‘মেয়েটি আপনার জন্য উপহার’: তরুণীদের কাছে পৌঁছাতে যেভাবে ফ্যাশন জগতকে কাজে লাগাতেন এপস্টিন
একের পর এক ইমেইলে, প্রতিভার সন্ধানে বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ানো মডেলিং স্কাউট বা তথ্য সংগ্রহকারীরা এক অপ্রত্যাশিত প্রাপকের সাথে নতুন নতুন তথ্য বিনিময় করতেন। সেই অপ্রত্যাশিত প্রাপক হলেন জেফরি এপস্টিন, যার এই শিল্পে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা নেই। তিনি বর্তমানে একজন সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী।
একজন স্কাউট এক সম্ভাবনাময় মডেলকে 'একজন সুন্দরী ফরাসি মেয়ে' বলে বর্ণনা করে লিখেছিলেন, সে 'আপনার সঙ্গে দেখা করতে পেরে খুশি হবে'। একই সঙ্গে তিনি জানান, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী সম্ভাব্য মডেলদের একটি দল 'আগামী বছরের জন্য প্রস্তুত থাকবে'।
আরেকজন নিয়োগকারী ১৯ বছর বয়সী এক রুশ তরুণীর প্রশংসা করে জানান, তিনি 'ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত'। অন্য একজন আরেক তরুণী মডেলকে 'সেরা মেয়ে' বলে অভিহিত করেন।
তিনি লিখেছিলেন, 'সে এমন একটি উপহার, যাকে আমি আপনাকে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম।'
তবে এই ব্যক্তিরা একা ছিলেন না, যারা অপমানিত ও কুখ্যাত এই অর্থলগ্নিকারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের পর্যালোচনা করা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত বিপুল নথিপত্রে এপস্টিনের সঙ্গে মডেলিং শিল্পের অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিদের সম্পর্কের গভীরতা সম্পর্কে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। এদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন এজেন্সির নির্বাহী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং নিয়োগকারীরা।
নথিগুলো এমন একটি পারস্পরিক স্বার্থনির্ভর সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরে, যেখানে এপস্টিন অর্থ, পেশাগত যোগাযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে সহায়তা দিতেন। অন্যদিকে মডেলিং জগতের কিছু ব্যক্তি তাকে তরুণী ও বিদেশি নারীদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতেন—যাদের অনেকেই পরে অভিযোগ করেন যে এপস্টিন তাদের যৌন নির্যাতন করেছিলেন।
এপস্টিন ২০০৮ সালে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও মডেলিং শিল্পের কিছু ব্যক্তি তার সঙ্গে নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। তারা তাকে ফ্যাশন-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতেন এবং নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ দিতেন। ফলে এপস্টিন এমন এক ভাবমূর্তি লাভ করেন, যেন তিনি সেই নির্বাহী ব্যক্তি, যিনি কোনো মডেলের ক্যারিয়ার গড়ে দিতে বা ধ্বংস করে দিতে পারেন।
সিএনএন এমন ইমেইল পর্যালোচনা করেছে, যেগুলোতে দেখা যায় অন্তত ছয়জন শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বারবার এই নিবন্ধিত যৌন অপরাধীর সঙ্গে তরুণী মডেলদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিছু বার্তায় যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষা ছিল, আবার কিছু বার্তা ছিল পেশাগত মডেলিং রেফারেলের মতো। নথিগুলোতে আরও দেখা যায়, শিল্পজগতের আরও বহু ব্যক্তি এপস্টিনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।
