ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে অভিযোগ সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না: বিএনপি-জামায়াত
ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে একাধিক অভিযোগ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে বৈঠক করে দল দুটির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনপূর্ব অনিয়ম তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ৩০০টি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। মাঠপর্যায়ে ভোটের অনিয়ম অনুসন্ধান ও বিচার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসব কমিটিকে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের সহায়তার নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে অভিযোগ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তার প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না—যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, "প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি থাকলেও তাদের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো যেন জানে কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে এবং সেখানে কার্যকর বিচার পাওয়া যাবে—এটা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।"
ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি বাস্তবে দায়িত্ব পালন করছে কি না, তা জনসমক্ষে স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইসিকে জানানো হয়েছে—ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি যেন দৃশ্যমান হয় এবং জনগণ ও সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা যেন জানেন, কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, "বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর ক্যাডেটরা শিক্ষার্থী, প্রথমবারের মতো তাদের নির্বাচনী কাজে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের কথা শোনা গেছে। বিষয়টি হয়তো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছে, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা সমীচীন হবে না।"
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেন, "ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে বহু অভিযোগ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। অনেক সময় বিষয়গুলো অন্যত্র পাঠানোর পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে—যা সমস্যার সমাধান দিচ্ছে না।"
তিনি বলেন, যেহেতু এটি বিচার বিভাগীয় বিষয়, তাই ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকেও সরাসরি গাইড করতে পারছে না নির্বাচন কমিশন।
তিনি আরও বলেন, নারী কর্মীদের ওপর সহিংসতার প্রতিটি ঘটনাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছিল। সময়মতো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না। কিন্তু বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটছে—যা উদ্বেগজনক।
এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীকেও সচেতন করা জরুরি, যাতে সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে আইন ও শৃঙ্ঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।"
