পর্যটন বন্ধ থাকায় প্রাণ ফিরেছে সুন্দরবনে
করোনায় দীর্ঘ মাস বন্ধ থাকার পর সবুজে ভরে উঠেছে সুন্দরবন। দেখা মিলছে পশু পাখি। আম্ফানের ক্ষতি কাটিয়ে সুন্দরী, গেওয়া, গরানের বনে এখন সবুজের সমারোহ। বিচরণ বেড়েছে হরিণ, ডলফিনসহ বন্য প্রাণীদের। পশ্চিম সুন্দরবনের মুন্সীগঞ্জ, কলাগাছিয়া, কটকা, হিরোনপয়েন্ট, হাড়বাড়িয়া, আন্ধারমানিকসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলো দীর্ঘ বিশ্রামে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
সুন্দরবনে জীবিকা আহরণকারী জেলে-বাওয়ালী মৌয়ালরা বলছেন, সুন্দরবনে আগের তুলনায় পশুপাখি অনেক বেশী চোঁখে পড়ছে। খোলপেটুয়া নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ডলফিনের দেখা মিলছে। যেটি কখনও কল্পনাও করা যায়নি। এমনকি নদী-খালে মিলছে চিংড়ি, দাতিনা, ভোলা, পারশেসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। সাত মাস ছিল পর্যটক শুন্য। ফলে প্রকৃতি নিজের মত নিজেকে গুছিয়ে নিতে পেরেছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান জানান, এ অ লের অনেক মানুষের জীবন চলে সুন্দরবনে পর্যটকদের দ্বারা। ব্যবসা বানিজ্য বা ট্রলার ভাড়া দিয়ে চলে অনেকের জীবিকা। সেটি করোনাকালে স্থবির হয়ে পড়েছিল। দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন চোঁখে না পড়লেও সুন্দরবনে জলদস্যু-বনদস্যুর আনোগোনা অনেকটা কম দেখা যাচ্ছে।
গত ২০ মে সংগঠিত ঘূর্নিঝড় আম্ফানের আঘাতে পশ্চিম সুন্দরবনের প্রায় সাড়ে ১২ হাজার সুন্দরী, গেওয়া, গরানসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্থ ওইসব গাছগুলি নতুনভাবে বেড়ে উঠেছে নতুন ডালে। ক্ষত কাটিয়ে অনেকটা স্বাভাবিক করে তুলেছে সুন্দরবনকে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক এম.এ হাসান বলেন, ২৯ মার্চ থেকে ১নভেম্বর পর্যন্ত করোনার কারনে সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। দীর্ঘ সাত মাস পর্যটক বন্ধ থাকায় স্বাভাবিকভাবে মাছ, পাখি, ডলফিন, হরিণের আনাগোনা অনেক বেড়েছে। প্রাণিকুল নীরব পরিবেশ পছন্দ করে। নীরব পরিবেশ পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই তারা নিজেদের মত করে বেড়ে উঠতে পেরেছে। দীর্ঘ সময় পর্যটক না যাওয়ায় নদী দুষণ থেকে রক্ষা পেয়েছে।
তিনি বলেন, পর্যটকরা নদীতে পানির বোতল, ওয়ানটাইম প্লেট, খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ ফেলে দেয়। সেগুলো থেকে সুন্দরবনের নদীর পরিবেশ নষ্ট করে। দীর্ঘদিন পর্যটক নিষিদ্ধ থাকায় এসব থেকে রক্ষা পেয়েছে পরিবেশ। এখন সুন্দরবনের মধ্যে ছোট ছোট নদীগুলিতেও ঝাঁকে ঝাঁকে ডলফিনের দেখা মিলছে। গাছপালাগুলোও প্রাকৃতিক নিয়মে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবমিলিয়ে এক মনোরম পরিবেশ তৈরী হয়েছে সুন্দরবনে।
