করোনাকে 'কুং ফ্লু' নামে ডাকলেন ট্রাম্প
করোনাভাইরাসের নাম নিয়ে আবারো বর্ণবাদী কটূক্তি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার ওকলাহামা রাজ্যের টুলসায় নির্বাচনী র্যালিতে অংশ নেওয়ার সময় তিনি এই ভাইরাসকে 'কুং ফ্লু' বলে চীন বিদ্বেষ প্রকাশ করেন।
মার্শাল আর্ট বা হাতাহাতি লড়াইয়ের কৌশল কুংফু'র জন্ম চীনে। বিষয়টি পপ কালচারের দৌলতে অধিকাংশ মার্কিনীই জানেন। তাই বিদ্বেষ প্রকাশে এমন নাম বেছে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গত শনিবার টুলসার র্যালিতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার জন্য ফের চীনের প্রতি অভিযোগের আঙ্গুল তুলে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, প্লেগের মতো এই মহামারি চীন পাঠিয়েছে। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন কোভিড-১৯। কিন্তু, এই নামের সমস্যা হচ্ছে এর মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার জন্য যে চীন দায়ি তা স্পষ্ট বোঝা যায় না। অর্থাৎ, বাস্তবতাকে দূরে সরিয়ে রাখতেই এমন নামকরণ। অথচ এর নাম হওয়া উচিৎ ছিল চাইনিজ ভাইরাস। এই ভাইরাসের আসলে অনেক নাম। ইতিহাসে কোনো ভাইরাসের এত নাম ছিল না। আমিও কয়েকটি নাম বলতে পারি। যেমন ধরুন- কুং ফ্লু।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যে নির্বাচনী সভায় অংশ নেওয়ারা হেসে ফেলেন। এসময় তাদের অনেককেই 'শ্বেতাঙ্গ হওয়া দোষণীয় কিছু নয়' এমন লেখা সম্বলিত টিশার্ট পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে যখন 'কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনেরও মূল্য আছে' এমন স্লোগান উঠছে ঠিক তখনই ট্রাম্পের অনুকরণে তার সমর্থকরা শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ ধরে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের এমন বর্ণবাদী বিশেষণ তার ঘোর সমর্থক বলে পরিচিত অন্যতম রাজনৈতিক উপদেষ্টা কেলিন কনওয়েকে এর আগেও ক্ষুদ্ধ করেছিল। গত মার্চে তিনি সাংবাদিকদের কাছে করোনাভাইরাসের এমন নাম দেওয়াকে 'খুবই অশোভন' আচরণ বলে উল্লেখ করেন। সে সময় হোয়াইট হাউজের একজন অজ্ঞাত কর্মকর্তা করোনাভাইরাসকে চায়না ভাইরাস বলেছিলেন, ট্রাম্পকে অনুসরণ করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উপদেষ্টা সে সময় বলেছিলেন, তার স্বামী জর্জ কনওয়ে একজন ফিলিপিনো বংশদ্ভুত এশীয়, যিনি ট্রাম্পকে খুবই পছন্দ করেন। মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে আসা এমন অশোভন উক্তি এশীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ উস্কে দেবে।
শনিবারের র্যালির পরেই ট্রাম্পের প্রতি বিদ্রূপ করে একটি টুইট বার্তা দেন কেলিনের স্বামী জর্জ। টুইটে একের পর এক এলোমেলো শব্দ লিখে ট্রাম্প যে অসংলগ্ন প্রলাপ বকেছেন এমন ইঙ্গিত দেন তিনি।
গত মার্চে নিজ উক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর, ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় এশীয়-আমেরিকান নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছিলেন। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার দায় তাদের নয় বলেও তিনি সংযুক্ত আরেক বার্তায় উল্লেখ করেন।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক নেতারা অনেক আগে থেকেই কোভিড-১৯'কে ট্রাম্প যেভাবে 'চীনা রোগ' বলে অবহিত করছেন তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে আসছেন।
মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা-বংশোদ্ভুত মার্কিন নাগরিক সংগঠনের এক প্রভাবশালী সদস্য এবং মেগাটয়েজ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী চার্লি উ- এসময় বলেন, এ সঙ্কট মোকাবিলায় আমাদের বিজ্ঞানের সহায়তা দরকার। সরকারি কর্মকর্তাদের তরফে অহেতুক ভীতি, ঘৃণা আর বর্ণবাদী বিদ্বেষ ছড়িয়ে এর সমাধান করা যাবে না।
'মহামারি মোকাবিলায় বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তবেই সফলতা আসবে' যোগ করেন তিনি।
এশীয় বংশোদ্ভুত মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে সে সময় সহিংস ও বিদ্বেষী আচরণের ঘটনাও ঘটে। এর প্রেক্ষিতে মার্চের শেষ দিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে করোনাভাইরাসকে আর চীনা ভাইরাস বলবেন না এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
