চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে তিন গাড়ির সংঘর্ষে পথচারী নারী নিহত, আহত অন্তত ৭
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও পাথর বোঝাই ট্রাকের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক পথচারী নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (৩১ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জারিয়া বেগম (৪৫) সীতাকুণ্ডের মধ্যম মাহমুদাবাদ এলাকার চেরংবাড়ি গ্রামের জহুরুল আলমের স্ত্রী।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে একটি নোয়াহ মাইক্রোবাস হঠাৎ ব্রেক করার পর পেছনের দিক থেকে আসা 'সৌদিয়া পরিবহন'-এর একটি যাত্রীবাহী বাস সেটিকে ধাক্কা দেয়। ঠিক একই সময়ে পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির পাথর বোঝাই ট্রাক বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনটি গাড়িই উল্টে যায়।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিল্টন দাস দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'ট্রাকটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছিল এবং বাসের পেছনে ধাক্কা দেওয়ার পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ট্রাকটি সড়ক ছেড়ে ছিটকে গিয়ে পাশের কয়েকটি দোকানে আঘাত হানে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'ওই সময় সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন জারিয়া বেগম। নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকটির ধাক্কায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।'
দুর্ঘটনায় গাড়িগুলোর ভেতরে থাকা অন্তত ৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নোয়াহ মাইক্রোবাস ও সৌদিয়া পরিবহনের বাসটি জব্দ করেছে। তবে ভারী পাথর বোঝাই থাকায় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি সরাতে বেশ বেগ পেতে হয়। এ ঘটনায় জড়িত চালকেরা দুর্ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
রোববার রাতে নিহতের স্বামী জহুরুল আলম বাদী হয়ে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। জড়িত চালকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
