Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

These ancient fish swam with the dinosaurs. They may not survive us. এখনও টিকে আছে ডাইনোসর আমলের প্রাচীন এই মাছ, কিন্তু আমাদের হাত থেকে কি বাঁচতে পারবে?

১৬২ মিলিয়ন বছর ধরে অজস্র বাধা জয় করে টিকে গেছে এই মাছ। কিন্তু এখন এদের বাঁচানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞানীদের জন্য।
These ancient fish swam with the dinosaurs. They may not survive us. এখনও টিকে আছে ডাইনোসর আমলের প্রাচীন এই মাছ, কিন্তু আমাদের হাত থেকে কি বাঁচতে পারবে?

আন্তর্জাতিক

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
26 May, 2025, 11:35 am
Last modified: 20 May, 2026, 08:29 am

Related News

  • ঢাকার লেকের মাছে ও পানিতে আশঙ্কাজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক: স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী
  • মাছ কাটা যাদের পেশা
  • কালীগঞ্জে ২৬০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা: জামাই-শ্বশুরের বড় মাছ কেনার ‘মর্যাদার লড়াই’!
  • ধোপাদিঘির মাছ মারা গেল কীভাবে?
  • মেঘনাপাড়ে ‘বিদায় উৎসব’; নৌকায় রঙ-বেরঙের সাজ, ঘরে ফেরার আনন্দে জেলেরা

These ancient fish swam with the dinosaurs. They may not survive us. এখনও টিকে আছে ডাইনোসর আমলের প্রাচীন এই মাছ, কিন্তু আমাদের হাত থেকে কি বাঁচতে পারবে?

১৬২ মিলিয়ন বছর ধরে অজস্র বাধা জয় করে টিকে গেছে এই মাছ। কিন্তু এখন এদের বাঁচানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞানীদের জন্য।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
26 May, 2025, 11:35 am
Last modified: 20 May, 2026, 08:29 am

ডিসেম্বরের শীতল হাওয়া বইছে দক্ষিণ কাজাখস্তানে। নিঃশব্দে প্রবাহিত হচ্ছে বিশালাকৃতির সির দরিয়া নদী। নদীর তীরবর্তী এলাকা যেন ধূসর-বাদামি রঙের এক বিষণ্ন ছবি—মরা ঘাস, কর্দমাক্ত প্লাবনভূমি, পাতাহীন গাছপালা। সৌন্দর্যের দিক থেকেও জায়গাটি বিশেষ কিছু নয়—নদীর তীরে পড়ে আছে প্লাস্টিকের প্যাকেট, ফেলে রাখা বোতল, আর মরিচা পড়া পুরনো একটি গাড়ি। আকাশ ঢেকে গেছে কয়লা ও কাঠের ধোঁয়ার ধূসর চাদরে।

শুনতে হয়তো খুব মনোরম লাগছে না, কিন্তু বার্নি কুহাজদার কাছে এই পরিবেশটাই 'পারফেক্ট স্পট'। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অ্যাকোয়ারিয়াম কনজারভেশন ইনস্টিটিউটের এই জলজ প্রাণী সংরক্ষণবিদ বলে উঠলেন, 'এই পরিবেশটাই তো আমাদের দরকার!'

বার্নি আসলে খুঁজছেন এক বিলুপ্তপ্রায় মাছ—'সির দরিয়া স্টারজন'। একসময় কাজাখস্তানের এই নদীতেই বিচরণ করত এই প্রজাতি, কিন্তু ১৯৬০-এর দশকের পর থেকে আর দেখা মেলে না তাদের।

উত্তর আমেরিকার বৃহত্তম মিঠাপানির মাছ হোয়াইট স্টারজন। লম্বা হয় ১৫ ফুট পর্যন্ত। এই মাছটি আইডাহো-র স্নেক নদীর, দৈর্ঘ্যে ৮ ফুট। ছবি: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

