ইরান সতর্ক করছে, গাজা আক্রমণ বন্ধ না হলে পাল্টা 'আগাম পদক্ষেপ' শিগগরিই
গাজায় আক্রমণ বন্ধ না হলে শিগগরিই পাল্টা 'আগাম পদক্ষেপ' নিতে পারে প্রতিরোধ ফ্রন্ট; ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমিরাবদুল্লাহিয়ান। গতকাল (সোমবার) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি এই কথা বলেন।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকেই গাজা সীমান্তে ট্যাঙ্ক ও সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। সেক্ষেত্রে পরিণতি ভোগ করা ছাড়া ইসরায়েলকে গাজা উপত্যকায় কোনো পদক্ষেপ নিতে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
আমিরাবদুল্লাহিয়ান বলেন, "প্রতিরোধের নেতারা ইহুদিবাদী শাসককে গাজায় কোনো পদক্ষেপ নিতে দেবে না। বিকল্প সকল পথ খোলা রয়েছে। গাজার জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে আমরা উদাসীন থাকতে পারি না।"
আমিরাবদুল্লাহিয়ান আরও বলেন, "প্রতিরোধ ফ্রন্ট শত্রুর (ইসরায়েল) সাথে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ চালাতে সক্ষম। শিগগরিই আমরা প্রতিরোধ ফ্রন্টের কাছ থেকে 'আগাম পদক্ষেপ' আশা করতে পারি।"
আর ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি গতকাল (সোমবার) বলেছেন, তেহরান ফিলিস্তিনিদের সমর্থন করলেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত সপ্তাহে অবশ্য ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খমেনি ইসরায়েলে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হামলার পেছনে নিজেদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে তিনি এই হামলাকে ইসরায়েলের 'অপূরণীয়' সামরিক ও গোয়েন্দা পরাজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকেই ইরান ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসকে তারা নৈতিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে।
এদিকে সংঘর্ষের মধ্যেই আগামীকাল বুধবার (১৮ অক্টোবর) ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, উচ্চ পর্যায়ের এ সফরে ইসরায়েলি নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে চলমান সংকট নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন সময়ে ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন যখন গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে আগ্রাসন আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী, যা ইতোমধ্যেই গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে।
গত ১৩ অক্টোবর লেবাননে অবস্থানকালে আমিরাবদুল্লাহিয়ান বলেন, "গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ চলতে থাকলে লেবানন সীমান্তে যুদ্ধের দ্বিতীয় ফ্রন্ট তৈরি হওয়ার 'সব ধরনের সম্ভাবনা' রয়েছে।"
আর ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত ঘুরে আসা এক হিজবুল্লাহ কমান্ডার বলেন, "একবার ভাবুন আমরা কী কী করতে পারব।"
কমান্ডারের ভাষায়, ইসরায়েল সীমান্ত অতিক্রমের জন্য হিজবুল্লাহর কাছে 'খেলা বদলে দেওয়া' পরিকল্পনা রয়েছে। হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের হামলার জবাবে গোষ্ঠীটি তেল আবিব ধ্বংস করতে পারবে, বলেন ওই কমান্ডার। এছাড়া তার মতে, পশ্চিমাদের জন্য ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার তুলনায় হিজবুল্লাহর জন্য ইসরায়েলের পারমাণবিক রিয়্যাক্টর আরও সহজ লক্ষ্যবস্তু।
এদিকে গাজা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ২,৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন; যাদের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশই শিশু। এছাড়া, আহত হয়েছেন অন্তত ১০,০০০ মানুষ।
