বসন্তকালীন অভিযানের সেনা সংগ্রহে মরিয়া ইউক্রেন
হতে পারেন আপনি শান্তিপ্রিয়, যুদ্ধ-বিরোধী; কিন্তু তাতে লাভ নেই কোনো। যুদ্ধকে এড়িয়ে চলতে চাইলেও, সে আমন্ত্রণই এসে হাজির হবে আপনার দুয়ারে। কথা হচ্ছিল ইউক্রেনের নাগরিকদের, যে দেশটি পশ্চিমা সহায়তায় অচিরেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে বসন্তকালীন অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের
বসন্তকালীন আক্রমণ অভিযানের জন্য চাই বিপুল জনবল। তাই সামরিক উর্দিধারীরা যেকোনো সময় দুয়ারে এসে হাজির হচ্ছে। বেসামরিক নাগরিকদের দ্বারে দ্বারে তারা যেমন যাচ্ছে, তেমনি রাস্তায় লড়াইযোগ্য কাউকে দেখলেই তাকে থামিয়ে হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে সামরিক বাহিনীতে ভর্তির ফর্ম। এভাবে অনেকেরই পুরো জীবনটা পাল্টে যাচ্ছে চোখের পলকে।
পশ্চিমারা ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ, গোয়েন্দা তথ্য, প্রশিক্ষণ ইত্যাদির মাধ্যমে। মাতৃভূমিকে রক্ষার আসল লড়াইটা লড়তে হচ্ছে ইউক্রেনীয়দেরই। আর শক্তিশালী রুশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে বিপুল সংখ্যক ইউক্রেনীয় হতাহত হয়েছে। যারা চিরসমাহিত হয়েছেন, তাদের কথা বাদ দিলেও অনেকেই এমন গুরুতর জখম হয়েছেন যার ফলে আর লড়তে পারবেন না।
ইউক্রেন সরকার হতাহতের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করে না। তবে যুদ্ধের ময়দানে থাকা অনেক কমান্ডারই বিভিন্ন সময় বিশ্ব গণমাধ্যমকে বড় সংখ্যক হতাহতের তথ্য জানিয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে একজন জার্মান কর্মকর্তা জানান, বার্লিনের ধারণা রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা আহত বা নিহত হয়েছে।
মোদ্দা কথা, ইউক্রেন আছে সেনা ঘাটতির মধ্যে, তার সঙ্গে আক্রমণ অভিযানের জন্যও চাই সংখ্যার আধিক্য। তাইতো নতুন গতি পেয়েছে সেনাবাহিনীর ভর্তি প্রচেষ্টা।
এতে করে অনেকেই আচমকা যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে নিজেদের আবিষ্কার করছেন। ৩৫ বছরের যুবক সাশাও তেমন আশঙ্কাই করছেন। যদি সেনাবাহিনী থেকে তলব আসে, এমন আশঙ্কা থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি। পেশায় বিনোদন জগতে একজন কাস্টিং ডিরেক্টর হলেও, ভর্তি হয়েছেন রাজধানী কিয়েভের একটি বেসরকারি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে।
পুরো নাম-পরিচয় দিলে সেনাবাহিনীতে তলবের সম্ভাবনা বাড়বে, এজন্য ডাকনাম প্রকাশের শর্তে তিনি দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, 'যুদ্ধ যদি আরেক বছর চলে, তাহলে আমাদের সবাইকে সেনাবাহিনীতে যেতে হবে'।
এদিকে গত শীতকাল থেকেই ইউক্রেনের পাল্টা-আক্রমণ অভিযান নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা চলছে। অভিযানের সময় এখন ঘনিয়েও আসছে। এর পুরো সাফল্য নির্ভর করবে নতুনদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ সেনাদের ওপর– যাদের পশ্চিমাদের সরবরাহ করা লেপার্ড-২ ট্যাংকের মতোন সাঁজোয়া যান পরিচালনায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ফলে যেমন দ্রুততার সাথে ও আগ্রাসীভাবে বেসামরিক নাগরিকদের সেনাবাহিনীতে ডাক পড়ছে – তাতে করে যুদ্ধে যেতে অনিচ্ছুক অনেকের মনেই ভীতির সঞ্চার হয়েছে।
