ভেন্টাস: ভেন্টিলেটরের অভাব ঘোচাতে বাংলাদেশি গবেষকদের নতুন উদ্ভাবন
দেশে করোনা ভাইরাস হানা দিয়েছিল ২০২০ সালের মার্চের শুরুতে। সংক্রমণ যত বাড়ছিল, ততই আলগা হয়ে পড়ছিল স্বাস্থ্যখাতের জরাজীর্ণ কঙ্কাল। লকডাউনের সেই অবরুদ্ধ দিনগুলোতে সামাজিকমাধ্যমে একটি শব্দবন্ধ তীব্র আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছিল- 'ভেন্টিলেটর সংকট'। আত্মরক্ষায় মরিয়া উন্নত বিশ্ব ততদিনে ভেন্টিলেটর রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এদিকে দেশের হাসপাতালগুলোতে অপ্রতুল এই কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র। ফলে যা হবার হয়েছিল তা-ই। সামান্য একটুখানি বাতাসের অভাবে ঝরে গিয়েছিল শত শত প্রাণ।
কোভিডের সেই দুঃসময় পেরিয়ে এসেছে দেশ। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেটর সংকট এখনও কাটেনি। প্রয়োজনের মুহূর্তে জীবন বাঁচানোর এই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র এখনও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের জন্য অধরা।
এই নির্মম বাস্তবতা কিছুটা হলেও বদলে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে টানা সাত বছর নীরবে কাজ করে গেছেন দেশেরই তিন গবেষক। কোনো সরকারি অনুদান নয়, নিজস্ব অর্থায়নে তারা এগিয়ে নিয়েছেন নিজেদের গবেষণা। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে এসেছে প্রতীক্ষিত সাফল্য। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর 'ভেন্টাস' সফলভাবে উতরে গেছে প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। গবেষকদের বিশ্বাস, তাদের তৈরি এই ভেন্টিলেটর দেশের চিকিৎসাখাতে এক অভাবনীয় বিপ্লবের সূচনা করতে সক্ষম।
তাদের দাবি, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ভাবেই নয়, 'ভেন্টাস' অনুমোদন পেলে ভেন্টিলেটর হয়ে উঠতে পারে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ব্যবহারের যন্ত্র।
গল্প শুরুর আগে
কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময়ই আইসিইউতে কেটেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক কাজী সিফায়েত ইনাম স্বাক্ষরের। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কাছ থেকে দেখেছেন এক নির্মম বাস্তবতা। অসংখ্য রোগী শুধু অর্থের অভাবে আইসিইউতে প্রয়োজনীয় সময়টুকু থাকতে পারেন না। কারণ সেখানে ব্যবহৃত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা-যন্ত্রগুলোর দাম যেমন আকাশছোঁয়া, তেমনি সেগুলোর ব্যবহার ব্যয়ও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
সেই অভিজ্ঞতাই তাকে ভাবায়, এই যন্ত্রগুলো যদি দেশেই কম খরচে তৈরি করা যেত! সামনে তখন অনুপ্রেরণা হয়ে ছিল দেশের ওষুধশিল্পের সাফল্য। আর করোনা মহামারির সময় ভেন্টিলেটরের তীব্র সংকট তার সেই ভাবনাকে আরও জরুরি করে তোলে।
"আমি আইসিইউতে ভেন্টিলেটর মেশিন নিয়ে কাজ করতাম। তখন ভাবছিলাম এই জটিল জিনিসটাকে কিছুটা সহজ ভার্সনে রেপ্লিকেট করা যায় কিনা। এরপরেই কোভিড আসলো, বিশ্বজুড়ে একটা প্যানিক সৃষ্টি হয়ে গেল। বিশ্বের বড় বড় দেশগুলো তখন ভেন্টিলেটর এক্সপোর্ট ব্যান করে দিয়েছিল। দেশের অবস্থা খারাপ। তখন আমি এই আইডিটা নিয়ে প্রকৌশলী বোয়াজিদ মু্ক্তাদির শুভর সাথে বসি," শুরুর গল্প বলেন ডাক্তার স্বাক্ষর।
