অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা
বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। আজ সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে তার মরদেহ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তার প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা ১২টার দিকে তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন সংলগ্ন অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে নেওয়া হয়। তবে এ সময় মুষলধারে বৃষ্টির কারণে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের কফিন গাড়ি থেকে নামানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বেলা সাড়ে ১২টায় কলা অনুষদের মূল ফটকে কফিন রেখে প্রথমে শ্রদ্ধা জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগ। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষকরা তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, 'অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক একজন প্রথিতযশা মানুষ। তিনি রাষ্ট্র নিয়ে চিন্তা করতেন, সমাজ নিয়ে চিন্তা করতেন। তিনি কর্মজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক অবদান রেখে গেছেন। তার দর্শন, চিন্তা দিয়ে আমাদের মাঝে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন। আমরা তাকে আজীবন স্মরণ করব।'
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'তিনি ছিলেন একজন নীতিবাদী রাজনৈতিক দার্শনিক। তার এই প্রয়াণে বাংলাদেশ একজন গুরুত্বপূর্ণ মনীষীকে হারাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে'। তিনি আরও বলেন, 'আমরা তার কর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব এবং তাকে আজীবন স্মরণ করব। তার প্রস্থান বাংলাদেশের এক প্রতিবাদী সত্তার অবসান।'
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক আজম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবুল কালাম সরকার।
শ্রদ্ধা জানানো শেষে বেলা ১টায় অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আনা হয়। সেখানে বেলা ১টা ৪০ মিনিটে এই বরেণ্য শিক্ষাবিদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।