এপস্টিনের কিছু সহযোগীর বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগও আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছিলেন ফরাসি মডেল এজেন্ট জ্যঁ-লুক ব্রুনেল, যাকে এপস্টিনের এক পরিচিত ভুক্তভোগী নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিলেন। ২০২০ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্যারিসের একটি কারাগারে তিনি আত্মহত্যা করেন। তবে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছিলেন।
বিচার বিভাগের নথিতে উল্লেখিত অন্য অনেক মডেলিং-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি এবং তারা এপস্টিনের অপরাধ সম্পর্কে জানার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাদের অনেকেই বলেছেন, ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের সাবেক মালিকের সঙ্গে এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তারা তাকে ফ্যাশন জগতের একজন বৈধ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বলে মনে করতেন। একসময় এপস্টিন ওই ব্যবসায়ীর আর্থিক বিষয়ও দেখাশোনা করতেন।
পেশাদার মডেল নিয়োগকারী ড্যানিয়েল সিয়াদ একাধিক মডেলের সঙ্গে এপস্টিনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন নারী সিএনএনকে জানান যে এপস্টিন তাদের নির্যাতন করেছিলেন।
এক সাক্ষাৎকারে সিয়াদ বলেন, ওই নারীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন—এমন কিছু বিশ্বাস করার কোনো কারণ তার ছিল না। তিনি বলেন, এপস্টিন তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তিনি তার অপরাধের জন্য শাস্তি ভোগ করেছেন এবং সিয়াদের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া কারও সঙ্গে 'এমন কিছু আর কখনও ঘটবে না'।
সিয়াদ বলেন, 'আমি যাদের তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম, তাদের মধ্যে কেউই পরে এসে আমাকে বলেনি যে তাদের সঙ্গে কোনো খারাপ ঘটনা ঘটেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি বিশ্বাস করতাম এই ব্যক্তি একজন পেশাদার মানুষ।'
তবে বিচার বিভাগের নথিপত্র ইঙ্গিত দেয় যে সিয়াদ হয়তো জানতেন, তিনি শুধু মডেলিংয়ের সুযোগের জন্য তরুণীদের এপস্টিনের কাছে পাঠাচ্ছিলেন না।
২০১৮ সালের এক বার্তায় তিনি লিখেছিলেন যে তিনি এপস্টিনের জন্য 'সুদর্শনা তরুণী সহকারী' খুঁজছেন।
তিনি বিভিন্ন সফরে দেখা হওয়া তরুণীদের ছবিও নিয়মিত এপস্টিনকে পাঠাতেন, যাদের মধ্যে কিছু ছবিতে আবেদনময়ী ভঙ্গি ছিল।
সিয়াদ বলেন, পরে ফিরে তাকালে তার মনে হয় এপস্টিন ছিলেন একজন 'রূপ বদলাতে পারদর্শী মানুষ', যিনি তাকে প্রতারিত করেছিলেন।
তার ভাষায়, এপস্টিনকে তার কাছে একজন কাস্টিং পরিচালক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি এপস্টিন আলাদাভাবে একজন সহকারী খুঁজে পেতে তার সাহায্যও চেয়েছিলেন।
মডেলিং শিল্পের সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্ক বর্তমানে আইনপ্রণেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তদন্তের অংশ।
প্যারিসে এ বছর শুরু হওয়া একটি ফৌজদারি তদন্তেও সিয়াদ-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে প্যারিসের প্রধান কৌঁসুলি জানিয়েছেন।
দুই সাবেক মডেল সিএনএনকে জানান, তারা ওই তদন্তের অংশ হিসেবে সিয়াদ সম্পর্কে তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে সিয়াদ সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অধিকারকর্মীরা বলছেন, এসব তদন্ত এমন একটি শিল্পে বহুদিনের প্রতীক্ষিত জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে, যে শিল্প দশকের পর দশক তরুণী মডেলদের যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো উপেক্ষা করে এসেছে।
