পাসপোর্ট সূচকে ভারতের অবনতি, নামিবিয়া-উজবেকিস্তানের চেয়েও পিছিয়ে
২০২৬ সালের বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকের (জিপিআই) ষষ্ঠ সংস্করণে ১৯৭টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১২৫তম। গত বছরের তুলনায় দেশটির অবস্থান এক ধাপ পিছিয়েছে।
২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর ভারতের অবস্থান ছিল ১২৭তম। গত বছর তা সামান্য উন্নতি হয়ে ১২৪তম অবস্থানে পৌঁছেছিল।
সূচকে ভারতের এক ধাপ ওপরে রয়েছে নামিবিয়া। এছাড়া ফিলিপাইন, মরক্কো ও উজবেকিস্তানও ভারতের চেয়ে এগিয়ে। ভারতের এক ধাপ নিচে রয়েছে আজারবাইজান। এছাড়া সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৬ তম এবং পাকিস্তানের অবস্থান ১৮৮তম।
বেসরকারি বৈশ্বিক চলাচলবিষয়ক পরামর্শক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল সিটিজেন সল্যুশনস (জিসিএস) এ র্যাংকিং প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বৈশ্বিক চলাচলের সুযোগ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও জীবনমানসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে একটি পাসপোর্টের সামগ্রিক শক্তি মূল্যায়ন করে।
র্যাংকিং নির্ধারণে জিসিএস ১৫টি সূচক ব্যবহার করে, যা তিনটি মূল স্তম্ভে বিভক্ত।
প্রথমটি হলো এনহ্যান্সড মোবিলিটি ইনডেক্স (৫০ শতাংশ)। এতে ভিসা সুবিধা এবং পাসপোর্টধারীর দেশের জীবনমানের ভিত্তিতে বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করা হয়।
দ্বিতীয়টি হলো ইনভেস্টমেন্ট ইনডেক্স (২৫ শতাংশ)। এতে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সূচক, মোট জাতীয় আয় (জিএনআই) এবং ব্যক্তিগত আয়করের হার বিবেচনা করা হয়।
তৃতীয়টি হলো কোয়ালিটি অব লাইফ (২৫ শতাংশ)। এতে টেকসই উন্নয়ন, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সুখ সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়।
ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় ৮৮টি দেশে প্রবেশের জন্য ভিসা প্রয়োজন।
সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, পাসপোর্ট একটি ভ্রমণ নথি, নাগরিকত্বের নথি নয়। এ মন্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
ভারত সরকারের পাসপোর্ট নির্দেশিকায় পাসপোর্টকে পরিচয় ও ভ্রমণ নথি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা 'ধারকের জাতীয়তার প্রমাণ দেয়'।
একই সঙ্গে সেখানে বলা হয়েছে, আইনের ২০ ধারার আওতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরকার অ-নাগরিকদেরও পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি দিতে পারে।
এ বিতর্ক নিয়ে দ্য ওয়্যারে প্রকাশিত এক মন্তব্যে ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস. ওয়াই. কুরেশি এবং সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মদন বি. লোকুর লিখেছেন, 'আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো ব্যক্তিকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে—এর সবচেয়ে শক্তিশালী ও কর্তৃত্বপূর্ণ সরকারি প্রমাণ হলো পাসপোর্ট।'
তালিকার শীর্ষে রয়েছে সুইডেন। এরপর আছে সুইজারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড। জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্ক যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে। আফগানিস্তান রয়েছে তালিকার শেষ স্থানে।