সোভিয়েত আমলে নদীজুড়ে একাধিক বাঁধ নির্মাণের ফলে স্টারজনের প্রজননস্থলে পৌঁছানোর পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। এতে বদলে যায় সির দরিয়ার স্বাভাবিক প্রবাহ। নদীটি এখন কিরগিজস্তানের পার্বত্য অঞ্চল থেকে ক্ষীণধারা হয়ে মিশে যাচ্ছে আরাল সাগরের অবশিষ্ট অংশে।

যদি এই মাছের অস্তিত্ব এখনও কোথাও টিকে থাকে, তবে বার্নি কুহাজদার বিশ্বাস—এই কর্দমাক্ত, অগভীর নদীপথেই তার খোঁজ মিলতে পারে।

কয়েক মাস আগে কুহাজদার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা রি:ওয়াইল্ড। সংস্থাটি হারিয়ে যাওয়া প্রজাতি উদ্ধারে বিশেষ কর্মসূচি চালায়—যেসব প্রাণী অন্তত এক দশক ধরে আর দেখা যায়নি, বিলুপ্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

স্টারজন বিপন্ন, অথবা প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্য হিসেবে তালিকাভুক্ত। কাজাখস্তানের সির দরিয়ার স্টারজন ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে; কয়েক দশক ধরে এ নদীতে কেউ মাছটি দেখেনি। তবে বার্নি কুহাজদা (ডানে) এখনও খুঁজে চলেছেন। ছবি: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

রি:ওয়াইল্ড-এর কর্মকর্তারা জানতেন, কুহাজদা সেই অল্পসংখ্যক বিজ্ঞানীর একজন, যিনি এক সময় এই মাছটিকে সরাসরি দেখেছেন। ১৯৯০-এর দশকে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী থাকাকালে তিনি লন্ডন, মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের বিভিন্ন জাদুঘর ঘুরে সির দরিয়া স্টারজনের নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। সেখানকার সংগ্রহে থাকা ২৭টি শুকিয়ে যাওয়া, ফ্যাকাশে সাদা রঙের স্টারজন নমুনার ভিডিও ধারণ করেছিলেন তিনি। বহু বছরের সংরক্ষণে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া এই নমুনার ছবিই এখন তার কাছে একমাত্র প্রমাণ।

সির দরিয়া স্টারজন আকারে ছোট এবং দেখতে ভিন্ন ধরনের। প্রায় ৯ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের এই মাছটি স্টারজন পরিবারের ২৬ প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে ছোট। 

অন্যদিকে, সবচেয়ে বড় প্রজাতি হলো বেলুগা স্টারজন। ১৮২৭ সালে ভলগা নদী থেকে ধরা পড়া এক বেলুগা স্টারজনের দৈর্ঘ্য ছিল ২৩ ফুটের বেশি, আর ওজন ৩ হাজার ২০০ পাউন্ডেরও বেশি।

চারটি গোঁফের (বার্বেল) সাহায্যে জলাশয়ের তলদেশে শিকার খুঁজে বেড়ায় লেক স্টারজন। মূলত ক্ষতিকর ‘জিব্রা ঝিনুক খেয়েই এরা বেঁচে থাকে। ছবি: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

সব স্টারজনেরই লম্বা, সমতল নাক থাকে। নদীর তলদেশে খাবার খুঁজে পেতে তাদের শরীরের নিচের দিকে ঝুলে থাকে সুঁচের মতো 'বার্বেল' নামের সংবেদনশীল অঙ্গ। শরীরজুড়ে পাঁচটি লম্বা, শক্ত, অস্থিসদৃশ পাঁজরের মতো রেখা থাকে, যা তাদের মজবুত রাখে।

এই প্রাচীন মাছটিকে অন্য কোনো মাছের সাথে গুলিয়ে ফেলাও বেশ কঠিন। একটি ক্যাটফিশ, একটি হাঙ্গর, একটি স্টেগোসরাস এবং একটি প্রুনিং স-এর মিলিত রূপ বললে কিছুটা স্টারজনের কল্পনার কাছাকাছি পৌঁছানো যাবে ।