মডেল অ্যালায়েন্স নামের অধিকারভিত্তিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সারা জিফ বলেন, 'কিছু ক্ষেত্রে মডেলিং শিল্প আসলে মানবপাচারের আড়াল হিসেবে কাজ করে। আমার মনে হয় ব্যবসার সর্বোচ্চ স্তরেও এমন ঘটনা ঘটে থাকে।'
তিনি আরও বলেন, ফ্যাশন জগত এপস্টিনের নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ডে কীভাবে এবং কতটা ভূমিকা রেখেছিল, সে বিষয়ে আরও গভীর তদন্ত হওয়া উচিত।
'আমার স্বপ্ন সত্যি করে দিন'
যৌন অপরাধের কারণে এপস্টিনের নাম শিরোনামে আসার বহু আগে থেকেই তিনি একজন রহস্যময় অর্থলগ্নিকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার সবচেয়ে পরিচিত ক্লায়েন্ট ছিলেন ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের মালিক লেস ওয়েক্সনার। ১৯৮০-এর দশকে ওয়েক্সনার তাকে নিজের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করেছিলেন।
ওয়েক্সনারের সঙ্গে এই সম্পর্ক, ফ্যাশন শোগুলোতে নিয়মিত উপস্থিতি এবং তরুণী মডেলদের সঙ্গে নিজেকে ঘিরে রাখার অভ্যাস—সব মিলিয়ে এপস্টিনকে মডেলিং শিল্পের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছিল।
তবে বাস্তবে এপস্টিনের মডেলিং শিল্পে কোনো আনুষ্ঠানিক পদ বা ভূমিকা ছিল না। অথচ বিচার বিভাগের নথিপত্রে দেখা যায়, বহু উদীয়মান মডেল পেশাগত যোগাযোগ বা মুখে মুখে প্রচারিত তথ্যের মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছেছিলেন।
মডেলিং জগতের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে এপস্টিন নারীদের শোষণ করছিলেন—এমন অভিযোগের প্রথম দিকের একটি উল্লেখ পাওয়া যায় ১৯৯৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় দায়ের হওয়া একটি পুলিশ প্রতিবেদনে।
এক নারী তদন্তকারীদের বলেন, এপস্টিন যখন তাকে পোশাক খুলতে বলেন, তখন তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে এপস্টিন তাকে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের অন্তর্বাসের ক্যাটালগে কাজ পাইয়ে দিতে পারবেন।
পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, 'সে সময় এপস্টিন নিজেই তার ব্লাউজ ওপরে তুলতে এবং স্কার্ট টেনে ওপরে উঠাতে সহায়তা করেন এবং তার নিতম্বে হাত দেন।'
তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এপস্টিনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করেনি।
কয়েক বছর পরে, ২০০০-এর দশকের শুরুতে, এপস্টিন এক দক্ষিণ আফ্রিকান নারীকে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে রাজি করান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তার মডেলিং ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সাহায্য করবেন।
ওই নারী, জুলিয়েট ব্রায়ান্ট, সিএনএনকে বলেন যে পরে এপস্টিন তাকে নির্যাতন করেছিলেন।
জুলিয়েট বলেন, 'তিনি বলেছিলেন যে তিনি আমার স্বপ্ন সত্যি করে দেবেন, কিন্তু তিনি সেটিকে এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছিলেন।'
তিনি আরও বলেন, এপস্টিন কখনও তাকে কোনো মডেলিং কাজ পেতে সাহায্য করেননি।
ফরাসি মডেল এজেন্ট জ্যঁ-লুক ব্রুনেলের সঙ্গে বন্ধুত্বের মাধ্যমে এপস্টিন মডেলিং শিল্পের সঙ্গে আরও সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
ব্রুনেল দীর্ঘদিন ধরে এপস্টিনের সঙ্গে বিভিন্ন পার্টিতে অংশ নিতেন এবং প্রায়ই তার ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করতেন।
প্রায় ২০০৫ সালের দিকে এপস্টিন ব্রুনেলকে ১০ লাখ ডলারের ঋণসুবিধা দেন, যা ব্যবহার করে তিনি এমসি২ মডেল ম্যানেজমেন্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
