Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Sunday
July 05, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
SUNDAY, JULY 05, 2026
মজুরি কমছে, বাড়ছে বৈষম্য: মার্কিন নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের নেপথ্যে যে কারণ

আন্তর্জাতিক

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
13 June, 2026, 08:35 pm
Last modified: 13 June, 2026, 08:45 pm

Related News

  • ‘৮ যুদ্ধ মিটমাট করেছি, তবু নোবেল পেলাম না’: যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প
  • যুক্তরাষ্ট্রের চাপে খামেনির জানাজায় অংশ নেয়নি অন্তত ১৩ দেশ: ইরানি গণমাধ্যম
  • নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমার বোঝাপড়া চমৎকার, ও জানে ‘আসল বস কে’: ট্রাম্প
  • ২৫০ বছরে আমেরিকা: একই সঙ্গে জৌলুস আর অবক্ষয়ের দোলাচল
  • আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার

মজুরি কমছে, বাড়ছে বৈষম্য: মার্কিন নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের নেপথ্যে যে কারণ

এই চরম বৈপরীত্যই ব্যাখ্যা করছে, কেন একের পর এক জনমত জরিপে অনেক মার্কিন নাগরিক বলছেন যে আমেরিকার অর্থনীতি আর তাদের পক্ষে কাজ করছে না।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
13 June, 2026, 08:35 pm
Last modified: 13 June, 2026, 08:45 pm

গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্কের টাইম স্কয়াদের দৃশ্য, এদিনই বাজারে আসে ইলন মাস্কের স্পেস এক্স- এর আইপিও। ছবি: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

গত সপ্তাহের দুটি ঘটনা মার্কিন অর্থনীতির এক অদ্ভুত ও বিপরীতমুখী ঘটনাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। গত বুধবার দেশটির ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জ্বালানির উচ্চ মূল্যের ধাক্কায় সাধারণ মার্কিন শ্রমিকদের গত দেড় বছরের অর্জিত মজুরি বৃদ্ধি এক নিমেষেই মুছে গেছে। অন্যদিকে, ঠিক তার দুদিন পর শুক্রবার শেয়ার বাজারে স্পেসএক্স-এর রাজকীয় অভিষেকের মধ্য দিয়ে ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম 'ট্রিলিয়নেয়ার' বা লাখো কোটিপতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

এই চরম বৈপরীত্যই ব্যাখ্যা করছে, কেন একের পর এক জনমত জরিপে অনেক মার্কিন নাগরিক বলছেন যে আমেরিকার অর্থনীতি আর তাদের পক্ষে কাজ করছে না। যখন গুটিকয়েক মানুষ অবিশ্বাস্য এবং কল্পনাতীত সম্পদের মালিক হচ্ছেন, ঠিক তখনই সাধারণ পরিবারের পুরো একটি প্রজন্ম এই দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে যে তারা কখনো নিজের একটা বাড়ি কিনতে পারবে কি না, সন্তান লালন-পালন করতে পারবে কি না, কিংবা অবসরের পর একটি স্বস্তিদায়ক জীবন উপভোগ করতে পারবে কি না।

জনমত নিয়ে গবেষণাকারী হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফানি স্ট্যান্টচেভা বলেন, "আমি মনে করি না যে পুঁজিবাজারই মার্কিনীদের অর্থনৈতিক হতাশার একমাত্র কারণ। তবে মানুষ যখন পুঁজিবাজারের দিকে তাকায়, তখন তারা নিশ্চিতভাবেই এমনটা ভাবে না যে—'দারুণ, এর মানে হলো আমিও খুব ভালো করতে যাচ্ছি।' বরং এটি সম্ভবত তাদের মনে এই অনুভূতিকে আরও উসকে দিচ্ছে যে—'আমি দিন দিন পিছিয়ে পড়ছি।'"

আমেরিকায় বৈষম্য কোনো নতুন বিষয় নয়। তবে সমাজের একেবারে শীর্ষস্তরের মানুষের কাছে সম্পদের এই অভাবনীয় বিস্ফোরণ মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন। ফরাসি অর্থনীতিবিদ গ্যাব্রিয়েল জুকম্যান এবং ইমানুয়েল সায়েজের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯ শতকের শেষের দিকে 'গিল্ডেড এজ' বা স্বর্ণযুগের চরম শিখরে আমেরিকার মুষ্টিমেয় শীর্ষ ধনীদের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল দেশটির মোট বার্ষিক উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ শতাংশের সমতুল্য। অথচ আজ সেই একই অনুপাতের ১ শতাংশ বা মাত্র ২০ জন ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ দেশের বার্ষিক উৎপাদনের প্রায় চার গুণ বা ১২ শতাংশের সমান।

