ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দুই দিন পর ইরানে পাল্টা হামলা চালাল পাকিস্তান, ৭ জন নিহত
মঙ্গলবার পাকিস্তানে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর এবার ইরানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এ আক্রমণে সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে আরও বেড়েছে উত্তেজনা।
পাকিস্তান বলেছে, তাদের হামলা সিস্তান-ও-বেলুচিস্তান প্রদেশের সীমান্তে 'সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থলে' আঘাত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল বলেছে, পাকিস্তানের হামলায় তিনজন নারী ও চার শিশু নিহত হয়েছে।
ইরানের হামলায় ক্ষুব্ধ হয়ে পাল্টা আক্রমণ চালাল পাকিস্তান। যদিও তেহরান দাবি করেছিল, তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছিল।
দুই দেশই দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় ও মদদ দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। দেশ দুটির অভিযোগ, ওই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সীমান্ত এলাকা থেকে আক্রমণ করে।
তবে এই ইস্যুতে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ঘটনা একেবারেই বিরল। দেশ দুটি সাধারণত ভঙ্গুর কিন্তু আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানে আক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় ইরানি সংবাদমাধ্যম পাকিস্তানের আক্রমণের খবর দেয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পাকিস্তান অত্যন্ত সমন্বিত, ধারাবাহিক ও নির্ভুল একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যার সাংকেতিক নাম 'মার্গ বার সমাচার'। এ অভিযানে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ইরান তখন বলেছে, পাকিস্তানে হামলার লক্ষ্য ছিল 'ইরানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী'।
ইরানের চালানো ওই হামলায় পাকিস্তানে অন্তত দুই শিশু নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিল ইসলামাবাদ।
এ ইস্যুতে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে পাকিস্তান।
এছাড়া ইরানের আক্রমণকে 'আকাশসীমা লঙ্ঘন' ও 'অবৈধ কাজ' বলে উল্লেখ করে এ ধরনের পদক্ষেপ 'গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে' বলে সতর্ক করেছিল ইসলামাবাদ। এর ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইরানে পাল্টা হামলা চালাল পাকিস্তান।