এর আগেই ব্রুনেলের বিরুদ্ধে মডেলদের মাদক প্রয়োগ করে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল।
তবে তখনও তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা হয়নি এবং তিনি মডেলিং শিল্পে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ছিল 'বুটিক এজেন্সির পরিবেশে উচ্চমানের ফ্যাশন মডেলদের প্রতিনিধিত্ব করা'।
তবে একাধিক সাবেক মডেলের সাক্ষ্য ও সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, এপস্টিন মাঝে মাঝে এই প্রতিষ্ঠানটিকে তরুণী নারীদের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করতেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে তিনি পরে নির্যাতন করেন।
রুশ বংশোদ্ভূত মডেল স্বেতলানা পোজিদায়েভা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজ করতেন। কখনও কখনও তিনি দিনে দুই হাজার থেকে তিন হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতেন। কিন্তু তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও বড় সাফল্য অর্জনের আশা করেছিলেন।
তিনি সিএনএনকে বলেন, প্যারিসভিত্তিক নিয়োগকারী ড্যানিয়েল সিয়াদ তাকে এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
এপস্টিন তাকে প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি নিউইয়র্কের মডেলিং জগতে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করবেন। তিনি এমসি২-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। কিন্তু তার ক্যারিয়ার এগোয়নি। অনেক সময় তিনি সপ্তাহে মাত্র একটি কাজ পেতেন, যার পারিশ্রমিক ছিল কয়েকশ ডলার।
তিনি বলেন, পরে তিনি এপস্টিনের ব্যক্তিগত সহকারী হয়ে যান। তার দাবি, তিনি বাস্তবে খুব সামান্য কাজই করতেন। বরং বছরের পর বছর তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
পোজিদায়েভার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মডেল হিসেবে কাজ না করলেও এমসি২ তার ভিসার স্পনসরশিপ চালিয়ে যায়। কারণ তখন তিনি এপস্টিনের জন্য কাজ করছিলেন।
তিনি বলেন, 'আমি জানতাম যে চাকরির ক্ষেত্রে আমার অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তারা জানত যে আমি তার জন্য কাজ করছি, তারপরও তারা আমার ভিসা নবায়ন করে যাচ্ছিল। নিশ্চিতভাবেই তাদের মধ্যে কোনো ধরনের সমঝোতা ছিল।'
বিচার বিভাগের নথিপত্র তার কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত দাবির কিছু সমর্থন দেয়।
ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, এপস্টিন এবং তার হিসাবরক্ষক ব্রুনেল ও এমসি২-এর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেফ ফুলারের সঙ্গে পোজিদায়েভাকে নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
পরে ওই হিসাবরক্ষক তাকে 'ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর' বিষয়ে ফুলারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
ফুলারের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি।
এমসি২-এর আরেক সাবেক মডেল গত মে-তে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের এক শুনানিতে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি তার জীবনের 'প্রতিটি দিক' নিয়ন্ত্রণ করত।
তিনি আরও বলেন, উজবেকিস্তান থেকে নিয়োগের পর তাকে এপস্টিনের বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল।
এমসি২-এর তৃতীয় এক সাবেক মডেল সিএনএনকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা, যার মধ্যে ফুলারও ছিলেন, এপস্টিনকে ঘিরে নানা সতর্ক সংকেত দেখতে পাওয়ার কথা।
বিশেষ করে তিনি দাবি করেন, এপস্টিন নিউইয়র্কে কিছু মডেলকে নিজের মালিকানাধীন একটি অ্যাপার্টমেন্টে রাখতেন।
