‘সমঝোতা স্মারক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র, চাপে রাখা হচ্ছে ইরানকে’
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা একটি 'ডোমিনো এফেক্টে'র [একটি ঘটনার জেরে ধারাবাহিক ঘটনা] সূত্রপাত করতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে সংঘাতকে চূড়ান্ত উত্তেজনার দিকে নিয়ে যাবে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
হাসান আহমাদিয়ান মনে করেন, এই সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করবে। তিনি বলেন, 'আমি মনে করি আমরা একটি চরম উত্তেজনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। কারণ, এটি স্পষ্ট যে ইরানিরা এই হামলার পাল্টা জবাব দেবে।'
দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, প্রথম ৬০ দিন ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করবে। এরপর ইরান ও ওমান যৌথভাবে এই নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব পালন করবে।'
আহমাদিয়ানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজের সই করা সেই সমঝোতা স্মারকের তোয়াক্কা না করে নতুন কোনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে চাইছে। তিনি বলেন, 'আমরা যা দেখছি তা হলো—যুক্তরাষ্ট্র এই সমঝোতা স্মারক থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে, অথচ তারা ইরানকে চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলতে বাধ্য করছে।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, লেবাননেও একটি নতুন ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির মধ্যস্থতা করার সময় যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের আচরণ করেছিল।
ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করে এই অধ্যাপক বলেন, ইরানিরা এই বিষয়টি সহজে ছেড়ে দেবে না। তেহরান চায় কেবল বাণিজ্যিক জাহাজগুলোই এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করুক। ফলে যে সব জাহাজ আগে থেকে সমন্বয় করবে না, সেগুলোকে সামরিক জাহাজ বা সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। ইরানিরা তাদের জলসীমায় এমন কিছু চায় না।
হাসান আহমাদিয়ান বলেন, 'নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি তাদের (ইরান) মাধ্যমেই আয়োজিত হওয়া এবং দুই মাস কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের অনড় অবস্থানের পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে। তাই আমি মনে করি না যে ইরান পিছিয়ে আসবে। বরং যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তেজনা অব্যাহত রাখে, তবে ইরানও পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা আরও জোরদার করবে।'
