সম্ভাব্য যান্ত্রিক ত্রুটির অভিযোগে বন্ধ রাখা এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-এ কোনো ত্রুটি পায়নি ডিজিসিএ
ভারতীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচে সম্ভাব্য যান্ত্রিক ত্রুটির অভিযোগ ওঠার পর ফ্লাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ডিজিসিএ) জানিয়েছে, পরীক্ষা শেষে তারা সুইচে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি পায়নি।
সোমবার লন্ডন হিথ্রো থেকে বেঙ্গালুরুগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট AI132-এর পাইলটরা উড্ডয়নের সময় সমস্যার কথা জানান। রোববার লন্ডন থেকে বেঙ্গালুরুতে অবতরণের পর পাইলটরা জানান, ইঞ্জিন চালু করার সময় দুবার জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচটি 'রান' অবস্থায় স্থির থাকেনি। হালকা চাপ দিলেই সুইচটি সরে যাচ্ছিল।
তৃতীয়বার চেষ্টায় সুইচটি ঠিকভাবে কাজ করে এবং ফ্লাইটটি কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়। বিষয়টি জানার পর এয়ার ইন্ডিয়া সংশ্লিষ্ট বিমানটি সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড করে এবং বিমান প্রস্তুতকারক বোয়িংকে জানায়।
এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র জানান, পাইলটদের রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই বিমানটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে। বোয়িংও জানিয়েছে, তারা এয়ার ইন্ডিয়াকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে।
তবে মঙ্গলবার ডিজিসিএ এক বিবৃতিতে জানায়, বোয়িংয়ের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী পরীক্ষা করে তারা কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি খুঁজে পায়নি। সংস্থাটি জানায়, সঠিকভাবে পরিচালনা করলে সুইচটি 'রান' অবস্থায় স্থির থাকে। তবে ভুলভাবে ব্যবহার করলে এটি সহজেই 'রান' থেকে 'কাট-অফ' পজিশনে চলে যেতে পারে, যা ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে।
ডিজিসিএ আরও জানায়, তাদের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই বিমান এবং একই মডেলের আরেকটি বিমানে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়াকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন বোয়িংয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রুদের সুইচ ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি জানিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে গত জুনে একই মডেলের একটি এয়ার ইন্ডিয়া বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৬০ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। লন্ডনগামী ওই ফ্লাইটটি ভারতের আহমেদাবাদ থেকে উড্ডয়নের এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনাটির তদন্ত করছে ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। গত জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নের পরপরই ফুয়েল সুইচ 'রান' থেকে 'কাট-অফ' পজিশনে চলে যাওয়ায় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে সেটি কীভাবে ঘটেছিল, তা তখন নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের এভিয়েশন রেগুলেটর জানায়, বোয়িং বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচগুলো নিরাপদ। ওই দুর্ঘটনার পর ডিজিসিএ দেশে চলাচলকারী সব বোয়িং ৭৮৭ ও বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজের ককপিট সুইচ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়।
এয়ার ইন্ডিয়া তখন জানায়, তাদের পরীক্ষায় সুইচের লকিং সিস্টেমে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। গত সোমবারও সংস্থাটি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, 'ডিজিসিএর নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের বহরের সব বোয়িং ৭৮৭ বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ পরীক্ষা করা হয়েছে এবং কোনো ত্রুটি মেলেনি।'
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার জানায়, পাইলটের সাম্প্রতিক রিপোর্টের পর আবারও এয়ার ইন্ডিয়া তাদের ড্রিমলাইনারগুলোর ফুয়েল সুইচ নতুন করে পরীক্ষা শুরু করেছে।
এদিকে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী টিম অ্যাটকিনসন বলেন, তিনি বোয়িংয়ের এই সুইচের ডিজাইনের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন। তার মতে, 'এই সুইচগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ভুলবশত এটি তার অবস্থান থেকে নড়ে না যায়। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে এর ডিজাইন বেশ উন্নত। এর ভেতরে কোনো গোপন ত্রুটি পাওয়া গেলে আমি অবাকই হব।'