১৬২ মিলিয়ন বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-মহাদেশের স্থানান্তর, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত আর প্রাকৃতিক মহাবিপর্যয়ের ভেতর দিয়ে স্টারজনেরা টিকে আছে। 

বার্নি কুহাজদার ভাষায়, 'ডাইনোসরকে একেবারে বিলুপ্ত করে ফেলা অ্যাস্টেরয়েড থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও মহাকাশের আঘাত পর্যন্ত সবকিছুকে টেক্কা দিয়ে বেঁচে থেকেছে স্টারজন।'

স্টারজনের বংশবৃদ্ধি করা সময়সাপেক্ষ কাজ। নিউইয়র্কের সেন্ট লরেন্স নদীর এই লেক স্টারজনগুলো এক শতাব্দীরও বেশি সময় বাঁচতে পারে। তবে প্রজননক্ষম হতে এদের ১৫ থেকে ৩৩ বছর সময় লেগে যায়। ছবি: ডেভিড ডুবিলেট

কিন্তু মানুষের হাত থেকে রেহাই পায়নি তারা। আজ স্টারজনকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপন্ন মাছের প্রজাতি বলা হয়। 

১৯৭০ সালের পর থেকে বিশ্বজুড়ে স্টারজনের সংখ্যা ৯৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন ২৫টি প্রজাতিকে বিপন্ন বা সঙ্কটাপন্ন তালিকায় রেখেছে। এর মধ্যে ১৭টি প্রজাতি 'সঙ্কটাপন্ন' হিসেবে চিহ্নিত, আর একটি প্রজাতি বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত। সির দরিয়া স্টারজনসহ তিনটি প্রজাতি বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিবেশগত দিক থেকে স্টারজন মাছ এখন চরম সংকটে থাকলেও আর্থিক দিক থেকে এরা বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রাণীর তালিকায় শীর্ষে। মূলত অতিরিক্ত শিকারই এই মাছের সংকটের প্রধান কারণ। 

স্টারজনের মোটা দানার চকচকে কালো ডিম, যাকে আমরা অনেকেই ক্যাভিয়ার নামে চিনি, বিশ্বজুড়ে বিলাসবহুল খাবার হিসেবে পরিচিত। অভিজাত সমাজে খাবারটি বেশ পরিচিত। দামও আকাশছোঁয়া, ক্যাভিয়ারের কিছু টিন বিক্রি হয় আউন্সপ্রতি ৬০০ ডলারের বেশি।

কৃত্রিম প্রজনন কর্মসূচির মাধ্যমে স্টারজনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলা সম্ভব। উত্তর-পশ্চিম নিউইয়র্কের ওনাইডা ফিশ কালচারাল স্টেশনে চার থেকে ছয় ইঞ্চি লম্বা পোনা কৃত্রিম জলাধারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রাকৃতিক জলাশয়ে ছাড়ার আগে বড় চৌবাচ্চায় রেখে চার মাস ধরে এদের বড় করা হবে। ছবি: ডেভিড ডুবিলেট

তবে সির দরিয়ার মতো কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে, যাদের ডিম সংগ্রহের জন্য শিকার করা হয় না, সেখানেও মানবসৃষ্ট সিদ্ধান্ত ও পরিবেশগত পরিবর্তন বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বার্নি কুহাজদা বলেন, 'মাত্র ২০০ বছরের মধ্যে মানুষ স্টারজনের প্রাকৃতিক বাসস্থান ধ্বংস করে ফেলেছে।'

স্টারজন মাছ বিবর্তিত হয়েছে সেই নদীগুলোতে, যেগুলো বাধাহীনভাবে প্রবাহিত হতো। কুহাজদা জানান, 'সব স্টারজনই প্রজননের জন্য দীর্ঘ দূরত্বে অভিবাসন করে।' 

