প্রতারণা, পাচার, যুদ্ধক্ষেত্র: ত্রুটিপূর্ণ যাচাইবাছাই যেভাবে আমাদের প্রবাসী কর্মীদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে
সরকারের বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও হাজার হাজার নাগরিক মানবপাচারের শিকার হচ্ছেন, সাইবার প্রতারণা চক্রে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছেন কিংবা সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন হচ্ছেন—এমন তথ্য প্রকাশের পর বাংলাদেশের অফিশিয়াল ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থার মারাত্মক কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো এখন কঠোর নজরদারিতে পড়েছে।
গত ১৮ মাসে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) কম্বোডিয়া যাওয়ার জন্য ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশিকে অফিশিয়াল ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে। তবে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য বলছে, এই ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজারেরও বেশি মানুষ সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডের ভেতর আটকা আছেন। সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে, দেওয়া হচ্ছে বৈদ্যুতিক শক—যাতে তারা অনলাইন প্রতারণা করতে বাধ্য হন।
বেশ কয়েকটি উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে জুনে ৫৮৩ জন এবং ১ জুলাই আরও ১০৯ জন ভুক্তভোগী দেশে ফিরে এসেছেন। তবে মানবপাচারকারী চক্রগুলো কীভাবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অফিশিয়াল অভিবাসন চ্যানেলগুলোকে ব্যবহার করছে, তা প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে এই সংকট।
কম্বোডিয়ার প্রতারণা: কম্পিউটার অপারেটর থেকে সাইবার দাস
আইটি ও কম্পিউটার অপারেটর পদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিয়োদাতারা চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে সাধারণত ৫.৩ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়। কিন্তু কম্বোডিয়া পৌঁছানোর পর তাদের অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
দেশটি থেকে ফিরে আসা বেশ কয়েকজন কর্মী নিশ্চিত করেছেন, তারা সম্পূর্ণ বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নিয়েই ঢাকা ছেড়েছিলেন। সামনে যে কী ধরনের ফাঁদ অপেক্ষা করছে, সে ব্যাপারে তাদের কোনো ধারণাই ছিল না।
পাচারকারী চক্রগুলো কীভাবে অফিশিয়াল অভিবাসন চ্যানেল ব্যবহার করছে, তার অন্যতম স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই কম্বোডিয়া পরিস্থিতি।
লক্ষ্মীপুরের একজন ভুক্তভোগী জানান, একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও স্থানীয় দালালরা তার কাছ থেকে ৫.৩ লাখ টাকা নিয়ে কম্বোডিয়া পাঠানোর আগে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্সের ব্যবস্থা করে। দেশটিতে পৌঁছানোর পর তিনি কোনো ওয়ার্ক পারমিট পাননি। পরে তাকে একটি সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
ফিরে আসা আরেকজন কর্মী জানান, শ্রমিকদের অনলাইনে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করতে বাধ্য করা হতো। প্রতিদিনের টার্গেট পূরণ করতে না পারলে তাদের মারধর করা হতো অথবা ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো।
কম্বোডিয়ায় ১০ মাস কাটানোর পর জুনে দেশে ফিরে আসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শ্রী সনাতন। বৈধ ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে যাওয়ার পরও সেখানে তাকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে চাকরি পেতে তিনি ৪.৮ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন; দেশ ছাড়ার আগে বিএমইটির ক্লিয়ারেন্স কার্ডও পেয়েছিলেন। তাকে ফাহিম রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল; প্রতিষ্ঠানটি গত এক বছরে কম্বোডিয়ায় প্রায় ২০০ জন কর্মী পাঠিয়েছে।
পাচারের রুট হয়ে উঠছে ব্রাজিল
দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে অনেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছেন—এমন ক্রমবর্ধমান প্রমাণ থাকার পরও ব্রাজিলে যাওয়ার জন্য কর্মীদের বিএমইটির অনুমোদন দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৫ সালের শুরুর দিক থেকে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযান শুরু করেছে, তার অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ৩২২ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফেরত পাঠানো এই ব্যক্তিদের বেশিরভাগই প্রথমে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে যান। এরপর তারা বিভিন্ন দেশ ও মেক্সিকো সীমান্ত পার হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
