মার্কিন সামরিক শক্তির সমাবেশ সত্ত্বেও ইরান কেন ‘নতিস্বীকার’ করছে না, জানতে চান ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানতে চেয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা জোরদার করার পরও কেন ইরান এখনো "আত্মসমর্পণ" করেনি বা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি হয়নি। একথা জানিয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
শনিবার ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে উইটকফ বলেন, "আমি 'হতাশ' শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না, কারণ প্রেসিডেন্টের সামনে অনেক বিকল্প রয়েছে। তবে তিনি কৌতূহলী—কেন তারা এখনো আত্মসমর্পণ বা নতিস্বীকার করেনি।"
ট্রাম্পের পুত্রবধূ লরা ট্রাম্পের উপস্থাপনায় 'মাই ভিউ উইথ লরা ট্রাম্প' শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি আরও বলেন, "এত চাপের মধ্যে, সেখানে বিপুল সমুদ্রশক্তি ও নৌবাহিনীর উপস্থিতি থাকার পরও কেন তারা আমাদের কাছে এসে বলেনি—'আমরা ঘোষণা করছি যে আমরা কোনো (পারমাণবিক) অস্ত্র চাই না, বা আমরা এমনটা করতে চাই'। অথচ তাদের সেই অবস্থানে আনা বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে।"
ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সামরিক শক্তি সমাবেশের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইরানের ওপর সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ওপর হামলা হলে তারা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে।
পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান যে মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে— তা বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। উইটকফের ভাষ্য, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বোমা তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি।
তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে কিছু সীমাবদ্ধতা মানতে তারা প্রস্তুত, কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের মতো বিষয়কে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করতে রাজি নয়।
উইটকফ বলেন, "তারা বেসামরিক পারমাণবিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়েও অনেক বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। এটি ৬০ শতাংশ (ফিসাইল বিশুদ্ধতা) পর্যন্ত পৌঁছেছে। তারা সম্ভবত শিল্প পর্যায়ের বোমা তৈরির উপযোগী উপাদান পেতে এক সপ্তাহ দূরে রয়েছে—এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।"
রোববার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ইস্যুতে আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে।
উইটকফ আরও জানান, ট্রাম্পের নির্দেশে তিনি ইরানের বিরোধী নেতা রেজা পাহলভির সঙ্গে কথা বলেছেন। পাহলভি হলেন ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামী বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র। তবে এই বৈঠক নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
নির্বাসিত জীবনে থাকা পাহলভি গত মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইরানের একটি অংশের কাছে প্রতীকী নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন। ওই বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়, যা ইরানের ইসলামী বিপ্লব-পরবর্তী সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে পাহলভি বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ বিক্ষোভকারীদের প্রাণ বাঁচাবে। একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনকে তেহরানের ইসলামী শাসকদের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে দীর্ঘসময় ধরে আলোচনায় না জড়ানোর আহ্বান জানান।