এরই মধ্যে এই উদ্যোগে যুক্ত হন জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের আইসিইউ কনসালট্যান্ট ডা. আসিফ উর রহমান। বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানির পথ তখন প্রায় বন্ধ। তাই স্থানীয়ভাবে পাওয়া যন্ত্রপাতি দিয়েই প্রকৌশলী শুভ শুরু করেন ভেন্টিলেটর তৈরির কাজ। কয়েক মাসের প্রচেষ্টায় তৈরি হয় তাদের প্রথম প্রোটোটাইপ, যার নাম দেওয়া হয় 'স্পন্দন'। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রটির ট্রায়াল সে সময় চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছিল।
কিন্তু সেই আশাব্যঞ্জক শুরু শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায়নি। ওষুধ উৎপাদনের জন্য দেশে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও চিকিৎসা-যন্ত্রের গবেষণা, উৎপাদন ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো কাঠামো নেই। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক বিরোধিতা। সব মিলিয়ে 'স্পন্দন' প্রকল্পটি আর সামনে এগোয়নি।
তবে সেখানেই থেমে যাননি তারা। দেশীয় প্রযুক্তিতেও কার্যকর ভেন্টিলেটর তৈরি করা সম্ভব, প্রকল্পটি তাদের এই বিশ্বাস দিয়েছিল। তাই আলোচনার আড়ালে থাকলেও তাদের গবেষণা থেমে থাকেনি।
গত ১৩ জুলাই 'ভেন্টাস' এর প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হয়। প্রয়োজনীয় সব ধরনের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন নিয়ে একজন পোস্ট কার্ডিয়াক এরেস্ট (কোমা স্কেল ৩) রোগীর ওপর যন্ত্রটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। ট্রায়াল চলাকালীন শেষে ১৩ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের ফলাফল পর্যালোচনা করে সেটিকে সফল ঘোষণা করেন। রোগীকে বোর্ড মোট ২ বার রিভিউ করেছেন। এবার যন্ত্রটির গুণগত মান আরও বাড়িয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের কথা ভাবছেন গবেষকেরা।
দামে হবে সাশ্রয়ী, কাজে নির্ভরযোগ্য
ভেন্টিলেটর হলো একটি কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র। সোজা ভাষায়, গুরুতর অসুস্থ রোগীর ফুসফুস যখন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না, তখন এই যন্ত্রই শ্বাস-প্রশ্বাস চালিয়ে রাখতে সহায়তা করে। প্রযুক্তিগতভাবে এটি যেমন অত্যন্ত জটিল, তেমনি দামও অনেক বেশি। ফলে দেশের অধিকাংশ হাসপাতালের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করা এখনো বড় একটি চ্যালেঞ্জ।
গবেষকদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি ভেন্টিলেটর তৈরি করা, যা হবে তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী, সহজে বহনযোগ্য এবং প্রয়োজনীয় কাজগুলো সবচেয়ে কার্যকরভাবে করতে সক্ষম।
"আমরা ঠিক করেছিলাম এমন কিছু করতে হবে যেটা খুব লো কস্ট এবং হ্যান্ডি হবে। প্রচলিত মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটরগুলো অনেক ভারী, আর সেগুলোতে অসংখ্য মোড থাকে। প্রতিটি মোড নির্দিষ্ট ধরনের রোগীর জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আমাদের দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার জন্য এতগুলো মোড সব সময় প্রয়োজন হয় না। আমাদের দরকার ছিল এমন একটি ভেন্টিলেটর, যাতে প্রয়োজনীয় কয়েকটি মোড থাকবে, যেগুলো একজন সংকটাপন্ন রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখতে কার্যকরভাবে কাজ করবে," বলেন ডা. আসিফ উর রহমান।
