বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল কলেজের করপোরেট কর হার ১০ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, প্রকৌশল কলেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক বেসরকারি কলেজগুলোর করপোরেট করহার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে, যা আজ (১১ জুন) সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
গত বছরের বাজেটেও এসব প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য খাতের করপোরেট করহারে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে সরকারের নীতিগত সহায়তার অংশ হিসেবে এই করহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা ও প্রকৌশল শিক্ষায় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আরও বাড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যেসব খাতকে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন করহার কার্যকর হবে।
এতে দেশের শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অসংখ্য বেসরকারি মেডিকেল, ডেন্টাল, প্রকৌশল ও আইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উপকৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট করহার ২০ শতাংশ, আর তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির ক্ষেত্রে তা ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
অন্যদিকে ব্যাংক, বীমা কোম্পানি ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। মোবাইল টেলিযোগাযোগ অপারেটরগুলোর ক্ষেত্রে এ হার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ।
রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ১০ থেকে ১২ শতাংশ হারে কর সুবিধা পেয়ে থাকে।
বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (এপিইউবি) সভাপতি সাবুর খান এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি টিবিএসকে বলেন, "করহার কমানোর সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক। বিশেষ করে প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও প্রকৌশল শিক্ষায় মানসম্মত শিক্ষা প্রদান ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। করের চাপ কমলে প্রতিষ্ঠানগুলো অবকাঠামো, গবেষণা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে।"
অর্থনীতিবিদদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, ফলে রাজস্ব আহরণের চাপ বাড়ছে। তবে বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রতিযোগিতামূলক করহার বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের মতে, উচ্চশিক্ষা খাতে বাড়তি সহায়তার মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন জোরদার করার লক্ষ্যেই এই কর ছাড়ের প্রস্তাব আনা হয়েছে।
