অন্তর্বর্তী সরকারকে নির্বাচনের সময়সূচি পুনর্বিবেচনার আহ্বান ফখরুলের
এপ্রিল মাস জাতীয় নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত সময় নয় উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারকে সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, 'অন্তবর্তী সরকার বাস্তবতার ভিত্তিতে এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।'
আজ মঙ্গলবার (১০ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা এখনো (এপ্রিলের প্রথম দিকে নির্বাচন) নিয়ে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি। আমরা আশা করি, সরকার এই বিষয়টি বাস্তবতার আলোকে বিবেচনা করবে।'
অন্তবর্তী সরকার যে সময়ে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে, তা সঠিক নয় বলেও দাবি এই বিএনপি নেতার।
এপ্রিলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিএনপির দলীয় অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এটা বিবেচনা করবেন। সময়টা তো ঠিক না। আমি প্রথম দিনই বলেছি, টাইম (এপ্রিল) ইজ নট গুড ফর ইলেকশন। রোজার মাস, রোজা শেষ হবে, ঈদ শেষ হবে– তার কয়েকদিন পরেই নির্বাচন। আপনি ভাবেন গোটা রোজার মাসটা ক্যান্ডিডেটদের কী অবস্থা হবে, পলিটিক্যাল ওয়ার্কারদের কী অবস্থা হবে।
রোজার সময় নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে প্রার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের দুর্ভোগ হবে এমনটা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি তো এখন থেকেই উদ্বিগ্ন যে আমাকে প্রতিদিনই ইফতার পার্টি করতে হবে। এতে নির্বাচনের ব্যয়টাও দ্বিগুণ হয়ে যাবে। গরমে দিনের বেলায় জনসভায় লোকজন কীভাবে আসবে। রাত্রে গিয়ে মিটিং করতে হবে।
তিনি বলেন, কালকে একটি পত্রিকায় দেখলাম, বাংলাদেশে বেশিরভাগ নির্বাচনই ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে হয়েছে। মাত্র দু'বার এর ব্যতিক্রম হয়েছে। তা-ও ওই দুটি নির্বাচনেই ঝামেলা ছিল।
তিনি বলেন, 'আমরা কোনো বিপ্লবী দল নই, আপনারা আমাকে কোট (উদ্ধৃত) করতে পারেন। আমরা নির্বাচন করেই জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চাই।'
মির্জা ফখরুল বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের বক্তব্যগুলো খুব পরিষ্কার, সুতরাং যখন সবাই চাইবে, একমত হবে—তখন নির্বাচন হবে অসুবিধা নেই।
বিএনপি সংস্কার চায় না, শুধু নির্বাচন চায়—বিএনপির বিরুদ্ধে এমন প্রচার রয়েছে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এটার কোনো যুক্তি নেই। সংস্কারের কথা আমরা বহু আগেই বলেছি। আমরা বলেছি, এই ব্যবস্থা চলবে না। এজন্য বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে আলাপ-আলোচনা করেই আমরা ভিশন-২০৩০ দিয়েছিলাম। যুগপৎ আন্দোলনে যাওয়ার আগেই আমাদের দলের পক্ষ থেকে ২৭ দফা দিয়েছিলাম। এরপর শরীক দলগুলোর সঙ্গে দিনের পর দিন আলোচনা করে ৩১ দফা দিয়েছি।
ফখরুল সব রাজনৈতিক দল, সংগঠনের কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতিকে বিভক্ত না করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, 'দেশ একটি বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ: আমরা গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা চাই এবং আমরা চাই দেশটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিচালিত হোক। আমরা ভোট দিতে চাই, আমাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচন করতে চাই এবং সংস্কার দেখতে চাই। সুতরাং, অযথা বিভেদ সৃষ্টি করবেন না।'
ফখরুল সতর্ক করে বলেন, দেশে কোনো ধরনের বিভেদ সৃষ্টি হলে তা বিদেশি শক্তি এবং ষড়যন্ত্রকারীদের দেশের ক্ষতি করার সুযোগ করে দেবে।