ইতঃপূর্বে সেনাবাহিনীতে ভর্তির জন্য দরকারি নথিপত্র মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন কর্মকর্তারা। নোটিশ এড়াতে তখন অনেকেই বাস করতেন ভিন্ন ঠিকানায়। যুদ্ধকালে সরকার যে কাউকেই চাইলে সেনাবাহিনীতে ভর্তির নির্দেশ দিতে পারে। বিশেষত যুদ্ধের উপযুক্ত বয়সী তরুণ ও যুবাদের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা খুবই বেশি থাকে। আগে কোথায় কোথায় তাদের থামিয়ে সেনাবাহিনীতে ভর্তির যোগ্যতা সম্পর্কে কৈফিয়ত চাওয়া যাবে তার কিছুটা সীমাবদ্ধতা ছিল। এখন সেটা শিথিল করে পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করা নেই, এমন ঠিকানায় থাকার পরেও ভর্তি এড়ানোর সুযোগ কমে গেছে।
তাছাড়া, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ আগ্রাসনের পর থেকেই ইউক্রেন-জুড়ে চালু হয়েছে সামরিক আইন। এর আওতায়, ১৮-৬০ বছর বয়সী সকল পুরুষের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইউক্রেনের সেনা সমবেতকরণ নীতি আওতায়, এই বয়স সীমার যেকোনো ব্যক্তিকে চাইলে যুদ্ধের প্রয়োজনে তলব করা যাবে। তবে ছাড় দেওয়া হয়- ছাত্র, ১৮ বছরের কম বয়সী তিন বা ততোধিক সন্তানের পিতামাতা, পঙ্গু বা অশতিপর বৃদ্ধ নিকটজনদের দেখভালকারী এবং শারীরিকভাবে অক্ষম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।
চলতি বছরেই ১৮ বছর পূর্ণ হবে প্রায় আড়াই লাখ ইউক্রেনীয়র। তাদের মধ্যে ছেলেরা ১৮'তে পা দেওয়া মাত্রই যুদ্ধের উপযুক্ত বয়সের বলে বিবেচিত হবে। তারা চাইলে স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীতে নাম লেখাতে পারবে, অথবা তাদের তলব করতে পারবেন কর্মকর্তারা। দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞাও তাদের ওপর কার্যকর হবে।
স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধাদের ওপর ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর নির্ভরতা দীর্ঘদিনের। কিন্তু, এখন স্বেচ্ছায় কারা এগিয়ে আসবে, তার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে না। ফলে বেসামরিক যেসব নাগরিক দরকারি অন্যান্য পেশায় জড়িত– তারাও সামরিক বাহিনীর ডাক এড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। সরাসরি ভর্তির ডাক যাদের আসছে না, তাদের অন্তত নিকটস্থ সেনাশিবিরে গিয়ে নিবন্ধন করে আসতে হচ্ছে।
এমন ব্যক্তিদের একজন হচ্ছেন ৪৬ বছরের ওয়াশিংমেশিন মেরামতকারী ওলেক্সি ক্রুচোকভ, রাজধানী কিয়েভের একটি সেনাভর্তির কেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। দ্য পোস্টকে তিনি জানান, রাস্তায় একটি বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি, যা মারামারিতে রূপ নেয়, পড়ে পুলিশ সেখানে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে সেনাভর্তি কেন্দ্রে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ওলেক্সি পড়েছেন মহাসংকটে, ভর্তি এড়ানোর জন্য যেসব শর্ত প্রযোজ্য তার কোনোটাই নেই তার। আশঙ্কা করছেন, রাস্তায় ওই মারামারির ঘটনার ফলে অচিরেই তাকে প্রশিক্ষণ শিবিরে এবং তারপর যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হবে।
একই অবস্থা সড়ক মেরামত কর্মী ৫২ বছরের ওলেক্সান্ডার কোস্তিয়ুকের। গত বছর রুশ বাহিনী যখন কিয়েভের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন সড়কে ব্যারিকেড দিতে সহায়তা করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাকে সেনাবাহিনীতে নাম লেখানোর নির্দেশ দিয়েছে তারই দপ্তর– ইউক্রেনের মানব সম্পদ বিভাগ। দেশের প্রয়োজনে যুদ্ধে যেতে আপত্তি নেই কোস্তিয়ুকের, কিন্তু প্রানভয়েও অস্থির। তার ভাষ্য, 'এখন আমরা জানি আসলে কী ঘটছে, তাই আমি বেশ নার্ভাস'।