অন্যান্য অর্থনীতিবিদেরা ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে কিছুটা ভিন্ন পরিসংখ্যানের কথা বললেও, এই মৌলিক সত্যটি নিয়ে সবাই একমত যে—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুষ্টিমেয় কয়েকজন শীর্ষ ধনী অসাধারণ মাত্রায় সম্পদ অর্জন করেছেন।

তবে এই শ্রেণির বাইরে বাকি ৯৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের সামগ্রিক চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন ও জটিল। আমেরিকার অর্ধেকেরও বেশি পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে (অবসরকালীন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে) পুঁজিবাজারের সাথে যুক্ত, যার অর্থ হলো শেয়ারের রেকর্ড সৃষ্টিকারী মূল্যবৃদ্ধি থেকে তারা অন্তত কিছুটা হলেও উপকৃত হয়েছেন। ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য দেখাচ্ছে, গত এক দশকে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর সম্পদ ধনীদের তুলনায় ধীরগতিতে বাড়লেও, তা একেবারে স্থবির ছিল না, বরং বেড়েছে।

তা সত্ত্বেও, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের কাছে 'সম্পদ' হলো একটি অস্পষ্ট ধারণা, যা কেবল তাদের থাকার বাড়ি এবং এমন অবসরকালীন ব্যাংক হিসাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ—যা তারা যতদিন সম্ভব না ছুঁয়ে রেখে দিতে চান। দৈনন্দিন জীবনের ক্ষেত্রে তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের নিয়মিত আয়। অথচ গত কয়েক দশক ধরে শ্রমিকদের পকেটে যাওয়া জাতীয় আয়ের অংশ ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (কোয়ার্টার) এটি ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।

বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি শ্রমিক বা কর্মী শ্রেণির বেতনের বড় একটি অংশ গ্রাস করছে। ইরানের সাথে যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে সম্প্রতি জ্বালানির দামের আকস্মিক উল্লম্ফন—মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হারকে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতির সাথে সমন্বয় করার পর দেখা যায়, শ্রমিকদের ঘণ্টার ভিত্তির মজুরি টানা তিন মাস ধরে কমেছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে অর্জিত সমস্ত অগ্রগতিকে মুছে দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে ভোক্তাদের আত্মবিশ্বাসের সূচকও নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

অবশ্য ইরানের একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির আশায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে এবং পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালী হয়ে বিপুল সংখ্যায় তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল শুরু করে, তবে এই দাম আরও কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিন্তু বছরের পর বছর ধরে একটার পর একটা অর্থনৈতিক ধাক্কা খাওয়ার পর – কেবল জ্বালানি তেলের দাম কমলেই মার্কিনীদের গভীর উদ্বেগ দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রথমে কোভিড-১৯ মহামারী অর্থনীতির বড় অংশকে অচল করে দিয়েছিল এবং সাময়িকভাবে হলেও কোটি কোটি মার্কিনীকে বেকারত্বের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। এরপর মূল্যস্ফীতি চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তারপর থেকে উচ্চ সুদের হার, শুল্কের বোঝা এবং বারবার মন্দার আশঙ্কা সহ্য করতে হচ্ছে মার্কিন নাগরিকদের।

বামপন্থী থিংক ট্যাংক রুজভেল্ট ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট এলিজাবেথ উইলকিন্স বলেন, "প্রথমে কোভিড, তারপর মূল্যস্ফীতি এবং এর সাথে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার অনুভূতি কেমন ছিল তা যদি আপনি ভাবেন, তবে এসব পরিস্থিতি পার করার পর আপনার মনে এই প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক যে—'এমন পরিস্থিতিতে আমি কীভাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করব?'"

হার্ভার্ডের অর্থনীতিবিদ স্ট্যান্টচেভা গবেষণায় পেয়েছেন যে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধাক্কা ভোক্তাদের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি কেবল তাদের বাজেটের ওপর চাপের কারণেই নয়, বরং এটি তাদের কাছে চরম অন্যায় বলে মনে হয়—কারণ ধনীরা খুব সহজেই বাড়তি দামের সাথে মানিয়ে নিতে পারে, অন্যদিকে কম আয়ের পরিবারগুলোকে টিকে থাকার জন্য মারাত্মক সংগ্রাম করতে হয়। "এটি সমাজে একটি বড় ধরনের অসমতা এবং অবিচারের ধারণার জন্ম দেয়," তিনি বলেন।