কিন্তু এখন তাদের সেই যাত্রাপথে একের পর এক বাধা। নদীজুড়ে বাঁধ, জলাধার, খননকাজ আর সেচ প্রকল্পের জন্য নেওয়া পানি তাদের প্রজননস্থলে পৌঁছাতে দিচ্ছে না। নদীর তীরে ভেসে আসা লার্ভাগুলো আটকে যাচ্ছে, আর কৃষিক্ষেত্র থেকে আসা দূষিত জলে নদীর স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে।

কুহাজদা আশাবাদী, এখনও কিছু সির দরিয়া স্টারজন হয়তো বেঁচে আছে। এই মাছগুলো যদি পাওয়া যায়, তবে তিনি পরিচিত একটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে চান—পুরুষ ও স্ত্রী মাছ ধরে হ্যাচারিতে রেখে তাদের বংশবিস্তার ঘটিয়ে আবার নদীতে ফিরিয়ে দেওয়া। 

বসন্তকালে যখন মাছেদের ডিম পাড়ার সময় হয়, তখন নদী থেকে বুনো স্টারজন ধরে এই প্রজনন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। উইসকনসিনের উলফ নদী থেকে অত্যন্ত সাবধানে স্ত্রী স্টারজনগুলোকে জল থেকে তোলা হয়, যাতে তাদের দেহ থেকে ডিম সংগ্রহ করা যায়। ছবি: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

যেখানে প্রজননের পথে বাঁধ তৈরি হয়েছে, সেখানে হ্যাচারি ও পরিবহন ব্যবস্থা চালু আছে। আর যেসব এলাকায় অতিরিক্ত মাছ শিকারের সংকট ছিল, সেখানে এখন নিয়ন্ত্রক আইন ও প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এমনকি বিলাসবহুল ক্যাভিয়ার শিল্পও স্টারজনদের বিলুপ্তির হাত থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে সহায়তা করছে।

নদীর পথে রওনা দেওয়ার আগ কুহাজদা রাস্তার পাশে এক মাছ বিক্রেতার দোকানে থেমে সেই মিউজিয়ামের নমুনাগুলোর ছবি দেখিয়েছিলেন। তিনি নিশ্চিত হতে চাইছিলেন, স্থানীয়রা এই মাছ চিনতে পারে কি না। হঠাৎ এক জেলে ছবি দেখে বলেন, কয়েক বছর আগে ঠিক এমন মাছই তিনি পানিতে তুলেছিলেন। এ খবর পেয়ে কুহাজদার উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে গেল।

নদীর দিকে এগিয়ে যেতে কুহাজদা ও সহকর্মী ডেভ নিলি একটি বিশেষভাবে তৈরি জাল নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে আছেন আরাল সাগর থেকে আসা তিনজন কাজাখ মৎস্য কর্মকর্তা। তারা একটি পুরনো সোভিয়েত আমলের ট্রাকে চেপে এই অনুসন্ধানে তদারকি করতে এসেছেন। 

নিষেক প্রক্রিয়া শুরু হয় স্ত্রী স্টারজনের দেহ থেকে ডিম্বাণু বের করার পর (বাঁয়ে) এবং পুরুষ স্টারজনের দেহ থেকে শুক্রাণু সংগ্রহের মাধ্যমে (ডানে)। ছবি: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

তাদের মধ্যে একজন, ত্যনিসবেক বারাকবায়েভ, পুরনো গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে কুহাজদা ও নিলিকে নদীতে নামতে দেখছিলেন। তিনি বলেন, 'আমাদের কাছে একটা ক্ষীণ সুযোগ আছে। তবুও আমরা আশা করতে পারি।'