প্রাণভয়ে ভীত অবশ্য সবাই নয়, আটটি আক্রমণকারী ব্রিগেড নিয়ে গঠিত 'অফেন্সিভ গার্ড' এ যোগ দিতে– হাজারো অন্যরা সব ভয়কে তুচ্ছ করে ভর্তি হচ্ছে।
অনেকে এসেছে দেশজুড়ে মহাসড়কগুলোর পাশে লাগানো পোস্টার দেখে। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পোস্টারটিতে লেখা রয়েছে, 'আপনার ক্রোধকে অস্ত্রে পরিণত করুন'। এই আহ্বানে বেশি সাড়া দিচ্ছে সদ্য ১৮'তে পা দেওয়া তরুণরাই। অন্যদের অনেকে মনে করছেন, নিজে থেকে যোগ দিলে ভালো প্রশিক্ষণ ও সম্মান মিলবে, সেজন্য তলব পাওয়ার আগেই তারা উপস্থিত হয়েছেন।
ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে ৫ হাজার জনের বেশি ইউক্রেনের বিতর্কিত আজভ ব্যাটালিয়নে যোগ দিয়েছেন। কট্টর-ডানপন্থী এই মিলিশিয়া বাহিনীকে ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যই যুদ্ধাভিজ্ঞ, গত বছর মারিওপোল শহরে শেষপর্যন্ত প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলায় তারা স্বদেশবাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ঘোষণায় জানায়, আজভ ব্যাটালিয়নের পরিধি বাড়িয়ে একে একটি অ্যাসল্ট ব্রিগেডে রূপ দেওয়া হবে। নতুন অভেন্সিভ গার্ড- এর সহযোগী হবে এই ব্রিগেড।
আজভ ব্রিগেডে সদস্য ভর্তির নিজস্ব নিয়ম আছে। তাদের নিয়ম হলো, শুধুমাত্র যারা স্বেচ্ছায় যোগ দিতে চায় তাদের মধ্যে থেকে বাছাইকৃতদের এই বাহিনীর অংশ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। আজভের দাবি, এভাবে তারা সেরা সম্ভাব্য যোদ্ধাদের বেছে নিতে পারে।
ব্রিগেড হিসেবে ব্যাপক পরিসরে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছে আজভ। গত বছর মারিওপোলে রুশ বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার পর, বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া আজভের অনেক সদস্য এখন নতুনদের প্রশিক্ষণের কাজ করছে।
অন্য বেসামরিক নাগরিক যাদের স্বেচ্ছায় যোগদানের আগ্রহ নেই, কিন্তু তবুও যুদ্ধে তাদের পাঠানো হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন বেসরকারি শিবিরগুলোয়। প্রথমেই যে যুবকের কথা বলা হয়েছে, সাশা তাদেরই একজন। তিনি বলেন, 'আমি শতভাগ নিশ্চিত, আজ হোক বা কাল, আমার ডাক আসবেই'।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই সামরিক একটি কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি, এর ফলে যোগ দিলে অফিসার পদেই নিযুক্ত হওয়ার কথা তার। কিন্তু, বাস্তবে দেখা যায় সঠিকভাবে অস্ত্র চালাতেই সমস্যা হয় তার। সাশার মতে, তার বেসামরিক নাগরিক থাকার দিন ফুরিয়ে আসছে। 'সবাই যে পাল্টা-আক্রমণ অভিযানের প্রতীক্ষা করছে, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিতেই ব্যক্তিগত খরচে প্রশিক্ষণ নিচ্ছি'।
তিনি আরো বলেন, 'বুঝতে পারছি এটা (যুদ্ধে যেতে) হবেই, তাই নিজেকে ইচ্ছের বিরুদ্ধেই বাধ্য করছি'।
তবে তার সবচেয়ে বড় ভয় প্রাথমিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ নিয়ে, কারণ নিজেকে লড়াইয়ের উপযুক্ত বলে মনে করেন না তিনি। এই উদ্বেগের অবশ্য কারণও আছে।
