ভোটে দাঁড়াননি, তবু ইরাকি প্রধানমন্ত্রীকে ‘নির্বাচনে জয়ের’ অভিনন্দন জানালেন ট্রাম্প
হোয়াইট হাউসে প্রথমবার সফরে আসা ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলী ফালিহ কাজিম আল-জাইদিকে একটি 'তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ' নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য গত সোমবার বারবার অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বাস্তব সত্য হলো, রাজনীতিতে একেবারেই আনকোরা এই নেতা ইরাকের ওই নির্বাচনে কোনো পদেই প্রার্থী ছিলেন না!
ওভাল অফিসে জাইদিকে সাংবাদিকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, 'আমাদের কাছে একজন চমৎকার চ্যাম্পিয়ন, একজন নতুন চ্যাম্পিয়ন আছেন। তিনি নির্বাচনে অত্যন্ত জোরালো ও চূড়ান্তভাবে জয়লাভ করেছেন, যদিও তার জেতার পক্ষে কোনো পূর্বাভাস ছিল না। কিন্তু জনগণ যখনই তাকে চিনেছে, তিনি জয়ী হয়েছেন এবং তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে থাকবেন।'
কোনো রাজনৈতিক বা নির্বাচনী ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকা ব্যবসায়ী জাইদি মূলত এক নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ইরাকের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। ইরাকের নির্বাচনে জয়ী শিয়া জোটের মনোনীত প্রার্থী ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকির ওপর ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত ভেটো দেওয়ার পর জাইদির সামনে এই সুযোগ আসে।
এর আগে গত জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরাক সরকার যদি মালিকিকে নিয়ে অগ্রসর হয় তবে ওয়াশিংটন ইরাককে 'আর কোনো সাহায্য করবে না।' ট্রাম্পের এই হুমকির পর দেশটি এক বড় সাংবিধানিক অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছিল। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরাকের রাজনৈতিক দলগুলো এমন একজনকে খুঁজছিল, যিনি তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ থাকবেন। জাইদি তাঁর ব্যাংকিং ক্যারিয়ার এবং লাখ লাখ মানুষের জন্য পরিচালিত ইরাক সরকারের খাদ্য ঝুড়ি কর্মসূচির পণ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে সবার কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ও সমঝোতার প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হন।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী জাইদি তার এই মার্কিন সফরকে মূলত ইরাকে মার্কিন বিনিয়োগ উৎসাহিত করার কাজে ব্যবহার করতে চান। এ সপ্তাহের শেষের দিকে টেক্সাসের বিভিন্ন তেল কোম্পানি পরিদর্শন করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