এপ্রিল মাস। উইসকনসিনের উলফ নদী এখন স্টারজনে ভরপুর। শাওয়ানো বাঁধের কাছে নদীর পাথরঘেরা তীরে মাছগুলো ঘোরাফেরা করছে, তাদের পাখনা মাঝে মাঝে ফেনায় ভরা নদীর পানিতে উঁকি দিচ্ছে। বাঁধটি নদীর একপাশে কাগজকল এবং অন্যপাশে শহর শাওয়ানোর 'স্টারজন পার্ক। ১৮৯২ সালে বাঁধ নির্মাণের পর থেকে এটিই স্টারজনের যাত্রার শেষ সীমা।

প্রতিবছর বসন্তে এই প্রাকৃতিক উৎসব দেখতে নদীর তীরে জনসমাগম ঘটে। হাজার হাজার স্টারজন ১২৫ মাইল দূরের লেক উইনেবাগো থেকে এখানে ডিম ছাড়তে আসে। এই মাছগুলো লেক উইনেবাগো অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার পূর্ণবয়স্ক স্টারজনের একটি ক্ষুদ্র অংশ। গোটা বিশ্বে লেক স্টারজনের অন্যতম সুস্থ ও সমৃদ্ধ জনসংখ্যা এখন উইসকনসিনেই রয়েছে।

শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সংগ্রহের পর আলতোভাবে উপাদান দুটি মেশানো হয়—এ কাজে টার্কি পাখির পালক দারুণ উপকারী (বাঁয়ে)। কয়েক মাস পরে পোনা মাছগুলোকে আবার নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয় (ডানে)। ছবি: ডেভিড ডুবিলেট

এদের নিয়ে এক ধরনের 'পুনর্জাগরণের গল্প' আছে। এক সময় উত্তর আমেরিকার নদীতে স্টারজনের এত প্রাচুর্য ছিল যে স্থানীয় আদিবাসীরা বলতেন, মাছের পিঠে পা রেখে নদী পার হওয়া যেত। লেক স্টারজন—যারা শাওয়ানো বাঁধের নিচে ডিম পাড়ছে এবং গড় দৈর্ঘ্য সাত ফুটের কাছাকাছি—একসময় গ্রেট লেকস ও হাডসন বে থেকে মিসিসিপি নদীর জলাধার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তবে ১৯৭০-এর দশকে তারা তাদের অনেক দেশীয় নদী থেকে প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।

উইসকনসিনে স্টারজনের সংখ্যা অনেক আগেই ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে দূরদর্শী ব্যবস্থাপনার কারণে বড় কোনো বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। ১৯১৫ সালে রাজ্যজুড়ে লেক স্টারজন মাছ ধরা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে ধীরে ধীরে মাছ ধরার সংখ্যা ও আকারের সীমা নির্ধারণের নিয়ম চালু হয়, যা এখনও বলবৎ রয়েছে।

এই নিয়মকানুন নির্ধারণের কাজ সামলান 'স্টারজন জেনারেল' হিসেবে পরিচিত মার্গারেট স্টাডিগ। এ ধরনের উপাধি সাধারণত সকল স্টারজন নিয়ন্ত্রকদের জন্য ব্যবহৃত হয়। স্টাডিগ উইসকনসিন ডিপার্টমেন্ট অফ ন্যাচারাল রিসোর্সেসের একজন ফিশারিজ বায়োলজিস্ট, যিনি লেক উইনেবাগোর স্টারজনের স্বাস্থ্য নজরদারি করেন। 

স্টারজনের নুন মাখানো অনিষিক্ত ডিমই হলো বিশ্ববিখ্যাত ‘ক্যাভিয়ার’। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স ক্যাভিয়ারের দাম ৬০০ ডলারেরও বেশি হতে পারে। ছবি: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

তিনি ফেডারেল সরকারের সঙ্গে মিলে একটি প্রজনন কর্মসূচিতেও কাজ করেন, যা লেক স্টারজনের প্রাচীন বিস্তার পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

এবারই তিনি প্রথমবারের মতো ডিম পাড়ার মৌসুম দেখছেন (তার পূর্বসূরী ক্যাভিয়ার চুরির মিসডিমিনার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন)। 

