‘ভারত, ভুল বোঝার কোনো সুযোগ নেই, আমরা আমাদের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আছি': ব্যাখ্যা দিলেন ইমরান
সেনাবাহিনী বিরোধী মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার পর, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রোববার (৩০ অক্টোবর) নিজের অতীত বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার দল পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে 'শক্তিশালী' করতে চায় এবং তার 'গঠনমূলক' সমালোচনার উদ্দেশ্য সেনাবাহিনীর ক্ষতি করা নয়। একইসঙ্গে তিনি গণমাধ্যমে ভুল বোঝানোর জন্য ভারতকে সতর্কও করেছেন। বলেছেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গেই রয়েছেন তিনি, ভুল বোঝার বা খুশি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। খবর এনডিটিভির।
'হাকিকি আজাদি মার্চ' নামে তার লং মার্চের তৃতীয় দিনে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের প্রধান জনসমক্ষে ভাষণ দেওয়ার সময়, ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধীদের লক্ষ্য করে দুর্নীতির অভিযোগ করেন।
একইসঙ্গে নিজের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ইমরান বলেন, এ পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে যত সমালোচনা তিনি করেছেন, তা সবই ছিল 'গঠনমূলক'।
"আমি চাই সেনাবাহিনী শক্তিশালী হোক। আমাদের একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী দরকার। আমার গঠনমূলক সমালোচনার উদ্দেশ্য তাদের ক্ষতি করা নয়," বলেন ইমরান।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ইমরান বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আনজুমের সংবাদ সম্মেলনের পর, প্রতিবেশী দেশ (ভারত) বিষয়টিতে খুশি হয়েছে। কারণ তাদের বিশ্বাস, সেনাবাহিনী এবং ইমরান খান 'মুখোমুখি' হবেন।
তবে সেই সুযোগ নেই উল্লেখ করে ইমরান বলেন, "আমি ভারতকে বলতে চাই এই সেনাবাহিনী আমাদের এবং আমি কখনোই এর বিরুদ্ধে যেতে পারি না।"
লং মার্চ শুরুর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর প্রতি প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন। তার মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান ও ভারতীয় গণমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইনটেলিজেন্স (আইএসআই) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আনজুম বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন ইমরান খান তার সরকারকে অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে সমর্থন দিতে বলেছিলেন সেনাবাহিনীকে।
তবে চলতি বছরের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই ইমরান দাবি করে আসছেন, তার সরকারকে উৎখাত করতে ষড়যন্ত্র করেছিল সেনাবাহিনী। বিরোধীদের সমর্থন দিয়ে সেনাবিহিনী তাকে ক্ষমচ্যুত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান নিয়োগের বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গেও বিতর্কে জড়ান ইমরান খান। ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর দাবি, সেনাপ্রধান নিয়োগ ও আগাম নির্বাচনের বিষয়ে মাসখানেক আগে তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছিলেন ইমরান। যদিও সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শাহবাজ শরিফ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিকভাবে সেনাপ্রধান নিয়োগের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর। সে কথা ইমরান খানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এই কাজ সংবিধান মেনেই করা হবে বলে উল্লেখ করে তিনি।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রোববার লং মার্চের তৃতীয় দিনে ইমরান বলেন, "আমি কেনো একজন বুট পলিশারের (শাহবাজ শরিফ) সঙ্গে আলোচনায় বসব?" সেনাবাহিনীকে ইঙ্গিত করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন ইমরান।
লং মার্চে জনতার স্রোত আসছে উল্লেখ করে সরকারকে সতর্ক করে ইমরান আরও বলেন, "এই জনস্রোত সামলাতে প্রস্তুত থাকুন।"
