হোয়াটসঅ্যাপের নতুন প্রধান হলেন ভারতীয় উদ্যোক্তা কুনাল শাহ
দীর্ঘদিনের প্রধান উইল ক্যাথকার্টের বিদায়ের পর হোয়াটসঅ্যাপের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এনেছে মেটা। ক্যাথকার্টের পদত্যাগের পর তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ভারতীয় ফিনটেক স্টার্টআপ 'ক্রেড'-এর প্রতিষ্ঠাতা কুনাল শাহ। সোমবার কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কিছুদিন আগেও কুনাল শাহ নামটি মূলত ভারতের স্টার্টআপ এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। 'ক্রেড'-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি ব্যবসায়িক মহলে পরিচিতি পেলেও, এখন হোয়াটসঅ্যাপের প্রধান হিসেবে তার নিয়োগ তাকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
মেটা ইতোমধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপে ৯০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এটি এখন আর কেবল মেসেজিং অ্যাপ হিসেবে নয়, বরং পেমেন্ট, ব্যবসায়িক সেবা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত বিভিন্ন পণ্যের মাধ্যমে নিজেদের বড় করতে চাইছে।
বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শীর্ষ পদে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের দেখা পাওয়া গেলেও, ভারতের নিজস্ব স্টার্টআপ পরিবেশ থেকে উঠে আসা কোনো উদ্যোক্তাকে এত বড় গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনা বেশ বিরল। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী ৩০০ কোটিরও বেশি।
মুম্বাইয়ে বড় হওয়া কুনাল শাহর শিক্ষাজীবন আর দশটা সফল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠাতার মতো ছিল না। তিনি কোনো নামী ইঞ্জিনিয়ারিং বা ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করেননি, বরং কলেজে তার পড়ার বিষয় ছিল দর্শনশাস্ত্র। পরবর্তীতে এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, দর্শনশাস্ত্র বেছে নেওয়ার প্রধান কারণ ছিল সকালের ক্লাসের সূচি, যাতে পরিবারের ব্যবসায়িক সংকটের সময় তিনি সারাদিন কাজ করতে পারেন।
কুনাল শাহর প্রথম বড় সাফল্য আসে ২০১০ সালে 'ফ্রিচার্জ' নামক একটি মোবাইল রিচার্জ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। ২০১৫ সালে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপডিল বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে এটি কিনে নেয়। এরপর ২০১৮ সালে তিনি শুরু করেন 'ক্রেড'। এই অ্যাপটি মূলত ক্রেডিট কার্ডের বিল সময়মতো পরিশোধের জন্য মানুষকে পুরস্কৃত করত। পরবর্তীতে এটি ঋণদান, বিমা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো খাতেও বিস্তার লাভ করে।
মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ কুনাল শাহর এই নিয়োগ প্রসঙ্গে তার 'নির্মাণ মানসিকতা' এবং 'বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গির' প্রশংসা করেছেন।
স্টার্টআপ পলিসি ফোরামের প্রধান নির্বাহী শ্বেতা রাজপাল কোহলি কয়েক বছর ধরে নীতিগত বিষয়গুলোতে কুনাল শাহর সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, 'তার (কুনাল) সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের প্রবৃত্তি সবসময়ই অত্যন্ত বিস্ময়কর।'
বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াটসঅ্যাপ এখন মেসেজিংয়ের বাইরে পেমেন্ট এবং কমার্স বা বাণিজ্যের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। কুনাল শাহ গত এক দশকে এই খাতেই বিনিয়োগ এবং পরামর্শ দিয়ে এসেছেন।
এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপের সবচেয়ে বড় বাজার হলো ভারত, যা কুনাল শাহর কর্মজীবনের কেন্দ্রবিন্দু। প্রথম ভারতীয় হিসেবে তিনি এখন হোয়াটসঅ্যাপের হাল ধরছেন।
কুনাল শাহর সামনে এখন নতুন ধরণের চ্যালেঞ্জ। ক্রেড অ্যাপে তিনি কাজ করতেন মূলত আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং নির্দিষ্ট একটি ছোট গোষ্ঠীর গ্রাহকদের নিয়ে। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপের জগৎ অনেক বড়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান—সবার আস্থার জায়গা হয়ে ওঠা এবং অ্যাপটিকে একটি বাণিজ্যিক শক্তিতে রূপান্তর করাই হবে তার প্রধান কাজ।