তিনি বলেন, ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এপস্টিন তাকে যৌনভাবে স্পর্শ করেছিলেন।
২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়েকে যৌন ব্যবসায় যুক্ত করার অভিযোগে এপস্টিন দোষ স্বীকার করার পর প্রকাশ্যে ফুলার এমসি২-কে এপস্টিন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন।
প্রথম গ্রেপ্তারের পর তিনি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেছিলেন, 'আমাদের প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এপস্টিনের কোনো সম্পর্ক নেই।'
কিন্তু নথিপত্রে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ঋণ পরিশোধের প্রচেষ্টার সময় ফুলার এপস্টিনের হিসাবরক্ষকের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন।
আর্থিক বিষয় নিয়ে ব্রুনেলকে পাঠানো এক ইমেইলে ফুলার লিখেছিলেন, তার ধারণা তারা সম্ভবত এপস্টিনের 'সৌজন্যকে সীমার অতিরিক্ত ব্যবহার' করেছেন।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফুলার জোর দিয়ে বলেন, তিনি কখনও এপস্টিন সম্পর্কে কোনো অভিযোগ শোনেননি বা এমসি২-এর মডেলদের ওপর নির্যাতনের কোনো লক্ষণ দেখেননি।
তিনি বলেন, 'আমি কখনও এমন কিছু দেখিনি। আমি নিজেও একজন অভিভাবক, আমার দুই মেয়ে রয়েছে। আমি বহু বছর ধরে এই শিল্পে আছি। কেউ যদি কখনও এসে আমাকে বলত যে তারা কোনো আপত্তিকর বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে চলে যেতাম।'
ফুলার আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটির জন্য এপস্টিনের আর্থিক সহায়তার গুরুত্ব অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে।
পোজিদায়েভার ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে এপস্টিন প্রতিষ্ঠানের সহায়তা ব্যবহার করেছিলেন—এমন কোনো বিষয় তার জানা ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, 'আমি বুকিং বিভাগের দায়িত্বে ছিলাম এবং বাস্তবে খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে ছিল না। আমি সত্যিই দুঃখিত যে কেউ কিছু বলেনি।'
অন্যদিকে যে সাবেক এমসি২ মডেল অভিযোগ করেন যে এপস্টিন তাকে নির্যাতন করেছিলেন, তিনি ফুলারের এই ব্যাখ্যা বিশ্বাস করা কঠিন বলে মন্তব্য করেন।
প্রতিশোধের আশঙ্কায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, 'চোখ বন্ধ করে রাখা যায়, কিন্তু আসলে কী ঘটছিল সে সম্পর্কে তার কিছুই জানা ছিল না—এটা বিশ্বাস করা আমার জন্য খুব কঠিন।'
'আমি সবসময় তোমাকে ভালোবাসব'
ফ্লোরিডায় এপস্টিনের দণ্ডাদেশের পরও ফ্যাশন জগতের বহু ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন বলে ইমেইলগুলোতে দেখা যায়।
২০০৯ সালে প্রভাবশালী মডেলিং এজেন্সি নেক্সট ম্যানেজমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফেইথ কেটস এপস্টিনকে লিখেছিলেন, 'আমি সবসময় তোমাকে ভালোবাসব এবং তোমার পাশে থাকব।'
কেটস বারবার এপস্টিনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
ফ্লোরিডায় কারাদণ্ড ভোগ করার সময় এপস্টিন এক নারীর কর্মভিসা সম্পর্কে খোঁজ নিতে কেটসকে অনুরোধ করেন। প্রকাশিত ইমেইলে ওই নারীর নাম গোপন রাখা হয়েছে।
কেটস জবাবে লিখেছিলেন, 'আমি বিষয়টি দেখছি।'
পরবর্তী বছরগুলোতে কেটস এপস্টিনকে একটি লাটভীয় মডেলের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিলেন।
তিনি কারও স্তন বৃদ্ধির অস্ত্রোপচারের জন্য একজন চিকিৎসকের সুপারিশ করেছিলেন। এছাড়া তিনি এপস্টিনের জন্য ফ্যাশন শোর টিকিটের ব্যবস্থা করেন।
