মার্কিন-সৌদি পরমাণু চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ ইসরায়েলের, মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা উসকে দেওয়ার আশঙ্কা
মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে ইসরায়েল।
বুধবার ঘোষিত এই চুক্তি এখনো মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো সৌদি আরবকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নের সুযোগ করে দেওয়া।
এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই চুক্তি ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য হুমকি তৈরি করছে।
নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেন, 'ইসরায়েলকে পাশ কাটিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে যে পারমাণবিক চুক্তি করা হচ্ছে, তা গুরুতর কৌশলগত ব্যর্থতা। এটি আমাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।'
তিনি আরও বলেন, 'সৌদি ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ আঞ্চলিক পারমাণবিক প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে। এতে নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।'
সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যান বলেন, 'সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্রে রূপ নিতে পারে। এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু করবে।'
তিনি বলেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই এই চুক্তির বিরোধিতা করতে হবে। পাশাপাশি চুক্তি ঠেকাতে মার্কিন কংগ্রেসে তদবির চালাতে হবে। কারণ ইসরায়েলের কাছেই মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়।
সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ও কয়েক বছর ধরে আলোচনা হয়েছে।
তবে এখনো কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। এর অন্যতম কারণ ছিল পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সতর্কবার্তা। এসব সংগঠন বলেছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগিয়ে যেতে পারে।
ইসরায়েলিরাও আশা করেছিল, সৌদি আরবের সঙ্গে যেকোনো চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার অংশ হবে। বাইডেনের পরিকল্পনাতেও এমন উদ্যোগের কথা ছিল।
সাবেক প্রতিরক্ষা প্রধান বেনি গ্যান্টজ বলেন, 'এমন কোনো নিরাপত্তা কর্মকর্তা নেই, যিনি বলবেন যে আঞ্চলিক একটি মধ্যপন্থী জোট গঠনের অংশ না করে সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক সক্ষমতা চালু করা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য ভালো পদক্ষেপ।'
