‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকসহ নিবন্ধন ফেরত পাবে জামায়াত: ইসি সানাউল্লাহ
বাংলাদেশ জাময়াতে ইসলামীকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকসহ নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (৪ জুন) বিকেলে নির্বাচন ভবনে ষষ্ঠ কমিশন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
জামায়াতের নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার আলাদলতের আদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, 'প্রতীকের বিষয়টি আমরা বিবেচনায় নিয়ে নিয়েছি। একই প্রজ্ঞাপনে ২০০৮ সালে দলটিকে প্রতীকসহ নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতীক কোনো দলকে দিলে সেটি সেই দলের জন্য সংরক্ষিত থাকে আরপিও অনুযায়ী। দলটি প্রতীকসহ নিবন্ধন পাবে।'
ইসি বলেন, 'আদালতের একটি ফুল কোর্ট সভা সিদ্ধান্ত এবং সেটার আলোকে এই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকটি বাতিল করা হয় ২০১৬ সালে। এটি ছিল একটি প্রশাসনিক পত্র। যেটা রেজিস্ট্রারের মাধ্যেমে তদানীন্তন নির্বাচন কমিশন পেয়েছেন এবং সেটার আলোকে এ ব্যবস্থা নিয়েছিল।'
তিনি বলেন, 'কিন্তু আমাদের সামনে জামায়াতে ইসলামের যে আবেদন ছিল সে আবেদনের সঙ্গে একটি রিট পিটিশন এবং তার আদেশ আমাদের কাছে এসেছে। সেটাতে রিট পিটিশন করা হয়েছে ২০০৬ এ। এটাতে দাড়িপাল্লা যাতে কোনো দলের দালীও প্রতীক না হতে পারে যেহেতু এটা আদালত একটি ন্যায় বিচারকের প্রতীক এই মর্মে একটি আপিল দাখিল করা হয়েছিল।'
মো. সানাউল্লাহ বলেন, 'সেই আপিলটা সেই সময় আদালত খারিজ করে দেন এবং এখানে তারা বলেছেন এটি নির্বাচিন প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করার কারণে কোনোভাবেই এটা আদালতের মান ক্ষুন্ন করবে না। এ রায়টি আমাদের জানা মতে এখনও বলবৎ আছে।'
তিনি বলেন, 'এই সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামের দাঁড়ীপাল্লা প্রতীক ফিরে পাবে। অর্থাৎ, তারা তাদের দলীও প্রতীক ও নিবন্ধন ফেরত পাবে।'
ইসি বলেন, 'তবে দলীও প্রতীকটি পেতে একটু সময় লাগবে। একটু দাপ্তরিক প্রক্রিয়া আছে, এসআরও করতে হবে একটু সময় লাগবে। তারপর আমরা বরাজনৈতিক দলের জন্য প্রতীক আরও বাড়াচ্ছি।'
তিনি বলেন, 'আমাদের ৬৯টি প্রতীক আছে এটাকে ১০০টি প্রতীকে নিতে চাই আমরা। এই পুরোকাজ এক সঙ্গে হবে।'
মো. সানাউল্লাহ বলেন, গত ১ জুন আপিল বিভাগ ২০১৩ সালের হাইকোর্টের একটি রায়ের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর দলটির নিবন্ধন যে বাতিল করেছিল, সেটাকে পূর্বাপর অবস্থায় ফেরত নেওয়ার ব্যপারে নির্দেশনা দিয়েছেন। আদেশের কপি অতিসত্বর নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে বলেছেন এবং ব্যবস্থা নিতে বলেছেন বিধায় এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। অতিসত্বর জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধন ফিরে পাবে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।'
তিনি বলেন, 'পাশপাশি জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে আমাদের কাছে একটি আবেদন করেছেন, তারা চান তাদের দাঁড়িপাল্লা যে দলীয় প্রতীকটি ছিল সেটিও যেন ফেরত পান। আমরা এটা নিয়েও বিশদ আলোচনা করেছি।'
এ ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে এ প্রশ্নের জবাবে ইসি বলেন, '২০১৩ সালে জামায়াতের দলীয় নিবন্ধনের সঙ্গে যে প্রতীকটি ছিল সেটা বিবেচনায় ছিল, নিবন্ধন প্রজ্ঞাপনা যেটা দেওয়া হয়েছিল ৫ নভেম্বর ২০০৮ সালে সেই নিবন্ধন প্রজ্ঞাপনে নিবন্ধনের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা দেওয়া হয়েছিল একই প্রজ্ঞাপনে মধ্যে।'
তিনি বলেন, 'এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০ এব চ-১ খ এ বলা আছে, কোনো রাজনৈতিক দলকে কোনো প্রতীক দিলে তা সংরক্ষিত রাখতে হবে। এসব বিবেচনায় আমরা নিয়েছি।'