এপস্টিন তাকে 'আমার নতুন সহকারী'র জন্য নজর রাখতে বলার পর তিনি এক নারীর নামও পাঠিয়ে দেন।
ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, এই সহায়তা ছিল দুই পক্ষের মধ্যেই।
এপস্টিন কেটসকে একটি 'অসাধারণ সুন্দর' প্রাডা ব্যাগ উপহার দিয়েছিলেন। তিনি তাকে ব্যবসায়িক পরামর্শ দিতেন।
তৎকালীন প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে কেনাকাটা করতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন মডেলকে কেটসের কাছে সুপারিশও করতেন।
কেটসের এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, 'এপস্টিন ছিলেন একজন অত্যন্ত দক্ষ কৌশলী ও মানুষকে প্রভাবিত করতে ওস্তাদ। তার আশপাশের মানুষ কেবল সেটুকুই জানত, যতটুকু তিনি তাদের জানতে দিতে চাইতেন। মিস কেটসও এপস্টিনের দ্বারা মারাত্মকভাবে বিভ্রান্ত হওয়া ব্যক্তিদের একজন ছিলেন।'
কেটসের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি।
বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক
যেসব মডেল অভিযোগ করেছেন যে এপস্টিন তাদের নির্যাতন করেছিলেন, তাদের অনেকেই বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।
বিচার বিভাগের নথিগুলো নতুনভাবে স্পষ্ট করেছে, কীভাবে এপস্টিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের নিয়োগকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে একটি আন্তর্জাতিক মডেলিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছিলেন।
নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার জন্য কাজ করার বিনিময়ে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে তিনি সরাসরি অর্থও প্রদান করতেন।
২০১৩ সালে ভিক্টোরিয়া হাউজ নামের এক নারী এপস্টিনকে লিখেছিলেন, 'আমি মেয়েদের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে পারি।'
ইমেইলে তিনি নিজেকে প্যারিসভিত্তিক হিসেবে পরিচয় দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তিনি নেক্সটসহ বিভিন্ন মডেলিং এজেন্সির জন্য মডেল খুঁজে দেওয়ার কাজ করেছেন।
হাউজ বারবার এপস্টিনকে কিশোরী বয়সের শেষভাগ বা বিশের কোঠার শুরুর দিকের তরুণী মডেলদের তথ্য পাঠাতেন।
নেক্সট এক বিবৃতিতে জানায়, হাউজ কখনও তাদের জন্য মডেল খোঁজার কাজ করেননি।
একটি বার্তায় হাউজ এমন এক মডেলের তথ্য পাঠান, যাকে তিনি নেক্সটের মডেল বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন যে ওই মডেল অন্তর্বাসের বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন।
সেই বার্তায় তিনি লেখেন, 'আপনি যেদিন চান, আমি তাকে নিয়ে আসতে পারি।'
আরেকটি ইমেইলে তিনি এক তরুণীকে পরিচয় করিয়ে দেন, যাকে তিনি চার বা পাঁচ বছর আগে ১৪ বছর বয়সে আবিষ্কার করেছিলেন বলে জানান।
তিনি লেখেন, 'তার ব্যক্তিত্ব খুবই ভালো, আমি তাকে খুব পছন্দ করি।'
হাউজ সিএনএনের মন্তব্যের অনুরোধের তিনি কোনো জবাব দেননি। তার বিরুদ্ধেও কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি।
নথিপত্রে উল্লেখ নেই যে এপস্টিন ওই মডেলদের কারও সঙ্গে দেখা করেছিলেন কি না।
তবে নথিতে দেখা যায়, এপস্টিন হাউজকে কয়েক হাজার ডলার পাঠিয়েছিলেন, যা 'উপহার' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
প্যারিসভিত্তিক নিয়োগকারী ড্যানিয়েল সিয়াদও এপস্টিনের নিয়মিত যোগাযোগকারীদের একজন ছিলেন। ২০১৪ সালে এপস্টিন তাকে লিখেছিলেন, 'মেয়েদের বিস্তারিত তথ্য আমাকে পাঠাও।'
সিয়াদ নিয়মিতভাবে ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভ্রমণের সময় পরিচিত হওয়া তরুণীদের ছবি এপস্টিনকে পাঠাতেন।
