কোভিড-পূর্ব সময়ের মতো হজযাত্রীদের গ্রহণ করবে সৌদি আরব
কোভিড মহামারির আগে যে পরিমাণ ব্যক্তিদের হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হতো, ঠিক সেই পরিমাণ হজযাত্রীদের এবার স্বাগত জানাবে সৌদি আরব, জানিয়েছেন সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী ড. তৌফিক আল-রাবিয়াহ। খবর সৌদি গ্যাজেটের।
মন্ত্রী আরও ঘোষণা করেছেন, কোভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধে তিন বছরের বিধিনিষেধের পরে হজযাত্রীদের বয়সের যে শর্ত ছিল তাও বাতিল করা হবে।
সোমবার জেদ্দায় অনুষ্ঠিত হওয়া 'এক্সপো হজ'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন আল-রাবিয়াহ। এ অনুষ্ঠান চলবে জানুয়ারির ৯ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে হজ ও ওমরাহ সম্পর্কিত পরিষেবার সম্মেলন এবং প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেছিলেন: "এই বছরের হজ মৌসুম থেকে অনুমোদিত যেকোনো কোম্পানির সাথে যুক্ত হয়ে বিশ্বের সব প্রান্তের হজ মিশনগুলো যাত্রীদেরকে সেবা প্রদানের অনুমতি পাবে। আমাদের অংশীদারদের সাথে আলোচনায় বসে পরিষেবা প্রদানের পদ্ধতি সহজ করতে NUSK প্ল্যাটফর্ম চালু করেছি, যাতে করে হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরো সমৃদ্ধ হয়।"
তিনি জানান, ওমরাহ তীর্থযাত্রীদের বীমা ২৩৫ রিয়াল থেকে ৬৩ শতাংশ কমিয়ে ৮৮ রিয়াল করা হয়েছে। এছাড়াও, হজযাত্রীদের বীমা ১০৯ রিয়াল থেকে ৭৩ শতাংশ কমিয়ে ২৯ রিয়াল করা হয়েছে।
"ওমরাহ ভিসা ৩০ দিন থেকে ৯০ দিন বাড়ানো হয়েছে এবং ভিসাপ্রাপ্তদেরকে সৌদি আরবের যেকোনো জায়গায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যেকোন ধরনের ভিসা নিয়ে সৌদি আরবের যেকোন দর্শনার্থী ওমরাহ পালন করতে এবং মদিনা যেতে পারেন," তিনি যোগ করেন।
"হজ বা ওমরাহ করার পর এবং নবীর জীবনী সম্পর্কিত ইসলামি ঐতিহাসিক স্থানগুলোর সম্পর্কে দর্শনার্থীদের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাকে আরো সমৃদ্ধ করতে আমরা অংশীদারদের সাথে কাজ করেছি।"
তিনি বলেন, সামনের বছরগুলোতে ১০০টি ইসলামিক ঐতিহাসিক স্থান সংস্কারের কাজ করছে সৌদি আরব।
আল-রাবিয়া উল্লেখ করেন, সৌদি আরব গ্র্যান্ড মসজিদের সম্প্রসারণের জন্য ২০০ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল বিনিয়োগ করেছে; যা এটিকে ইতিহাসের বৃহত্তম নির্মাণ প্রকল্পে পরিণত করেছে।
"আমরা সুযোগ-সুবিধা এবং অবকাঠামোর উন্নয়নে অবহেলা করিনি, এবং আমরা আসনসংখ্যা বাড়ানোর জন্য অংশীদারদের সাথে কাজ করেছি। আমরা হজযাত্রীদের সেবার উদ্দেশ্যে ৪০ বিলিয়নেরও বেশি রিয়াল খরচ করে দেশের বৃহত্তম বিমানবন্দর কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা করেছি।"
তিনি আরো জানান, হারামাইন এক্সপ্রেস ট্রেন নির্মাণে ৬৪ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল খরচ করা হয়েছে। এই ট্রেন সংযুক্ত করেছে মক্কা ও আল-মদিনাকে।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হলো হজ। সামর্থ্যবান মুসলিমদের জীবনে অবশ্যই একবার হজ পালন করতে হয়।
বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশগুলোর একটি এই হজ। ২০১৯ সালে হজ পালন করতে মক্কায় প্রায় ২.৫ মিলিয়ন মানুষের সমাগম হয়।
২০০৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত, প্রতি বছর হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল গড়ে প্রায় ২.৩ মিলিয়ন। কিন্তু ২০২০ সালে মহামারি শুরু হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ মাত্র ১ হাজার হজযাত্রীকে অংশ নিতে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
পরের বছর সম্পূর্ণভাবে ভ্যাকসিনেটেড সৌদি আরবের নাগরিক এবং লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত বাসিন্দাদের মধ্যে ৬০ হাজার জনকে হজের অনুমতি দেয়। গত তিন বছরে ৬৫ বছরের বেশি ব্যক্তিদেরকে হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
২০২২ সালে কোভিড-১৯ পরবর্তী বিধিনিষেধ শিথিল করার পর হজযাত্রীর সংখ্যা পৌঁছায় ৮,৯৯,৩৫৩-এ।