উলফ নদীর ধারে দাঁড়িয়ে স্টারজনদের ডিম পাড়ার প্রস্তুতি দেখতে দেখতে স্টাডিগ একটি মা মাছের দিকে ইঙ্গিত করলেন, যা পাথরের ওপর ধীরে ধীরে এগোচ্ছে এবং ডিমে ফুলে উঠেছে। 

স্টাডিগ বলে ওঠেন, 'এটা দেখতে গুডইয়ার ব্লিম্পের মতো'। 

তিনি জানান, পুরুষ মাছগুলো তুলনামূলকভাবে সরু ও চটপটে—'অধিকাংশ সময় টরপেডোর মতো।' এরা অনেক বেশি সক্রিয়ও, মাঝে মাঝে পানির বাইরে লাফিয়ে ওঠে এবং তাদের শরীর গিটারের তারের মতো কাঁপে। 

যখন একটি মা স্টারজন ডিম পাড়ার জন্য প্রস্তুত হয়, তখন পুরুষ মাছের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে। তারা নিজেদের লেজ দিয়ে এত জোরে তার পেটে আঘাত করতে থাকে যে নদীর তীরে দাঁড়ানো দর্শকরাও পাথরগুলো কাঁপতে অনুভব করতে পারেন। এভাবে তারা হাজার হাজার ডিম একসঙ্গে ছেড়ে দেয়। ডিম ও মিল্ট—মাছের শুক্রাণু—মিশে নদীর তলদেশের পাথর বা কঙ্করে জমা হয়। এক সপ্তাহ পর সেখান থেকে লার্ভা বেরিয়ে আসে এবং বসন্তের বৃষ্টির স্রোতে নদীর নিচের দিকে ভেসে যায়।

স্টাডিগ বলেন, 'ডিম পাড়ার সময় তারা কাঁপে।' স্থানীয়রা একে 'স্টারজন থান্ডার' বা 'স্টারজনের গর্জন' নামে ডাকে।

মৎস্যচাষের আধুনিকীকরণের ফলে ক্যাভিয়ার শিল্প এখন স্টারজন সংরক্ষণের কাজেও অবদান রাখছে। ইতালির মিলানের কাছে অবস্থিত এই কৃত্রিম মৎস্য খামারের মতো বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা নানা প্রকল্পেই এখন পৃথিবীর সিংহভাগ ক্যাভিয়ার তৈরি হচ্ছে। এখানে মূলত ‘অ্যালবিনো স্টারলেট’ প্রজাতির স্টারজন চাষ করা হয়। ছবি: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

স্টারজনের এই গর্জন শুরুর সঙ্গেই স্টাডিগের দলও কাজে নেমে পড়ে। তারা মাছগুলো জালে ধরে, তক্তার ওপর রেখে গুনতে শুরু করে। দলের একজন মাছের মাথা ধরে থাকে, আরেকজন লেজ ধরে, আরেকজন খুঁজে দেখে মাছের টেলিমেট্রিক ট্যাগ আছে কি না—যা জানায় মাছটি আগে ধরা পড়েছে কিনা। এই ট্যাগ করা ও ট্যাগবিহীন মাছের সংখ্যা দিয়ে স্টাডিগ একটি অ্যালগরিদম চালান, যা আগামী বছরের মাছ ধরার সীমা নির্ধারণে সহায়ক হবে। এই কোটা ব্যবস্থার ফলে উলফ নদীর স্টারজনের সংখ্যা এখন নিজেদের টিকিয়ে রাখার মতো সুস্থ।

ফেডারেল কর্মকর্তারাও এই সাফল্যকে সামনে রেখে উলফ নদীর স্টারজন থেকে প্রজনন করে অন্যান্য রাজ্যের নদীগুলোতেও মাছের পূর্ণতা আনার পরিকল্পনা করছেন।

