পাকিস্তানের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার মীর সুলতান খান, মৃত্যুর পর পেলেন সম্মানসূচক খেতাব
কিংবদন্তি দাবা খেলোয়াড় মীর সুলতান খানকে ফিদে সভাপতি আরকাদি ডভোরকোভিচ সম্মানসূচক গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাবে ভূষিত করেছেন। তিনি তাঁর প্রজন্মের সেরা এশীয় দাবা খেলোয়াড় হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন।
সুলতান খান এখন পাকিস্তানের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার। ফিদের তথ্য মতে, তিনি অবিভক্ত ভারতের হয়ে খেললেও দেশ ভাগের পর পাকিস্তানে থাকতেন।
সুলতান খানের জন্ম ১৯০৩ সালে। তিনি মিঠা টিওয়ানার (বর্তমানে উত্তরপূর্ব পাকিস্তান) একজন দাবা খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি ১৯২৯, ১৯৩১ এবং ১৯৩২ সালে ব্রিটিশ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন। এছাড়া তিনি দাবা অলিম্পিয়াডে ইংল্যান্ডের হয়ে তিনবার অংশগ্রহণ করেছিলেন।
তিনি সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হোসে রাউল কাপাব্লাঙ্কাকে পরাজিত করার পাশাপাশি ফ্রাঙ্ক মার্শাল এবং স্যাভিলি টারটাকাওয়ারের মতো বিখ্যাত খেলোয়াড়দেরকেও হারিয়েছিলেন। সুলতান খান প্রাক্তন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আলেকজান্ডার আলেখিন এবং ম্যাক্স ইউওয়ের সাথে ড্র করেছিলেন।
তিনি তাঁর বাবার কাছ থেকে দাবা খেলা শিখেছিলেন। বাবার কাছ থেকে তিনি ঐতিহ্যগত ভারতীয় নিয়মগুলো শিখেছিলেন যা আধুনিক খেলার নিয়ম থেকে কিছুটা আলাদা ছিল। তিনি ইংরেজি কম বুঝতেন বলে বই পড়ে খেলা সম্পর্কে জ্ঞান নেওয়া তাঁর জন্য আরো কঠিন ছিল।
তিনি ১৯৬৬ সালে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
তিনি সেই সময়ে পাঞ্জাবের অন্যতম বড় জমিদার মেজর জেনারেল নবাব স্যার উমর হায়াত খানের সহকারী ছিলেন। তিনি দাবা বোর্ডে সুলতান খানের প্রতিভা লক্ষ্য করে তাঁর যত্ন নেওয়া শুরু করেছিলেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফিদে জানিয়েছে, "পাঞ্জাবি দাবা খেলোয়াড় এবং পাকিস্তানের নাগরিক সুলতান খানকে এশিয়ায় তাঁর সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবা মাস্টার মনে করা হয়। আন্তর্জাতিক দাবা ক্যারিয়ারে পাঁচ বছরেরও কম সময়ে তিনি তিনবার ব্রিটিশ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন। মীর সুলতান খান কোন ধরনের দাবা বই না পড়ে এবং দাবার তত্ত্ব সম্পর্কে কিছু না জেনেও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কিছু খেলোয়াড়কে হারিয়েছিলেন। তিনি এখন পাকিস্তানের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার।"
বর্তমানে পাকিস্তানের শীর্ষ দাবাড়ু মোহাম্মেদ জোহাইব হাসানের রেটিং ২২৬৯।
ফিদে সভাপতি ডভোরকোভিচ বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন দেশটিতে দাবার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। পাকিস্তানের ন্যাশনাল মাইন্ড স্পোর্টস ইনিশিয়েটিভের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে তিনি গত শুক্রবার পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ড. আরিফ আলভি এবং প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক কাকারের (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান) সাথে ইসলামাবাদে দেখা করেন।
অনেক দাবা খেলোয়াড় সুলতান খানকে পাকিস্তানের দাবা খেলোয়াড় হিসেবে চিহ্নিত করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন।
স্কটল্যান্ডের গ্র্যান্ডমাস্টার জ্যাকব আগার্ড বলেছেন, ফিদে 'রাজনৈতিক সুবিধা' আদায় করতে এই ঘোষণা দিয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তিনি টুইট করেছেন, "আমাদের কীভাবে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত? দাবা খেলায় খানের নাম অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সিদ্ধান্তের সাথে কেউ হয়ত দ্বিমত করবে না। তবে এই সিদ্ধান্ত মেধার জন্য নয়, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য নেওয়া হয়েছে। আমার ধারণা নেই, ফিদে সত্যিকার অর্থেই পাকিস্তানের দাবাকে উন্নীত করতে চায় কি না অথবা রাশিয়ান কূটনীতিক হতে চায়। আমার ভয় হয়, দ্বিতীয় কারণটি ডভোরকোভিচের জন্য সত্য। যদিও আমি বিশ্বাস করি না তিনি এমন করতে পারেন। কিন্তু ফিদে তাঁর নেতৃত্বে বর্তমানে এমনটাই করছে।"
জ্যাকব আগার্ড আরো বলেন, "ফিদে ১৯৫০ সাল থেকে গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব দেওয়া শুরু করে। এই কারণে কাপাব্লাঙ্কা, আলেখিন, লাস্কার সহ খানের যুগের অন্যান্য সেরা দাবাড়ুরা কখনো এই খেতাব পাননি। কারণ তারা মারা গিয়েছিলেন এবং মৃত মানুষকে খেতাব দেওয়া হয়নি। গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব অর্জন করতে কয়েক দশক লেগে যায় এবং এটি আমাদের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জন। এটা অপমানজনক কারণ রাজনৈতিক সুবিধার জন্য এই খেতাব ব্যবহার করা হয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি খানের সহকর্মী হতে পেরে গর্বিত।"
অনুবাদ: তাসবিবুল গনি নিলয়
