বিলাসবহুল গাড়ি ও সাজসজ্জায় ব্যয় কমানোর নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের
ব্যাংকের টাকায় পর্ষদ চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহীসহ অন্য পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনা নিরুৎসাহিত করতে সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে ব্যাংক শাখাগুলোর সাজসজ্জার ব্যয় কমিয়ে আনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক, প্রধান নির্বাহীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বিলাসবহুল মোটরগাড়ি ক্রয়, ব্যাংকের গাড়ির যথেচ্ছ ব্যবহার, ঢাকার বাইরে পরিচালনা পর্ষদ ও পর্ষদের সহায়ক বিভিন্ন কমিটির সভা করে টাকার অপচয় করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, ব্যবসা উন্নয়নের নামে ব্যাংকগুলোর বাহুল্য খরচ ও বিলাসী আপ্যায়নের বিষয়টিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে এসেছে।
এই প্রবণতা ঠেকাতে সেডান কার সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা এবং স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেলের সবোচ্চ দাম ১ কোটি টাকার মধ্যে হবার নিদেশ দেওয়া হয়েছে। অবশ্য এর আগে ২০১৪ সালে জারি করা সার্কলারেও একই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
অন্য কোনো ব্যাংক কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লিজ ফাইন্যান্সিং সুবিধা নিয়েও কোনো মোটরগাড়ি সংগ্রহ করা যাবে না। তবে রেমিট্যান্স বহনে বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার ব্যবহৃত যানবাহন লিজ সুবিধায় কেনা যাবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, ব্যাংকের টাকায় কেনা পরিবহন বহরে যানবাহনের সংখ্যা-বৃদ্ধি ব্যাংকের জনবল ও শাখা সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। এ খাতে ব্যয়ের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি শতকরা ১০ ভাগের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।
সাধারণভাবে পর্ষদ চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর জন্য সার্বক্ষণিক গাড়িসহ সব যানবাহন অন্তত ৫ বছর ব্যবহারের পর প্রতিস্থাপনযোগ্য হবে। ব্যাংকের মোটরযান বহনের ব্যবহার ও পরিচালনা ব্যয়ের তথ্য ষান্মাসিকভাবে পরিচালনা পর্ষদের সভায় এবং প্রত্যেক বার্ষিক সাধারণ সভায় অবগতি ও পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপন করতে হবে।
সার্কুলারে সাজসজ্জার বিষয়ে বলা হয়েছে, এখন থেকে নতুন শাখা স্থাপন বা শাখা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে শহর শাখার জন্য ৬ হাজার বর্গফুট ও পল্লী শাখার জন্য ৩ হাজার বর্গফুটের বেশি ফ্লোর স্পেস ব্যবহার করা যাবে না।
আইটি সরঞ্জাম ছাড়া অন্যান্য খাতে (ভল্ট স্থাপন, ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন, অফিস ফার্নিচার, ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক ইত্যাদি) নতুন শাখা স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটের জন্য এক হাজার ৮৫০ টাকার বেশি ব্যয় করা যাবে না। ওদিকে, শাখা স্থানাস্তরের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটের জন্য এক হাজার ২৫০ টাকার বেশি ব্যয় করা যাবে না।
আইটি সরঞ্জাম বাবদ ব্যয়ও যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখতে হবে। তবে আসবাবাদি ও অন্যান্য সরঞ্জামে বিলাসিতা বা চাকচিক্যের পরিবর্তে মৌলিক প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে আসবাবের গুণগত মান বজায় রাখা ও সেগুলো টেকসই হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, বিজ্ঞাপন, ব্রান্ডিংয়ের নামে অতিরিক্ত খরচ পরিহার করার কথাও সার্কুলারে বলা হয়েছে।
