রিয়ট সিস্টেম, থাড ব্যাটারি এবং জাহাজ থেকে চালিত স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বাহিনী 'ইরানের শত শত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।'
