জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে ‘অপপ্রচার’: আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, পিয়া জান্নাতুলসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে জিডি
জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, অপপ্রচার, শহিদদের অবমাননা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, টেলিভিশন উপস্থাপক সোমা ইসলাম এবং মডেল ও আইনজীবী মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে।
রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম বা স্টেট ডায়ালগ ফোরামের (এসডিএফ) সদস্য মিল্লাত হোসেন (২১) গতকাল (৪ জুলাই) সংগঠনের পক্ষে এই জিডি দায়ের করেন।
জিডি করার সময় এসডিএফের সদস্য সচিব এএনএম আয়াস, সংগঠক তুহিন ফরাজী ও প্রধান সমন্বয়ক মুহাম্মদ শাহ আলম বাদশাও থানায় উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে শাহবাগ থানাধীন 'হাদী চত্বর' নামে পরিচিতি পাওয়া এলাকায় অবস্থানকালে এসডিএফ সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুলাইবিরোধী এসব অপপ্রচার দেখতে পান।
অভিযোগে চ্যানেল আইয়ের টেলিভিশন উপস্থাপক সোমা ইসলামকে এক নম্বর অভিযুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তিনি বিভিন্ন টকশোতে বসে জুলাই অভ্যুত্থানের বয়ানকে কুক্ষিগত করা, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা এবং অতিথিদের ডেকে এনে অভ্যুত্থান সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার সুযোগ করে দেন। এর প্রমাণ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একাধিক ভিডিও লিংক যুক্ত করা হয়েছে।
এসডিএফ বলেছে, সোমা বিশ্ববাসীর কাছে জুলাই আন্দোলনকে ছোট করে উপস্থাপন এবং হেয় করার চেষ্টা করছেন। একইসাথে তিনি শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
আইনজীবী ও মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়াকে দ্বিতীয় অভিযুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পিয়া আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের সহযোগী। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাইকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন। যারা জুলাইয়ে হাত-পা হারিয়েছেন এবং আহত যোদ্ধাদের ছোট করে তাদের উদ্দেশ্যে 'মব' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অনলাইনে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি গোপনে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সহায়তা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তৃতীয় অভিযুক্ত হলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট মোমিন মেহেদী। তিনি ও তার স্ত্রী শান্তা ফারজানা প্রকাশ্যে দিবালোকে জাতীয় প্রেসক্লাবের কাছে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মোমিন জুলাইয়ে শহীদ আবু সাঈদকে নেশাখোর বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন যে তিনি নেশা করে নিজে নিজেই মারা গেছেন। প্রমাণস্বরূপ দুটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লিংকও জমা দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ অভিযুক্ত হিসেবে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, কারামুক্তির পর তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে মিলে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়াচ্ছেন।
আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি 'জুলাই স্টেকহোল্ডারদের' নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং যারা অভ্যুত্থানে হাত-পা ও চোখ হারিয়েছেন, তাদেরকে অপমান করছেন।
পঞ্চম অভিযুক্ত মডেল মারিয়া কিসপট্টা শুরু থেকেই জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, তিনি শেখ হাসিনাকে সমর্থন করে এমন ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে জুলাই অভ্যুত্থানকে সন্ত্রাসী আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এবং আহত ব্যক্তিদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মডেল ও অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টিকে ষষ্ঠ অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে জুলাই মাসকে 'প্রতারণার মাস' বলে আখ্যায়িত করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শামীমা বলেছেন, শেখ হাসিনা কাউকে মারেননি; সব বিএনপি ও জামায়াত করেছে। দেশে এখন শান্তি নেই, কেউ শহীদ হয়নি, নিজেরা নিজেরা যুদ্ধ করে মারা গেছে।
