উত্তরপূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ: ব্রহ্মপুত্র নদীর তলদেশ দিয়ে রেল-সড়ক টানেল অনুমোদন ভারতের
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা গোহপুর থেকে নুমালিগড় পর্যন্ত ৪ লেনের অ্যাক্সেস-কন্ট্রোলড গ্রিনফিল্ড করিডর নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। এর আওতায় থাকবে ব্রহ্মপুত্র নদীর নিচ দিয়ে ১৫.৭৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক-রেল আন্ডারওয়াটার টানেল। ভারতের সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মোট মূলধনী ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৬৬২ কোটি রুপি।
প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩৩.৭ কিলোমিটার। এটি ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি হবে ভারতের প্রথম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় আন্ডারওয়াটার রোড-কাম-রেল টানেল। এর মাধ্যমে ভারতের অন্য অংশের সঙ্গে আসাম ও বৃহত্তর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগব্যবস্থা আরও দৃঢ় হবে।
দূরত্ব ও সময় সাশ্রয়
বর্তমানে নুমালীগড় থেকে গোহপুর যেতে কালিভোমরা সেতু হয়ে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়; যেখানে সময় লাগে প্রায় ছয় ঘণ্টা। এ পথে আসামের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান ও বিশ্বনাথ টাউনের মতো অঞ্চল অতিক্রম করতে হয়।
নতুন গ্রিনফিল্ড করিডর ও টানেল চালু হলে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে দাবি করছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। পাশাপাশি এতে লজিস্টিকস ব্যয় কমবে এবং আসাম, অরুণাচল, নাগাল্যান্ডসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যে পণ্য পরিবহনের দক্ষতা বাড়বে।
মাল্টিমোডাল সংযোগ
এই করিডরটি ভারতের দুটি জাতীয় মহাসড়ক—এনএইচ-১৫ ও এনএইচ-৭১৫—এর সঙ্গে সংযুক্ত হবে। পাশাপাশি দুইটি রেল সেকশনের সঙ্গেও এর সমন্বয় ঘটবে।
এতে চারটি বড় রেলওয়ে স্টেশন, দুইটি বিমানবন্দর এবং দুইটি অভ্যন্তরীণ নৌ-টার্মিনাল দিয়ে যাতায়াত সহজ হবে, ফলে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে গতি আসবে।
কৌশলগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব
বিজেপি সরকার বলছে, প্রকল্পটি কৌশলগত সংযোগ জোরদার, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৮০ লাখ ব্যক্তি-দিবসের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আশপাশের অঞ্চলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।
টানেল অংশে থাকবে—
- টানেল বোরিং মেশিন দিয়ে নির্মিত টুইন টিউব টানেল, যার একটি টিউবে রেল সংযোগের ব্যবস্থা থাকবে (১৫.৭৯ কিমি),
- ১.২৬ কিমি রোড কাট-অ্যান্ড-কভার সেকশন,
- ৪ কিমি রেল কাট-অ্যান্ড-কভার সেকশন।
প্রকল্পটি নুমালিগড়, তেজপুর, গোহপুর, ডিব্রুগড় ও ইটানগরের মতো প্রধান নগরকেন্দ্রের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল, সামাজিক জেলা ও পর্যটনকেন্দ্র—বিশেষত কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করবে।