প্রতিটি মাছের মাপ, লিঙ্গ নির্ধারণ এবং ট্যাগ করার পর, এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের একদল কর্মীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা মা ও পুরুষ স্টারজন থেকে ডিম ও শুক্রাণু সংগ্রহ করেন এবং টার্কির পালক দিয়ে এগুলো মেশায়। পালক নরম হওয়ায় ডিমের ক্ষতি হয় না। 

এরপর নিষিক্ত ডিমগুলো জর্জিয়ার ওয়ার্ম স্প্রিংস ন্যাশনাল ফিশ হ্যাচারিতে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় এক মাস পর, টেনেসি অ্যাকুয়ারিয়ামের মতো বড় বড় পালনকেন্দ্রে এগুলো স্থানান্তরিত করা হয়। কুহাজদা সেখানেই কাজ করেন। 

এসব ট্যাঙ্কে মাছগুলোকে ব্রাইন শ্রিম্প এবং ব্লাডওয়ার্ম খাওয়ানো হয়। মাছগুলো ছয় ইঞ্চি লম্বা হলে সেগুলো নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। অতীতে এই নদীগুলোতে অতিরিক্ত মাছ ধরা, খনন, দূষণ ও বাঁধের কারণে স্টারজন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।

২০০০ সাল থেকে এই অ্যাকুয়ারিয়াম ও তাদের অংশীদাররা টেনেসি ও কাম্বারল্যান্ড নদীতে নতুন করে তিন লাখেরও বেশি লেক স্টারজন ছেড়েছে। আশা করা হচ্ছে, বাঁধগুলোর মাঝের অংশগুলোতে তারা টিকে থাকবে। প্রথম মা মাছগুলো এখন সবে প্রজননক্ষম বয়সে পৌঁছাচ্ছে—লেক স্টারজনের ক্ষেত্রে প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় লাগে। তবে কুহাজদা ও তার দল এখনও প্রমাণ পাননি যে এই নতুন ছাড়া মাছগুলো সফলভাবে ডিম পাড়তে পারছে, কিংবা লার্ভাগুলো নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ও স্থবির জলাধার পেরিয়ে পূর্ণবয়স্ক মাছ হিসেবে বড় হতে পেরেছে কি না।

তবে জর্জিয়ার কুজা নদীর অবাধ প্রবাহিত অংশে পুনরায় ছাড়া লেক স্টারজনের মধ্যে প্রজনন ঘটেছে এবং গবেষকরা আশাবাদী। কুহাজদা বলেন, 'স্টারজন পুনর্জন্মের কর্মসূচিকে আমরা সাধারণত একটি শতাব্দীকালীন বিনিয়োগ হিসেবেই দেখি, কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ।'

স্ট্যাডিগের দলের কাজ শেষ হওয়ার আগে তারা ৭৩টি স্টারজন মাছ গণনা করে মেনোমিনী উপজাতিকে পৌঁছে দেয়, যাদের আবাস এই শাওয়ানো বাঁধের ওপরে। হাজার হাজার বছর ধরে মেনোমিনী জনগণ প্রতি বসন্তে উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠানের জন্য একত্রিত হন। 

উপজাতির ঐতিহাসিক সংরক্ষণ কর্মকর্তা ডেভিড গ্রিগনন বলেন, 'আমরা দীর্ঘ শীতের মাসের পর স্টারজনের আগমনের অপেক্ষায় থাকতাম।'

তবে প্রায় ১৩০ বছর আগে বাঁধ নির্মাণের কারণে স্টারজনের যাত্রাপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং এই আচার-অনুষ্ঠানও থমকে যায়। এক শতাব্দী পর রাজ্যের পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার কারণে উইসকনসিনের কর্তৃপক্ষ উপজাতির সঙ্গে মিলে স্টারজন মাছগুলো বাঁধ পেরিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করে।

'প্রতিবছর তারা বড় ট্রাক ও ট্যাংকে মাছগুলো বহন করে আনেন,' বলেন গ্রিগনন—এবং এর ফলে মেনোমিনীদের জীবনে আবারও সেই আচার-অনুষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। মাঝেমধ্যে তাদের নৃত্যশিল্পীরা নদীতে স্টারজন মাছের চলাচলের অনুকরণও করেন!