পূর্ব ইউক্রেনের লিম্যান শহরের বাইরে দ্য পোস্ট কথা বলেছে একজন অভিজ্ঞ সেনা কর্মকর্তার সাথে। এই কর্মকর্তা নিজেও স্বেচ্ছায় যোগ দিয়েছিলেন। তার কাছে নতুন সেনা সদস্যদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নতুন রিক্রুটদের অনেকেই যুদ্ধের ময়দানে দরকারি এমন অনেক মৌলিক বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ, অনেক সময় তাদের জন্য নির্ধারিত ইউনিটে যোগ দেওয়ার পর তারা এবিষয়গুলো শেখে।
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম না প্রকাশের শর্তে তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, "প্রাথমিক প্রশিক্ষণে তাদের শুধু রণসঙ্গীত গাওয়া ও কুচকাওয়াজের অনুশীলন করানো হয়েছে"।
এমন সেনাদের মোতায়েন করার পর আবার নতুন করে সবকিছু হাতেকলমে শেখাতে হয়। এমনকী কীভাবে পরিখা খনন করা উচিত, বা কীভাবেই বা পরিখাকে সুরক্ষিত করতে হবে– সেটাও তারা জানে না। বন্দুক চালানোর বেলায় আরো করুণ দশা দেখা যায়। ওই সেনা কর্মকর্তা জানান, আমরা দেখেছি অনেকে রাইফেলের ম্যাগাজিন বদলাতেও হিমশিম খাচ্ছে।
আজভ ব্যাটালিয়নের প্রশিক্ষক এবং 'ফ্রোডো' কলসাইনের (সাংকেতিক নাম) সাবেক এক মার্কিন নৌসেনা বলেন, 'বর্তমানে যারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, তাদের অধিকাংশই এক মাস আগেও বেসামরিক জীবনযাপন করেছে। স্বেচ্ছায় যোগ দেওয়ায় তাদের অধিকাংশই একজন সৈন্যের মতো আচরণ না করে যোদ্ধা সাজতে চায়'।
মার্কিন নৌসেনা বা মেরিনদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ তিন মাসের হলেও, ইউক্রেনীয়রা মাত্র চার সপ্তাহের প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যেই তাদের নিশানায় লক্ষ্যভেদ করা, সামরিক রেডিও চালানো, ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শুরু করে সব বিষয়ে শিখতে হয়। সীমিত এই প্রশিক্ষণ শেষে, তাদের অনেককে প্রচণ্ড লড়াই চলছে ইউক্রেনের এমন স্থানে পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তুতির এই অভাব নিয়েই যত ভয় সাশা ও তার আরো আট বন্ধুর। সাম্প্রতিক এক রোববারে তাদের কিয়েভের কাছে এক পরিত্যক্ত গুদামের এলাকায় প্রশিক্ষণ নিতে দেখেন দ্য পোস্টের প্রতিবেদক। রাইফেল হাতে তারা দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করছিলেন, প্রতি তলায় বন্দুক উচিয়ে কাল্পনিক রাশিয়ান শত্রুর দিকে তাক করছিলেন। তারপর শত্রু গুলি ছুঁড়েছে এমন সংকেত দিয়ে কেউ হয়তো চেঁচিয়ে উঠলো, পরক্ষণেই কেউ গ্রেনেড বা হাতবোমা সম্পর্কে সচেতন করলো, সঙ্গে সঙ্গে সবাই শুয়ে পড়ে মেঝেতে। মোট কথায়, খুবই সাদামাটা প্রশিক্ষণ, তবু একেবারে অনভিজ্ঞ থাকার চেয়ে এটুকু প্রস্তুতি অন্তত নিয়ে রাখা দরকার বলে তারা মনে করেন।
তাদের প্রশিক্ষক একজন সক্রিয় সেনা সদস্য; নিরাপত্তার কারণে নাম না প্রকাশের শর্তে তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য এতদিন আইটি বিশেষজ্ঞ, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করা নানান খাতের এই বেসামরিক ব্যক্তিদের যতোটা সম্ভব যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে তোলা।
"আমি হয়তো ১০ রুশ সেনাকে হত্যা করতে পারব, কিন্তু (সঠিক) প্রশিক্ষণ পেলে এরাও ১০জন করে ১০০ জন শত্রুসেনাকে খতম করতে পারবে। তাদের অনুপ্রেরণাই আমাকে শক্তি দেয়, আবার শিহরিত করে। তাদের অনুপ্রেরণাই আমার অনুপ্রেরণা" যোগ করেন তিনি।
যদি তাদের যুদ্ধে যেতে হয়, 'আমার প্রধান উদ্দেশ্য তারা যেন সেখানে সর্বোচ্চ সময় বেঁচে থাকতে পারে'।