ইমেইল অনুযায়ী, এর আগে সিয়াদ ব্রুনেলের জন্য মডেল সংগ্রহের একটি চুক্তিতে কাজ করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি সরাসরি এপস্টিনের কাছ থেকে অর্থ পেতে শুরু করেন।
২০১০-এর দশকে এসব অর্থপ্রদানের মোট পরিমাণ কয়েক দশ হাজার ডলারে পৌঁছায়।
ডয়েচে ব্যাংক এপস্টিন ও সিয়াদের মধ্যকার কিছু লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তুললে এপস্টিনের হিসাবরক্ষক সেগুলোকে ফটোগ্রাফি-সংক্রান্ত পারিশ্রমিক এবং ঋণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
সাধারণভাবে এপস্টিনের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিয়াদ সিএনএনকে বলেন, এগুলো ছিল মডেল খোঁজার পারিশ্রমিক।
সিয়াদ শুধু ছবি পাঠিয়েই থেমে থাকেননি। তিনি তরুণীদের সঙ্গে এপস্টিনের ভিডিও কল এবং সরাসরি সাক্ষাতের ব্যবস্থাও করেছিলেন। তবে সিয়াদের পাঠানো সব প্রস্তাব এপস্টিন পছন্দ করতেন না।
এক তরুণীর ছবি দেখে, যাকে সিয়াদ 'সম্ভাবনাময় মডেল বা সহকারী' বলে বর্ণনা করেছিলেন, এপস্টিন জবাবে লিখেছিলেন, 'বয়স বেশি।' অন্যদের ক্ষেত্রে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করতেন।
সাবেক মডেল স্বেতলানা পোজিদায়েভা বলেন, প্যারিসের একটি মডেলিং এজেন্সিতে তার সঙ্গে সিয়াদের পরিচয় হয়েছিল।
তিনি বলেন, সিয়াদসহ মডেলিং শিল্পের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে এপস্টিনকে বিশ্বাস করতে উৎসাহিত করেছিল।
পোজিদায়েভা বলেন, 'তার ছিল মডেল স্কাউট, আলোকচিত্রী এবং মডেলিং এজেন্সির মালিকদের এক বিশাল বাহিনী। তিনি পুরো একটি ব্যবস্থাই গড়ে তুলেছিলেন।'
বিচার বিভাগের নথিতে দেখা যায়, সিয়াদও একসময় ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নজরে আসেন।
একটি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ব্রুনেল সিয়াদকে এপস্টিনের 'নিয়োগকারী' হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন।
প্যারিসে তার আইনজীবীর কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিয়াদ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন যে তিনি এপস্টিনের নির্যাতনের বিষয়টি জানতেন।
তিনি বলেন, 'তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না।'
সিয়াদ আরও বলেন, 'আমি অনেক দেরিতে বুঝতে পেরেছিলাম যে এই মানুষটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।'
তিনি বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার জন্য এখন তিনি গভীর অনুশোচনা বোধ করেন।
তার ভাষায়, 'এখন যখন আমি জানি যে একজন দানব হিসেবে সে কী করেছে, তখন তা বর্ণনা করার মতো ভাষা আমার নেই। আমি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত।'
তদন্ত ও নজরদারি অব্যাহত
এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশের পর তার সঙ্গে মডেলিং জগতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
একই সঙ্গে মডেল ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শিল্পখাতে আরও সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন।
গত বছরের শেষ দিকে ফেইথ কেটস নেক্সট ম্যানেজমেন্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। ঠিক সেই সময় সরকার এপস্টিনের ইমেইলগুলো প্রকাশ করা শুরু করেছিল।
তার অবসর ঘোষণায় একটি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে চলমান কাজের কথা উল্লেখ করা হয়।
সেখানে তিনি লিখেছিলেন যে সমাজকে আরও কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি 'পিছিয়ে দাঁড়াতে' চান।
নেক্সট জানিয়েছে, কেটসের এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান নেতৃত্বের অজানা ছিল।
