ভবিষ্যতে টাকা পাচার বন্ধে বেনিফিসিয়াল ওনারশিপ রেজিস্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
ভবিষ্যতে দেশ থেকে টাকা পাচার বন্ধে কোম্পানি, ট্রাস্ট বা অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিকানা বা সুবিধাভোগী ব্যক্তির পরিচয় গোপন করে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধে 'বেনিফিসিয়াল ওনারশিপ রেজিস্টার' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "ভবিষ্যতে দেশ থেকে টাকা পাচার বন্ধে কোম্পানি, ট্রাস্ট বা অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিকানা বা সুবিধাভোগী ব্যক্তির পরিচয় গোপন করে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ করতে 'বেনিফিসিয়াল ওনারশিপ রেজিস্টার' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।" একই সঙ্গে তিনি জানান, অর্থ পাচার প্রতিরোধে দেশের আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বাস্তব ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনসহ বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার প্রতিরোধে আইনি কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোকে যুগোপযোগী করা হবে। বিদ্যমান আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্সের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারসহ অর্থ পাচার প্রতিরোধে একটি কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
সংসদে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, অবৈধভাবে অর্থ পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে 'রেড নোটিশ' জারি করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বা গোপনীয়তা রক্ষায় এই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, দেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকা অথবা ব্যাংকে গচ্ছিত আমানত লুটের মাধ্যমে বিগত সরকারগুলির সময়ে যে অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে গেছে, সেগুলো ফেরত আনতে বর্তমান সরকার কী উদ্যোগ নিয়েছে?
উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, "বিদেশে অবৈধভাবে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যবিশিষ্ট আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। উক্ত টাস্কফোর্স ১১টি অগ্রাধিকার প্রাপ্ত অর্থ পাচারের কেইস চিহ্নিত করে তা অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করেছে।" অর্থমন্ত্রী আরও জানান, অর্থ পাচার সংক্রান্ত অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ পর্যন্ত ১৪২টি মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে ১৭টি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় হয়েছে। এছাড়া পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারে বিএফআইইউর (বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট) অধীনে একটি বিশেষ 'স্টোলেন এসেট রিকভারি ডিভিশন' গঠন করা হয়েছে।
পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি দেওয়ানি পদ্ধতি অবলম্বনের কথা উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, খেলাপি ঋণের টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি ব্যাংক তাদের ঋণের অর্থ উদ্ধারের জন্য 'নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট' স্বাক্ষরপূর্বক ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানকে 'নো উইন নো ফিস' (টাকা উদ্ধার হলেই কেবল ফি প্রদান) শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মন্ত্রী জানান, অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ১১টি কেইসের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬টি কেইসে ইতিমধ্যে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে অর্থ পুনরুদ্ধারের এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আইনি সংস্কার ও আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততা পাচারকৃত অর্থ ফেরানোর প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।
