হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধের আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ
হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তেলের দাম আরও বেড়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬.৮ ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়ে (ডব্লিউটিআই) ৪.৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অচলাবস্থার কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি যুদ্ধ শেষ করতে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন এবং তিনি তার সহকারীদের ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শিগগিরই ওয়াশিংটন ডিসি সফর করতে পারেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইসরায়েলি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
যখন ট্রাম্প ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার করছেন। এর মধ্যেই নেতানিয়াহুর এই সফরের পরিকল্পনা জানা গেল। এই সফরটি আগামী সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহে হতে পারে। ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিন সপ্তাহ বাড়িয়েছিলেন। মে মাসের মাঝামাঝি এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
বুধবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, নেতানিয়াহু আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে রয়েছেন।
ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, তিনি নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বৈঠকের আয়োজন করতে চান। কয়েক দশক ধরে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
তবে আউন সম্প্রতি নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি ফোনালাপ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের একাধিক হামলার প্রেক্ষাপটে তিনি সরাসরি বৈঠকে রাজি হবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
বিধিনিষেধ দিলে হরমুজ দিয়ে 'এক লিটার তেলও' যেতে দেওয়া হবে না: আইআরজিসি
ইরানের সামুদ্রিক চলাচলে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো তেলের চালান যেতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখার সংস্কৃতি বিষয়ক উপপ্রধান সাঈদ সিয়াহ-সারানি। আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আনাদোলু এই তথ্য জানিয়েছে।
কোম শহরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাঈদ সিয়াহ-সারানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ইরান এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে 'এমনকি এক লিটার তেলও' পার হতে দেবে না।
আইআরজিসি-র এই কর্মকর্তা বলেন, 'আমাদের হাত ট্রিগারে রয়েছে।' তিনি আরও যোগ করেন যে, ইরানের বাহিনীগুলো স্থল, জল এবং আকাশপথে দেশকে রক্ষা করতে এবং যেকোনো পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই কৌশলগত জলপথটি ইরানের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে। তাই নির্ধারিত রুটসহ ইরানের নিয়মকানুন মেনেই এই পথে নৌযানগুলোকে চলাচল করতে হবে।
তথ্যসূত্র: ডন
ইরান সংকটে পানামা খালে বেড়েছে জাহাজের ভিড়, দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত ফি
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও ইরান কেন্দ্রিক উত্তেজনার প্রভাবে পানামা খালে জাহাজের আনাগোনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্তকারী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ট্রাফিক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পানামা খাল কর্তৃপক্ষের অর্থ বিভাগের প্রধান ভিক্টর ভিয়াল জানিয়েছেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গত অক্টোবর থেকে এই জলপথে প্রায় ৩০০টি অতিরিক্ত জাহাজ চলাচল করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি বৈঠকে ভিক্টর ভিয়াল বলেন, 'আশা করা হচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে।'
মূলত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণেই পানামা খালে এই চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের উপকূলীয় এই জলপথ এড়াতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন বিকল্প পথ হিসেবে পানামা খাল ব্যবহার করছে। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যবাহী জাহাজগুলো তাদের রুট পরিবর্তন করেছে অথবা ইরানের উপকূলীয় পথ এড়িয়ে চলতে ভিন্ন দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করছে।
পানামা খাল পার হওয়ার খরচও নেহাত কম নয়। জাহাজভেদে এই খাল পার হতে গড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ সপ্তাহের শুরুতে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে যাতায়াত নিশ্চিত করতে কিছু জাহাজকে মূল খরচের বাইরে আরও ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি দিতে হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরানের ৩৫ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে তেহরানের 'ছায়া ব্যাংকিং' খাতের সঙ্গে জড়িত ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে চীনের সেই সব স্বতন্ত্র তেল শোধনাগারের (টিপট রিফাইনারি) সঙ্গে লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যারা হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য ইরানকে টোল দিচ্ছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক দপ্তর (ওএফএসি) জানিয়েছে, এই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্বের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে কয়েক হাজার কোটি ডলার লেনদেনে সহায়তা করেছে এবং ইরানের কথিত সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে ভূমিকা রেখেছে।
ওএফএসি ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, ইরান সরকারকে বা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য যারা অর্থ দিচ্ছে, তাদের সঙ্গে লেনদেন করলে কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে চীনের শানডং প্রদেশের স্বতন্ত্র শোধনাগারগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যারা ইরানি তেল আমদানি ও শোধনে জড়িত।
অভিযোগ রয়েছে, এদের কেউ কেউ মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে ডলারে লেনদেন করছে এবং মার্কিন পণ্য কিনছে। চীন অবশ্য এই একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ইরানি জাহাজ জব্দ: জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইল তেহরান
ইরানি জাহাজ জব্দ করার প্রতিবাদে জাতিসংঘ মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি। চিঠিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে 'জলদস্যুতা' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূত ইরাভানি বলেছেন, এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই অভ্যন্তরীণ আইনি ব্যবস্থার দোহাই দিয়ে বৈধ করা যাবে না।
ইরাভানি তার চিঠিতে লিখেছেন, 'এ ধরনের আচরণ বেআইনি জবরদস্তি, বৈধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে হস্তক্ষেপ এবং অবৈধভাবে সম্পত্তি দখলের শামিল।' তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, এটি একটি 'বিপজ্জনক নজির স্থাপন করছে' যা আন্তর্জাতিক আইনকে অবজ্ঞা করে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের নির্দেশ ট্রাম্পের: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের প্রস্তুতি নিতে তাঁর সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো নতুন করে সামরিক হামলা শুরু না করে বরং ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল সীমিত করা। এর মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতি এবং তেল রপ্তানির ওপর প্রবল চাপ বজায় রাখতে চায় ওয়াশিংটন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার একটি দাবি থেকে সরতে নারাজ। সেটি হলো—তেহরানকে অন্তত ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। ট্রাম্পের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই অবরোধ বজায় রাখার তুলনায় অন্য বিকল্পগুলোতে ঝুঁকির মাত্রা আরও অনেক বেশি।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ইরানের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন যে, একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার আগে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার জন্য তাদের আরও অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
