মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ান, ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখা থাকবে: সংসদে জয়নুল আবেদিন
মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিন ফারুক।
অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, 'অন্তত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাটা বাড়িয়ে দিন, যাতে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে আপনার নাম লেখা থাকে।'
আজ শনিবার (২৭ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা দেশের ইতিহাসে সরকারের একটি স্মরণীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'দেশের স্বাধীনতার জন্য যারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের সম্মান আরও সুদৃঢ় করতে ভাতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।'
জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, 'দেশের সাম্প্রতিক আত্মত্যাগ যেমন স্মরণ রাখতে হবে, তেমনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও কখনো ভোলা যাবে না।'
বক্তব্যের শুরুতে জয়নুল আবেদীন ফারুক একটি 'সুন্দর বাজেট' উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, 'প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য, শিল্প, কর্মসংস্থান ও নারী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।'
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, 'দেশের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।' একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখায় অর্থমন্ত্রীকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
তার মতে, এ উদ্যোগ শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও তরুণদের বেকারত্ব দূরীকরণে বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংসদের সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাজেট নিয়ে বিরোধীদের প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেন, 'অতীতের বহু বাজেটের সময় 'মানি না, মানব না' স্লোগান শোনা গেলেও এবার সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।'
তিনি বলেন, 'বিরোধীরা অবশ্যই সরকারের সমালোচনা করবেন, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক।' তিনি যোগ করেন, 'সমালোচনা আপনারা করুন, জবাব আমরা দেব। কিন্তু সমালোচনা গঠনমূলক হতে হবে।'
তিনি বলেন, 'স্বাধীনতার ইতিহাস, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।'
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন। অতীতের রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'সবাইকে মিলেমিশে দেশ গড়তে হবে।' 'বাংলাদেশ সবার আগে'—এই প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান সরকারদলীয় এই সংসদ সদস্য।
