শতভাগ সফল না হলেও হাম-রুবেলা সংক্রমণ সফলভাবে ‘অ্যারেস্ট’ করতে পেরেছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, 'রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করেই এক দানবীয় শক্তির মতো আমাদের ওপর এই হামের আক্রমণ হয়েছিল। আমি বলব না যে আমরা ১০০ ভাগ সফল হয়েছি, তবে এটি বলতে পারি যে আমরা আজ পর্যন্ত এই রোগটিকে সফলভাবে 'অ্যারেস্ট' করতে বা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।'
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত মাসব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলা ও ৩০টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হলেও আজ থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে যদি আমরা সফলভাবে টিকার আওতায় আনতে পারি, তবেই আমরা এই আত্মঘাতী রোগ থেকে রক্ষা পাব। তিনি প্রতিটি অলি-গলিতে এই কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রিত হলেও সামনে ডেঙ্গুর বড় চ্যালেঞ্জ আসছে বলে সতর্ক করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, 'সামনেই ডেঙ্গুর একটি ধাক্কা আসতে পারে। আমরা দুই-তিন দিন আগেই এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছি।'
মশার ওষুধ ছিটানোর ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক মিশ্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ওষুধের মান ঠিক থাকলে তবেই পূর্ণবয়স্ক মশা মারা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, রেল ও সড়কপথের সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমজীবী মানুষের ব্যস্ততার কারণে তাদের শিশুরা যেন টিকাদান থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। তিনি গণমাধ্যমকে এই লড়াইয়ে শামিল হয়ে অভিভাবকদের সচেতন করার আহ্বান জানান এবং শিশুদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, হামের এই সমস্যাটি হঠাৎ করে আসেনি। বিগত সরকারের অসাবধানতা ও রুটিন মাফিক কাজ না করার কারণেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা যদি সময়মতো কাজগুলো করত, তবে বর্তমান সরকারের ওপর এই বাড়তি চাপ আসত না।
তিনি আরও বলেন, 'বিরোধীদল চেয়েছিল এই সমস্যাটিকে মারাত্মক আকার দিতে, কিন্তু সরকারের তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে এটিকে শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। এটি এখন একটি জাতীয় সমস্যা এবং সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তা মোকাবিলা করছে।'
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হামের বিস্তার রোধে আইসোলেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিশেষ আইসোলেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচিকে একটি 'আন্দোলন' হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তি বা স্বাস্থ্যকর্মীর পক্ষে সফল করা সম্ভব নয়।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, এ ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রায় ৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জন্য ৯০টি স্থায়ী ও ৪৫০টি অস্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ৫৪০টি কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের এ টিকা দেওয়া হবে।
