৭ বিভাগে সমাবেশের ঘোষণা ১১ দলীয় জোটের
দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। বিভাগীয় শহরগুলোতে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোকে সম্পৃক্ত করে এই সমাবেশগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ধারাবাহিক এই কর্মসূচি শেষে আগামী অক্টোবর মাসে রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে জোটটি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারস্থ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জোটের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী ৭টি বিভাগীয় শহরে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোকে নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। আমাদের মূল দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসন, জ্বালানি সংকট নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। এছাড়াও আমাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি; চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও দখলদারিত্ব বন্ধ; স্বাস্থ্যখাতের সমস্যার সমাধান; স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় দুর্নীতি এবং শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য অপরিহার্য।"
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "সরকার দলীয়করণ এত বেশি করছে যে নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে একচেটিয়া নিজেদের দলের লোকদের নিয়োগ করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব কিছুর বিরুদ্ধে আমরা জনমত গঠনের কর্মসূচি নিয়েছি এবং রাজপথে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করব।"
হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে শুরুতেই ন্যক্কারজনক কাজ করেছে এবং ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে। তিনি বলেন, "তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সকল সংস্কার প্রস্তাব, বিশেষ করে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। সরকারি দল সেই প্রতিশ্রুতি দিলেও জনগণের মতকে উপেক্ষা করে তারা শপথ নেয়নি। এখন তারা সংসদে ছলচাতুরী করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দেশবাসীকে সজাগ করছি। এটার বিরুদ্ধে আরও জনমত তৈরি করে আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে হবে।"
১১ দলের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী—১৬ মে রাজশাহী, ১৩ জুন চট্টগ্রাম, ২০ জুন খুলনায়, ২৭ জুন ময়মনসিংহে, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে অক্টোবর মাসে ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জোটের সমন্বয়ক জানান, মহানগরগুলোতে সেমিনার কর্মসূচি চলমান থাকবে এবং প্রতি মাসেই কোনো না কোনো কর্মসূচি রাখা হয়েছে। ঈদের আগেও একটি কর্মসূচি পালিত হবে। তিনি বলেন, "আমরা আরও কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হবে। নির্বাচনী কার্যক্রমকে আরও কার্যকরী করার জন্য জেলাভিত্তিক সফর কর্মসূচি রাখা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ প্রতিটি মহানগর ও বিভিন্ন জেলায় পেশাজীবী, সিভিল সোসাইটির সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করা হবে। ঢাকায় বাজেট প্রতিক্রিয়া কর্মসূচিও পালন করা হবে।"
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজার রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র ও সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন প্রমুখ।
