রাস্তায় হঠাৎ অভিনয়ের প্রস্তাব, ভেবেছিলেন স্ক্যাম: যেভাবে অভিনয়ে এলেন মাধবন
আজ আর. মাধবনকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বহুমুখী অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু তার গল্পটি অনেক কিংবদন্তি তারকার মতো নয়, যাদের যাত্রাপথ বছরের পর বছর সংগ্রাম ও প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে। মাধবনের গল্পটি ভিন্ন। তার গল্পটি আত্মবিশ্বাস, অটল আশাবাদ এবং সীমাহীন স্বপ্ন দেখার সাহসের।
ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অনেক আগে থেকেই তিনি নিজের ভবিষ্যৎ কল্পনা করেছিলেন। তিনি নিজেকে একজন 'ধনী ও বিখ্যাত' ব্যক্তি হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। কিশোর বয়সেই তিনি এই স্বপ্ন লিখে রেখেছিলেন এবং এরপর আর কখনো সেই বিশ্বাস হারাননি।
১৭ বছর বয়সে মাধবনের স্বপ্ন
চেতন ভগতের সঙ্গে এক পুরোনো আলাপচারিতায় মাধবন তার জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে স্মৃতিচারণা করছিলেন। তখন তিনি দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়তেন।
তিনি বলেন, "আমি কানাডায় দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় আমার জীবনের লক্ষ্যগুলো লিখেছিলাম। সেখানে লিখেছিলাম, আমি এমন একজন মানুষ হতে চাই, যে অনেক বিষয়ে দক্ষ হবে এবং কিছু বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হবে। আমি ১৭ বছর বয়সে এটি লিখেছিলাম। এটি এখনো আমার নোটবুকে রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমি লিখেছিলাম, আমি একজন ধনী ও বিখ্যাত অভিনেতা হতে চাই এবং একই সঙ্গে অনেক বিষয়ে দক্ষ ও কিছু বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে চাই। এগুলোই ছিল আমার লেখা একদম সঠিক শব্দগুলো।"
মাধবনের কাছে বড় স্বপ্ন দেখা সবসময়ই অপরিহার্য ছিল। তার বিশ্বাস, অনেক মানুষ নিজেদের স্বপ্নকে ছোট করে ফেলে, কারণ তারা ভয় পায় যে অন্যরা তাদের অবাস্তব বা অযৌক্তিক ভাববে।
তিনি বলেন, "স্বপ্ন দেখার কোনো সীমা নেই এবং নিজের স্বপ্নকে কখনো সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। আমি সবসময় বলি, বোকা হতে ভয় পেয়ো না। এমন অবিশ্বাস্য স্বপ্ন দেখো, যা দেখে অন্যরা ভাববে তুমি হয়তো পাগল।"
তিনি আরও বলেন, "বড় স্বপ্ন দেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি কখনো ভাবিনি যে একদিন অমিতাভ বচ্চন আমার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাবেন। এটি অনেক বড় একটি বিষয়। তিনি একজন কিংবদন্তি। শুধু আমার যাত্রার দিকে তাকাও। একটা সময় ছিল, যখন আমি অনেক দূরে জামশেদপুরে বসে তার সিনেমা দেখতাম। আর পরে এমন সময় এসেছে, যখন আমি তার সঙ্গে দাঁড়িয়েছি, তার সঙ্গে সিনেমায় কাজ করেছি।"
"আমি এই বিষয়টি নিজের মধ্যে বিশ্বাস করেছিলাম এবং জানতাম, একদিন এটি ঘটবে। তাই স্বপ্ন দেখতে কখনো ভয় পাওয়া উচিত নয়।"
কীভাবে অভিনয়ের জগতে এলেন মাধবন
মজার বিষয় হলো, কিশোর বয়সে নিজের সেই লক্ষ্য লিখে রাখলেও মাধবন কখনো সক্রিয়ভাবে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেননি।
সেই সময় তিনি জনসমক্ষে কথা বলা এবং যোগাযোগ দক্ষতার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ভালো আয় করতেন এবং তখন তার চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার গড়ার কোনো বিশেষ কারণও ছিল না। কিন্তু ভাগ্য তার জন্য অন্য পরিকল্পনা করে রেখেছিল।
তিনি স্মৃতিচারণা করে বলেন, "আমি অভিনেতা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছিলাম না। আমি জানতামই না যে একদিন আমি অভিনেতা হয়ে যাব। আমি বোম্বেতে এসেছিলাম যোগাযোগ দক্ষতা এবং জনসমক্ষে কথা বলার প্রশিক্ষণ দিতে। তখন আমি মাসে ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার রুপি আয় করতাম। সেই সময়ের হিসেবে এটি অনেক বড় অঙ্কের টাকা ছিল এবং আমি সবটাই খরচ করে ফেলতাম।"
তিনি আরও বলেন, "ঠিক সেই সময় একদিন হঠাৎ রাস্তায় একজন আমার কাছে এসে জানতে চাইলেন, আমি অভিনয় করতে আগ্রহী কি না।"
এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, "প্রথমে আমার মনে হয়েছিল, এটি হয়তো কোনো স্ক্যাম। কিন্তু এভাবেই আমার অভিনয় জীবনের শুরু হয়েছিল।"
সেই আকস্মিক ঘটনাই মাধবনের জীবনের গতিপথ বদলে দেয়।
এর কিছুদিন পর তিনি পরিচালক মণি রত্নমের সিনেমা 'আলাইপায়ুথে' (২০০০)-তে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। এটি ছিল একটি প্রেমের গল্পভিত্তিক সিনেমা, যা সমালোচকদের প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও ব্যাপক সফল হয়।
'আলাইপায়ুথে'-এর সাফল্য মাধবনকে তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং এরপর তিনি তামিল, হিন্দি ও তেলুগু সিনেমায় দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।
পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, কিশোর বয়সে লেখা সেই স্বপ্নই যেন আশ্চর্যজনকভাবে সত্যি হয়ে উঠেছিল।