বিএমইটির তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ১ হাজার ৪১০ জন বাংলাদেশি অফিশিয়াল ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ব্রাজিলে গেছেন। এর মধ্যে শুধু নোয়াখালী থেকেই গেছেন ৯৯০ জন। বিপুলসংখ্যক মানুষের এই অভিবাসন সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের উপস্থিতির আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফেরত আসা অনেক অভিবাসী জানান, দালালের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে তাদের ৪৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে।
ফেরত আসাদের একজন সাইফুল ইসলাম। সাইফুল বলেন, ২০২৪ সালে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নিয়ে তিনি ব্রাজিলে যান। সেখান থেকে পাচারকারীদের মাধ্যমে কয়েকটি দেশ পেরিয়ে মেক্সিকোতে পৌঁছান। পরে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার চেষ্টা করার সময় তিনি গ্রেপ্তার হন।
দিয়াদ চৌধুরী নামে আরেকজন ভুক্তভোগী জানান, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ও ব্রাজিলে যাওয়ার জন্যই তার ২২ লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক বছর বন্দি থাকার পর অবশেষে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে নামতে বাধ্য করা হচ্ছে
যাচাইবাছাই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে উদ্বেগজনক ব্যর্থতা দেখা গেছে বৈধভাবে নির্মাণকাজের ভিসা নিয়ে রাশিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে। কিন্তু দেশটিতে যাওয়ার পর তাদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখ সমরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, নির্মাণ কাজের জন্য নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে একটি ড্রোন তৈরির কারখানায় বদলি করা হয়। পরে তাদের সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। তাদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন এখনো সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়োজিত আছেন এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
৯ জুলাই জাতীয় সংসদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিশ্চিত করেন, ওই ৩০ জন কর্মীর মধ্যে চারজন মারা গেছেন। তিনি আরও জানান, সরকার এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করেছে এবং জীবিত নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে।
রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন একটি অঞ্চলের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক আহত কর্মী অডিও বার্তায় বলেন, 'আমরা নির্মাণকাজের জন্য এখানে এসেছিলাম, যুদ্ধের জন্য নয়। আমাদের এমন কিছু নথিপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছে যার ভাষা আমরা বুঝতামই না।'
আসল চাকরি নাকি যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পথ
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর শরিফুল হাসান টিবিএসকে বলেন, সাইবার প্রতারণার এই কার্যক্রমগুলো এখন মানবপাচারের অত্যন্ত জটিল ও আধুনিক রূপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, 'মোটা বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে মানুষকে বিদেশে নেওয়া হচ্ছে। পরে সাইবার অপরাধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যারা টার্গেট পূরণ করতে পারছে না, তারা মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।'
শরিফুল আরও বলেন, যেসব কর্মী ব্রাজিলের জন্য বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স পাচ্ছেন, তারা আসলেই সেখানে চাকরির জন্য যাচ্ছেন নাকি দেশটিকে অবৈধ অভিবাসনের পথ হিসেবে ব্যবহার করছেন—তা কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত। 'শত শত কর্মী যদি বারবার ব্রাজিলকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এজেন্সি এবং কর্মকর্তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।'
যাচাইবাছাই প্রক্রিয়ায় ত্রুটি
অফিশিয়াল অভিবাসন ক্লিয়ারেন্স পাওয়া হাজার হাজার বাংলাদেশি কম্বোডিয়া, ব্রাজিল ও রাশিয়ায় মানবপাচার, ভুয়া নিয়োগ ও বলপূর্বক শ্রমের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপরই বিদেশে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএমইটি ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, বারবার ঘটা এসব ঘটনা বিএমইটির যাচাইবাছাই প্রক্রিয়ার গুরুতর দুর্বলতাই তুলে ধরছে। ক্লিয়ারেন্স কার্ড দেওয়ার আগে রিক্রুটিং এজেন্সি, নিয়োগকর্তা ও চাকরির প্রস্তাব সঠিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রক্রিয়া কঠোর করছে সরকার
