আমি মার্কিন সহায়তা নেওয়া বন্ধ করতে চাই; এটা অনেকটা ‘দানের’ মতো: নেতানিয়াহু
ইরান নীতি নিয়ে তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন তীব্র টানাপোড়েন চলছে, এমন সময় ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন আর্থিক সহায়তাকে 'দানের' সঙ্গে তুলনা করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে ধাপে ধাপে এই সহায়তা গ্রহণ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে চান তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-এ সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, 'আমি মার্কিন সহায়া বন্ধ করতে চাই। এটা অনেকটা দানের মতো। আমি এই সাহায্য চাই না।'
তার দাবি, ইসরায়েলের অর্থনীতি এখন আর আগের মতো ছোট নেই; নিজেদের ব্যয় স্বাধীনভাবে মেটানোর পূর্ণ সক্ষমতা এখন তাদের রয়েছে।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, 'আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় মার্কিন অর্থায়নের পরিমাণ নিতান্তই নগণ্য। এখন ইসরায়েলের নিজস্ব সম্পদ থেকেই এই পুরো অর্থ মেটানোর মতো যথেষ্ট আর্থিক জোর রয়েছে।'
ইসরায়েলের কি সত্যিই মার্কিন সাহায্য নেওয়া বন্ধ করা উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, 'হ্যাঁ।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি ১০ বছরের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা চাইছি, যার মাধ্যমে আমেরিকার ওপর ইসরায়েলের এই নির্ভরতা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা যাবে।'
নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের অর্থনীতি এখন ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষায়। ফলে আগামী বছর থেকেই নিজেদের যাবতীয় আর্থিক চাহিদা তারা নিজেরাই মেটাতে পারবে।
এর আগে গত ১১ মে সিবিএসের জনপ্রিয় 'সিক্সটি মিনিটস' অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও নেতানিয়াহু বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কের বিষয়টি ইসরায়েলের নতুন করে ভেবে দেখা উচিত।
ওই সময়ে তিনি বলেছিলেন, 'অবশ্যই। এই কথাটা আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও বলেছি। আমাদের দেশের মানুষকেও বলেছি।' তার মতে, এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হওয়া উচিত এবং আগামী এক দশক ধরে তা চালিয়ে যাওয়া প্রজন।
২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ১০ বছর মেয়াদি চুক্তি সই হয়। ২০১৯ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর এই চুক্তির অধীনে ইসরায়েলকে মোট প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক ও সহায়তা দেওয়ার কথা আমেরিকার।
কিন্তু ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ও দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক নিয়ে সম্প্রতি তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের আলোচনায় ট্রাম্প প্রশাসন তেল আবিবকে কার্যত সাইডলাইনে ফেলে রেখেছিল এবং ইসরায়েলের স্বার্থকে পুরোপুরি বিবেচনায় নেয়নি।
