তিন দেশের সঙ্গে ইউক্রেনের নতুন ‘ড্রোন চুক্তি’ সই
রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অংশ হিসেবে ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া এবং নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে আরও তিনটি 'ড্রোন চুক্তি' সই করেছে ইউক্রেন। গত মঙ্গলবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে এই চুক্তির কথা ঘোষণা করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানান, এ নিয়ে কিয়েভ এখন পর্যন্ত মোট নয়টি এমন চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর সময় এ খাতে কিয়েভের সীমিত অভিজ্ঞতা ছিল। তবে পরবর্তীতে তারা অত্যন্ত উন্নত ও পরিশীলিত একটি ড্রোন শিল্প গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এই ড্রোন চুক্তিগুলোর প্রচারণায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সফর করেছেন জেলেনস্কি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে, যেখানে চলতি বছর উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানি হামলা মোকাবিলা করতে হয়েছিল।
ডেনমার্কের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে জেলেনস্কি বলেন, এই চুক্তি 'যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অস্ত্র রপ্তানিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও বড় সুযোগ উন্মোচন করবে।'
তিনি বলেন, ডেনমার্কই প্রথম দেশ যারা ইউক্রেনে যৌথ উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছিল। জেলেনস্কি আরও যোগ করেন, 'এটি সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত যে ডেনমার্ক এখন ইউক্রেনের যুদ্ধে পরীক্ষিত অস্ত্রের রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার পাবে।'
সম্মেলনের প্রথম দিনের বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন 'ন্যায্যভাবেই এই জোটের অংশ।' তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই সম্মেলনে কিয়েভের মূল লক্ষ্য হলো 'আরও বেশি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করা।'
গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের রাজধানীতে রাশিয়ার দুটি বড় ধরনের বিমান হামলার পর রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন জেলেনস্কি। গত সোমবার কিয়েভে হওয়া সর্বশেষ রুশ হামলায় ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