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কর্মী নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি দূতাবাস থেকে বিদেশি নিয়োগকর্তাদেরকে চাহিদাপত্র (ডিমান্ড লেটার) সত্যায়িত করে নিতে হয়। এরপর রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো কর্মীর পক্ষে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করে।
তবে নীতিমালার একটি বড় ফাঁকফোকর এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তা হলো: ছোট ব্যাচের ছাড়।
মূলত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচালিত ছোট বিদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন রেস্তোরাঁ) দাপ্তরিক জটিলতা কমানোর জন্য এই নিয়মটি তৈরি করা হয়েছিল। এ নিয়মের আওতায় দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়াই সর্বোচ্চ পাঁচজন কর্মী বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পান। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক স্বীকার করেছেন, পাচারকারী চক্রগুলো এ নিয়মের অপব্যবহার করছে। দূতাবাসের নজরদারি এড়াতে বড় নিয়োগের আদেশগুলোকে ছোট ছোট ব্যাচে ভাগ করে নিচ্ছে তারা। ধারণা করা হয়, বর্তমানে প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ কর্মীই এই ছাড়ের আওতায় বিদেশে যাচ্ছেন।
এই ক্রমবর্ধমান সংকটের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক টিবিএসকে বলেন, কম্বোডিয়া, লাওস ও ব্রাজিলের মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্যগুলোর ক্ষেত্রে যাচাইবাছাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, 'আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এসব গন্তব্যের ক্ষেত্রে কর্মীদের আর দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার আগে সঠিক ওয়ার্ক ভিসা এবং পূর্ণ যাচাইবাছাই বাধ্যতামূলক করা হবে।' তিনি আরও জানান, বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ রক্ষার্থে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না।
বিএমইটির নীরবতা
মন্তব্যের জন্য টিবিএসের পক্ষ থেকে বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কার্যালয় এই প্রতিবেদককে সংস্থাটির মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহুরা মনসুরের সঙ্গে কথা বলতে বলে। জহুরা মনসুর জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন; কোনো উত্তর দেওয়ার আগে তাকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
জহুরা মনসুর প্রশ্নগুলো লিখিতভাবে জমা দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে লিখিতভাবে প্রশ্ন জমা দেওয়ার পরও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএমইটি ইমিগ্রেশন শাখার এক কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের দায় এড়িয়ে টিবিএসকে বলেন, 'কেউ যদি এক দেশে গিয়ে অন্য জায়গায় পালিয়ে যায়, তাহলে আমাদের কী করার আছে?'
যা বলছে ফাহিম এজেন্সি
ফাহিম রিক্রুটিং এজেন্সির স্বত্বাধিকারী সৈয়দ মুর্তজা আলী টিবিএসকে বলেন, কর্মীরা গন্তব্য দেশে পৌঁছানোর পরই বেশিরভাগ সমস্যা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, 'অন্য কোথাও বেশি বেতনের চাকরির কথা শুনে কিছু কর্মী তাদের নির্ধারিত নিয়োগকর্তাকে ছেড়ে চলে যান। পরে যখন তারা ফিরে আসার চেষ্টা করেন, তখন তাদের ওয়ার্ক পারমিট বৈধ থাকলেও আগের নিয়োগকর্তারা প্রায়ই তাদের কাজে ফিরিয়ে নিতে রাজি হন না।'
মুর্তজা আরও বলেন, কিছু কর্মী কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায় না। এর ফলে নিয়োগকর্তা বা রিক্রুটিং এজেন্সির পক্ষে তাদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশি কর্মীদের অনলাইন প্রতারণা চক্রে পাচার করার অভিযোগের বিষয়ে মুর্তজা আলী বলেন, তার এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কোনো কর্মীর কাছ থেকে তিনি এমন কোনো অভিযোগ পাননি।
কর্মীদের অনলাইন প্রতারণা কার্যক্রমে বাধ্য করার খবরগুলো স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, 'বিএমইটিতে মাত্র তিনজন কর্মী আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন; তাদের কাউকেই স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করা হয়নি।' মুর্তজা দাবি করেন, তার এজেন্সির পাঠানো কর্মীদের ক্ষেত্রে এমন কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