প্রাথমিকভাবে 'ভেন্টাস'-এ তিনটি ভেন্টিলেশন মোড রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মোড ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর, আর বাকি দুটি মোডের সফটওয়্যার কোডিং সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেগুলোও ধাপে ধাপে চালু করা হবে।
যন্ত্রটি তিন ধরনের পরিস্থিতিতে কাজ করতে পারে—পরিবেশের বাতাস ব্যবহার করে, অক্সিজেন সিলিন্ডারের সহায়তায় এবং উচ্চচাপের অক্সিজেন (সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন/অক্সিজেন প্ল্যান্ট) ব্যবহার করে।
কোনো হাসপাতালে যদি অক্সিজেন প্ল্যান্ট থাকে, তাহলে সেটি ব্যবহার করা যাবে। প্ল্যান্ট না থাকলে অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়েও এটি চলবে। আর সেটিও যদি না থাকে, তাহলে পরিবেশের বাতাস ব্যবহার করেই রোগীকে শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তা করতে পারবে এই ভেন্টিলেটর।
"একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের হার প্রতি মিনিটে ১২ থেকে ১৮ বার। প্রতিটি শ্বাসে গড়ে প্রায় ৫০০ মিলিলিটার বাতাসের প্রয়োজন হয়। ভেন্টাস-১ প্রোটোটাইপটি আমরা এমনভাবে ডিজাইন করেছি, যাতে এটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট বা সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর না করে পরিবেশের বাতাস ব্যবহার করে রোগীকে প্রয়োজনীয় শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তা করতে পারে। এটি পরিচালনার জন্য বিশেষ কোনো বিশেষজ্ঞেরও প্রয়োজন হবে না। রোগীর মুখে শ্বাসনালি (টিউব) সংযুক্ত করে একটি বোতাম চাপলেই যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করবে," বলেন ডা. আসিফ উর রহমান।
গবেষকদের মতে, প্রচলিত অনেক উন্নত ভেন্টিলেটরে অতিরিক্ত প্রোগ্রাম, একাধিক ভেন্টিলেশন মোড এবং জটিল অ্যালার্ম সিস্টেম থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সেটিংস ঠিক করতে সময় লাগে। তুলনামূলকভাবে সরল নকশার কারণে 'ভেন্টাস' দ্রুত রোগীকে কার্যকর ভেন্টিলেশন দিতে পারে, ফলে শরীরে জমে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়ার (ওয়াশ-আউট) প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হয় না।
"আমরা বলছি না যে 'ভেন্টাস' অন্য দামি ভেন্টিলেটর থেকে ভালো, তবে বিশেষ কাজের জন্য এটা অন্যদের সাথে টেক্কা দিতে সক্ষম, এবং কার্যকর," বলেন ডাক্তার আসিফ।
প্রান্তিক মানুষের কথা ভেবে
'ভেন্টাস' ভেন্টিলেটরটি উদ্ভাবনের পেছনে মূল ভাবনা ছিল দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ মানুষ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যাতে তাৎক্ষণিক ভেন্টিলেটর সুবিধা পাওয়া যায়, এটিই তাদের লক্ষ্য।
"ধরা যাক একজন কৃষক জমিতে ধান কাটছেন। তিনি হঠাৎ পড়ে গেলেন, তার নিঃশ্বাসটা বন্ধ হয়ে গেল। এখন ওই ইউনিয়ন পর্যায়ে তো মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর নেই। সেখানে হাতের কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার বা প্ল্যান্ট কিছুই নেই। সেই সংকটময় মুহূর্তে রোগীকে শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তা করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভেন্টাস মূলত সেই কাজটিই করবে। বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে রোগীকে প্রাথমিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তা দেবে, দূরের কোনো হাসপাতালে পৌঁছানো পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করবে," ব্যাখ্যা করলেন ডাক্তার আসিফ।