তবে নথিপত্রে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা এপস্টিনের হিসাবরক্ষকের সঙ্গে ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে ইমেইল আদান-প্রদান করেছিলেন এবং ফোনেও কথা বলেছিলেন।
এছাড়া এপস্টিন একবার নেক্সটের হয়ে কাজ করা একজন হিসাবরক্ষকের সঙ্গে আলোচনায়ও অংশ নিয়েছিলেন।
নেক্সট সিএনএনকে জানায়, ওই সহপ্রতিষ্ঠাতা কখনও এপস্টিনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেননি বা তার সঙ্গে যোগাযোগও করেননি।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তিনি জানতেনও না যে ওই হিসাবরক্ষক এপস্টিনের হয়ে কাজ করতেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা এপস্টিন-সংক্রান্ত বিষয়টি থেকে এগিয়ে যেতে চাইলেও অন্য কিছু অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে যেসব দেশে এপস্টিন মডেলিং জগতের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন, সেসব স্থানের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্যারিস প্রসিকিউটর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, সেখানে তদন্ত এখনও চলমান।
সাবেক মডেল এব্বা কার্লসন সিএনএনকে বলেন, তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে প্যারিস পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সেই অভিযোগে তিনি ড্যানিয়েল সিয়াদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং মানবপাচারের অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, পরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদন্তকারীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
কার্লসন বলেন, 'এখন আমি অপেক্ষা করছি ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থা তাদের কাজ সম্পন্ন করবে। আমরা অনেক বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করে আসছি।'
কার্লসনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিয়াদ বলেন, তিনি ওই নারীকে মনে করতে পারছেন না।
তিনি বলেন, 'আমি আমার জীবনে কখনও কোনো মডেলকে নির্যাতন করিনি।'
গোপনীয়তার স্বার্থে নিজের শেষ নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো আরেক সাবেক ফরাসি মডেল জুলিয়েটও সিএনএনকে বলেন যে তিনি প্যারিসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন।
তিনি জানান, ২০০৪ সালে ফ্রান্সে তার সঙ্গে সিয়াদের পরিচয় হয়। পরে সিয়াদ তাকে নিউইয়র্কে এপস্টিনের কাছে পাঠান।
জুলিয়েটের অভিযোগ, এক বৈঠকে এপস্টিন তাকে যৌনভাবে স্পর্শ করেছিলেন।
সেই বৈঠকে এপস্টিন তাকে বলেছিলেন, মডেলিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আগে তাকে নিজের শারীরিক গঠন আরও উন্নত করতে হবে। এদিকে অপেক্ষার সময় তিনি তাকে সঙ্গদানের কাজের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।
বর্তমানে অতীতের ঘটনাগুলো ফিরে দেখলে জুলিয়েটের মনে হয়, মডেলিং শিল্পের অনেক আগেই এপস্টিনকে একজন শিকারি হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত ছিল।
তার মতে, শিল্পখাতের মানুষের উচিত ছিল তাকে থামিয়ে দেওয়া। তবে তিনি বলেন, মডেলিং জগতে এপস্টিন একমাত্র নির্যাতনকারী ছিলেন না।
তিনি বলেন, 'এপস্টিন ছিল কেবল সেইসব বিপদের একটি, যেগুলোর মুখোমুখি আমাকে হতে হতো।'
তার বক্তব্য ইঙ্গিত করে যে মডেলিং জগতের কিছু অংশে তরুণী নারীদের শোষণ ও নির্যাতনের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান ছিল। এবং এপস্টিনের ঘটনা সেই বৃহত্তর সমস্যারই একটি বহুল আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