মেনোমিনীর কর্তৃপক্ষ এখন একটি বাঁধে মাছ চলাচলের পথ তৈরি করার কাজও চালাচ্ছে, যাতে স্টারজনের প্রাকৃতিক যাত্রাপথ তাদের রিজার্ভেশনে ফিরে আসে। তবে আপাতত স্টারজনের দায়িত্বে থাকা 'স্টারজন জেনারেল'রাই মাছগুলোকে মানুষের বাধা পেরিয়ে ট্রাকে নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।


  • অনুবাদ: আয়েশা হুমায়রা ওয়ারেসা

Related Topics

প্রাচীন মাছ / মাছ

MOST VIEWED

  • ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
    দেশে আনঅফিশিয়াল সাবস্ক্রিপশন বাজারের রমরমা ব্যবসা—কিন্তু কেন?
  • ছবি: টিবিএস
    ‘ওড়না বেঁধে ধর্ষণ, আলামত গোপনের জন্য মাথা কাটি’: আদালতে রামিসার ঘাতক সোহেলের জবানবন্দি
  • ছবি: সংগৃহীত
    বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
    ‘বাংলাদেশে কাকে খুন করিয়েছিলেন’ মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা
  • ১ ঘণ্টা কলম বিরতি পালনের নির্দেশনা নেই, সেবা না দিলে ব্যবস্থা: ইসলামী ব্যাংকের এমডি
    ১ ঘণ্টা কলম বিরতি পালনের নির্দেশনা নেই, সেবা না দিলে ব্যবস্থা: ইসলামী ব্যাংকের এমডি
  • ছবি: রয়টার্স
    ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ইথিলিন সংকট, জাপানে খাবার টেবিল থেকে ‘হারিয়ে যেতে পারে’ কলা

Related News

  • ঢাকার লেকের মাছে ও পানিতে আশঙ্কাজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক: স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী
  • মাছ কাটা যাদের পেশা
  • কালীগঞ্জে ২৬০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা: জামাই-শ্বশুরের বড় মাছ কেনার ‘মর্যাদার লড়াই’!
  • ধোপাদিঘির মাছ মারা গেল কীভাবে?
  • মেঘনাপাড়ে ‘বিদায় উৎসব’; নৌকায় রঙ-বেরঙের সাজ, ঘরে ফেরার আনন্দে জেলেরা

Most Read

1
ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
বাংলাদেশ

দেশে আনঅফিশিয়াল সাবস্ক্রিপশন বাজারের রমরমা ব্যবসা—কিন্তু কেন?

2
ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

‘ওড়না বেঁধে ধর্ষণ, আলামত গোপনের জন্য মাথা কাটি’: আদালতে রামিসার ঘাতক সোহেলের জবানবন্দি

3
ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান

4
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

‘বাংলাদেশে কাকে খুন করিয়েছিলেন’ মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা

5
১ ঘণ্টা কলম বিরতি পালনের নির্দেশনা নেই, সেবা না দিলে ব্যবস্থা: ইসলামী ব্যাংকের এমডি
বাংলাদেশ

১ ঘণ্টা কলম বিরতি পালনের নির্দেশনা নেই, সেবা না দিলে ব্যবস্থা: ইসলামী ব্যাংকের এমডি

6
ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ইথিলিন সংকট, জাপানে খাবার টেবিল থেকে ‘হারিয়ে যেতে পারে’ কলা

The Business Standard
Top

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - [email protected]

For advertisement- [email protected]

Copyright © 2022 THE BUSINESS STANDARD All rights reserved. Technical Partner: RSI Lab