ট্রাম্পের সম্ভাব্য ‘প্রতিশোধ’থেকে বাঁচাতে ফাওচি ও মেলিকে ক্ষমা করলেন বাইডেন
ক্ষমতা ছাড়ার শেষ মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আজ সোমবার ড. অ্যান্থনি ফওচি, অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মার্ক মেলি ও ক্যাপিটলে দাঙ্গার ঘটনার তদন্তকারী হাউস কমিটির সদস্যদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের 'প্রতিশোধ'র আশঙ্কায় দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বিশেষ ক্ষমতাবলে তাদের ক্ষমা করেন তিনি।
ট্রাম্প তার শত্রুদের একটি তালিকার বিষয়ে সতর্ক করার পর বাইডেনের পক্ষ থেকে ক্ষমার ঘোষণা এল।
ট্রাম্পের ওই তালিকায় রাজনৈতিকভাবে তার বিরোধিতাকারী, ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল উল্টে দেওয়ার প্রচেষ্টা ও ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে দাঙ্গার ঘটনার জন্য যারা তাকে জবাবদিহি করাতে চেয়েছিলেন, তারা রয়েছেন।
ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভায় তাদেরই নিয়োগ দিয়েছেন, যারা তার বিরুদ্ধে এসব তদন্তের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেন, 'এসব ক্ষমাকে কোনো ব্যক্তির দোষের স্বীকারোক্তি হিসেবে ভুল বোঝা উচিত নয়, কিংবা ক্ষমা গ্রহণ করাকেও কোনো ব্যক্তি অপরাধের জন্য দোষী হিসেবে ভুল বোঝা উচিত নয়। আমাদের দেশ এসব সরকারি কর্মচারীদের দেশপ্রেম ও অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।'
বাইডেনের এ ক্ষমা করা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে হোয়াইট হাউসে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। মেয়াদের শেষ মুহূর্তে কাউকে ক্ষমা করাটা প্রেসিডেন্টের জন্য স্বাভাবিক। কিন্তু এসব ক্ষমা সাধারণত তাদেরই করা হয়, যারা কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
আজ স্থানীয় সময় দুপুরে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ট্রাম্প। তিনি ক্যাপিটলে দাঙ্গার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ দাঙ্গার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১৪০ জন সদস্য আহত হয়েছিলেন।
ফাওচি প্রায় ৪০ বছর ধরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস-এর পরিচালক ছিলেন। তিনি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও ওই পদে দায়িত্বে ছিলেন।
২০২২ সালে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত ফাওচি বাইডেনের প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি করোনা মহামারির সময় দেশের মানুষের প্রতিক্রিয়া সমন্বয় করতে ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি ট্রাম্পের অপরীক্ষিত স্বাস্থ্য বিষয়ক ধারণাগুলোর বিরোধিতা করেছিলেন, যে কারণে তার ওপর বিরক্ত ছিলেন ট্রাম্প।
তারপর থেকে অনেকের কাছেই ঘৃণার পাত্র হয়ে ওঠেন ফাওচি। যদিও মহামারিতে সে সময় অনেক মানুষ মারা যাচ্ছিল, তারপরও তারা ফাওচিকে মাস্ক ব্যবহারের নিয়ম ও অন্যান্য নীতির জন্য দায়ী করেন, যেগুলো তাদের মতে তাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।
মেলি যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট বলে অভিহিত করেছিলেন এবং ৬ জানুয়ারির প্রাণঘাতী হামলার সময় ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। বাইডেনের কাছ থেকে ক্ষমা পাওয়ার পর তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
৬ জানুয়ারির হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির সদস্য ও স্টাফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ও ডিসি মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তাদেরও ক্ষমা করে দিয়েছেন, যারা ক্যাপিটলে দাঙ্গার ঘটনায় ট্রাম্পের সমর্থকদের বিরুদ্ধে হাউস কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
বাইডেন গত শুক্রবার অ-হিংসাত্মক মাদক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজা ভোগ করছেন এমন প্রায় আড়াই হাজার জনের সাজা মওকুফ করেন। এছাড়াও গত মাসে প্রায় দেড় হাজার জনের সাজা মওকুফ ও ৩৯ জনকে ক্ষমা করেন বাইডেন।
ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে বন্দুক এবং কর বিষয়ক মামলা ছিল। এসব মামলায় তিনি দোষীও প্রমাণিত হয়েছিলেন। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা প্রয়োগ করে গত ডিসেম্বরে তাকেও ক্ষমা করেন জো বাইডেন।
অনুবাদ: রেদওয়ানুল হক