সারাদেশের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর যে পরিকল্পনা করছে সরকার, তাতে এই ভেন্টিলেটর বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে এই চিকিৎসকের মত। যেখানে বিদেশ থেকে একটি উন্নত মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর আমদানি করতে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে, সেখানে দেশীয় প্রযুক্তিতে ভেন্টাস তৈরি করা সম্ভব নামমাত্র খরচে।
"এক লাখ টাকায় এই ভ্যান্টিলেটর বানানো সম্ভব। তিনটি মোড যুক্ত করতে বড়জোর আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা লাগবে," বলেন ডাক্তার আসিফ।
তার বিশ্বাস, বড় পরিসরে উৎপাদনে গেলে এই ব্যয় আরও কমে আসবে। তুলনামূলক কম খরচে তৈরি হওয়ায় দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালেও ভেন্টিলেটরের প্রাপ্যতা বাড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও অনুমোদনের ধাপ পেরিয়ে গেলে 'ভেন্টাস' ব্যক্তিগত পর্যায়েও ব্যবহার করা সম্ভব হবে। ফলে কিছুক্ষেত্রে রোগীকে দিনের পর দিন আইসিইউতে রেখে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হবে না। গবেষকদের স্বপ্ন, ভবিষ্যতে এই ভেন্টিলেটর ব্যক্তিগত ব্যবহারের একটি যন্ত্র হয়ে উঠবে।
ভবিষ্যৎ ভাবনা
'ভেন্টাস'-এর পথচলা এখনো অনেক বাকি, জানেন ডা. স্বাক্ষর। প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সাফল্য পেলেও এটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার উপযোগী চিকিৎসাযন্ত্রে পরিণত করতে আরও বহু ধাপ অতিক্রম করতে হবে।
"আমরা এখনও তো ট্রায়াল পর্যায়ে আছি, এটাকে একদম কনজিউমার গ্রেডে নিয়ে যাওয়ার জন্য এখনো অনেকখানি রাস্তা পাড়ি দিতে হবে। তবে আমাদের স্বপ্ন হলো, বাংলাদেশের আইসিইউগুলোতে যেন আমাদের নিজেদের উদ্ভাবন করা এই ভেন্টিলেটরটি সেবা দেয়। আমাদের সরকার বা দেশের মানুষকে যেন কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিদেশ থেকে এই যন্ত্র আমদানি করতে না হয়," বলেন তিনি।
তবে সামনের পথটি যে মোটেও সহজ নয়, তা ভালো করেই জানেন গবেষকরা। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে এমন একটি চিকিৎসা-প্রযুক্তিকে বাস্তবে নিয়ে যেতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা।
"এই ধরনের কাজ করতে গেলে প্রচুর ফান্ড আর শ্রম দরকার। আমরা এখন পর্যন্ত যা করেছি, সবই নিজস্ব অর্থায়নে। কেউ আমাদের কোনো ফান্ড দেয়নি। আমার চেম্বার প্র্যাকটিসও প্রায় বাদ দিয়ে সারাদিন এই কাজের পেছনে সময় দিচ্ছি। কিন্তু সামনে আরও এগোতে হলে শুধু নিজেদের অর্থায়নে আর সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ দরকার হবে," বলেন ডা. আসিফ।
তাদের প্রত্যাশা, সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে এই উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। "সরকার যদি উদ্যোগ নিয়ে কোনো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে আমাদের সঙ্গে যুক্ত করে দেয়, তাহলে এই প্রকল্পকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। আমরা আমাদের জ্ঞান ও প্রযুক্তি শেয়ার করব, সরকার সমন্বয়ের ভূমিকা পালন করবে। তখন অর্থায়ন ও যন্ত্রাংশের সংকট থাকবে না। আরও উন্নত সংস্করণের ভেন্টিলেটর তৈরি করা সম্ভব হবে," আশা প্রকাশ করেন গবেষকরা।
ছবি: সৌজন্যে প্রাপ্ত