মিরপুরে আগুন লাগা রাসায়নিক গুদামের কথা জানত না ডিআইএফই
রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে আগুন লেগে ১৬ জন নিহত হওয়া রাসায়নিক গুদামের কোনো অনুমোদন নেই এবং এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই)- কর্মকর্তারা।
ডিআইএফই-এর ঢাকা অঞ্চলের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আতিকুর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস)-বলেন, 'যেখানে আগুন লেগেছে, সেটি কেমিক্যালের গোডাউন বলে আমরা জেনেছি। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক কারা তা জানতে পারিনি।'
তিনি বলেন, 'আমাদের কাছে এটি কেমিক্যাল গোডাউন বলে কোনো ধরনের তথ্য নেই। কোনো একটা বাড়ির মধ্যে একটা কেমিক্যাল গোডাউন করে রেখেছে। এটা আমাদের পক্ষে জানা সম্ভবও নয়।'
ডিআইএফই-এর শ্রম পরিদর্শক মো. আহসান জামিল টিবিএসকে বলেন, 'আমরা এখনও ওই কেমিক্যাল গোডাউনের মালিকদের পাচ্ছি না।'
প্রসঙ্গত, আইন অনুযায়ী, রাসায়নিক মজুদকারী যেকোনো কারখানা বা প্রতিষ্ঠানকে ডিআইএফই এর অনুমোদন নিতে হবে।
ডিআইএফই-এর যুগ্ম মহাপরিদর্শক (জেআইজি) প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ টিবিএসকে বলেন, 'কারখানা হোক বা না হোক; কেমিক্যাল গোডাউন হলে আইন অনুযায়ী ডিআইএফই'র অনুমোদন নিতে হবে।'
কিন্তু এসব গুদাম তো ডিআইএফই-এর মনিটরিংয়ের আওতায় থাকার কথা – এ প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিআইএফই-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, 'ঢাকায় লাখ লাখ এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বা কারখানা আছে। বাস্তবে সব মনিটরিংয়ের আওতায় আনা কঠিন।'
এদিকে, রাসায়নিক গুদামের আশেপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার পর পার্শ্ববর্তী 'রাইজিং গ্রুপ'-এর দুটি পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেয় মালিকপক্ষ।
রাইজিং গ্রুপের চেয়ারম্যান নারগিস আক্তার টিবিএসকে বলেন, 'আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর পরই সেখানে অবস্থিত আমাদের দুটি কারখানা ছুটি দিয়ে দিই এবং সব শ্রমিককে দ্রুত কারখানা ত্যাগ করতে বলি। ফলে আমাদের কারখানায় কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।'
তিনি আরও বলেন, 'এছাড়া আগুনের কারণে ধোঁয়ার সমস্যা ছাড়া আমাদের কারখানায় আর কোনো সমস্যা হয়নি।'