এআই-এর জয়যাত্রা বনাম চাকরি সংকট

এখন মার্কিন নাগরিকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও এক নতুন হুমকির মুখোমুখি হচ্ছেন, যা হোয়াইট কলার বা দাপ্তরিক চাকরিগুলোর পুরো একটি বড় অংশকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে বলে প্রযুক্তিখাতের শীর্ষ নেতারা সতর্ক করছেন। অনেক অর্থনীতিবিদ অবশ্য এসব ভবিষ্যদ্বাণীর বিষয়ে সন্দিহান, তবে জনমত জরিপগুলো দেখাচ্ছে যে বহু কর্মী তাদের কর্মজীবনের ওপর এই প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত। এছাড়া বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি, পানি সরবরাহ ও বায়ুর মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে, দেশটির বিভিন্ন প্রান্তের ভোটাররা তাদের এলাকায় এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এই ধরনের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে, এআই-এর জয়যাত্রার সাথে সাথে সম্পদের যে অভূতপূর্ব পাহাড় গড়ে উঠছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে অসন্তোষ দানা বাঁধাটা মোটেও আশ্চর্যজনক নয়। এই প্রযুক্তির সাথে যুক্ত কোম্পানিগুলোই মূলত সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে শেয়ারদরের ব্যাপক উত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছে। শুক্রবার স্পেসএক্স-এর আত্মপ্রকাশ ছিল এআই কোম্পানিগুলোর বিশাল আইপিও বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের প্রথম ধাপ। স্পেসএক্স মূলত রকেট এবং স্যাটেলাইটের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত হলেও, তাদের নিজস্ব একটি এআই ল্যাব রয়েছে এবং তারা এআই অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে।

ইলন মাস্ককে ট্রিলিয়নেয়ার বানানোর পাশাপাশি, এই স্পেসএক্স-এর আইপিও একাই আরও হাজার হাজার নতুন মিলিওনেয়ার এবং বেশ কয়েকজন বিলিয়নেয়ার তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শীর্ষ উপদেষ্টা এবং কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলের অর্থনীতিবিদ গ্লেন হাববার্ড বলেন, "বর্তমানে সুপার-রিচ বা অতিধনী প্রযুক্তি মোগলদের অনেকেই এই বলে পরিস্থিতি নিজেদের বিপক্ষে নিয়ে যাচ্ছেন যে—'আমার উদ্ভাবন আপনাদের জীবনকে ধ্বংস বা ওলটপালট করে দেবে।' তাই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে একটি তীব্র প্রতিক্রিয়া বা ব্যাকল্যাশের আশঙ্কা করা মোটেও অমূলক নয়।"

হাববার্ড আরও বলেন, বিলিয়নেয়ার বা এমনকি ট্রিলিয়নেয়ারদের অস্তিত্ব নিয়ে তার নীতিগত কোনো সমস্যা নেই, যতক্ষণ না পর্যন্ত মানুষ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা রাজনৈতিক সুবিধার পরিবর্তে নিজস্ব উদ্যোক্তা মানসিকতা এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে ধনী হচ্ছে। তবে তিনি মনে করেন নীতিনির্ধারকদের উচিত জনগণের এই মনোভাবকে গুরুত্বের সাথে নেওয়া। তার মতে, কংগ্রেসের উচিত বিলিয়নেয়ারদের ওপর আরও কার্যকরভাবে কর আরোপের উপায় নিয়ে ভাবা এবং অতিধনীরা যাতে রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর অনৈতিক প্রভাব খাটাতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

তবে প্রগতিশীল অর্থনীতিবিদদের অনেকে যুক্তি দেন, ইলন মাস্কের মতো বিপুল পরিমাণ সম্পদের পাহাড় স্বভাবগতভাবেই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় ব্যবস্থাকে বিকৃত বা কলুষিত করে। এটি অতিধনীদের সরকারি নিয়ন্ত্রণ, কর ফাঁকি এবং জবাবদিহিতা এড়ানোর অনেক সুযোগ তৈরি করে দেয়।

বৈষম্য নিয়ে গবেষণাকারী ফরাসি পণ্ডিত গ্যাব্রিয়েল জুকম্যান বলেন, "এটি বাজারকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা, এটি প্রতিযোগীদের কিনে নেওয়ার ক্ষমতা এবং এটি নীতিনির্ধারণকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা। আপনি যদি একটি সুশৃঙ্খল ও কার্যকর বাজার অর্থনীতি চান, তবে সমাজের একদম শীর্ষস্তরে চরম সম্পদের সাথে ক্ষমতার এমন অতি-কেন্দ্রীকরণ মোটেও শুভ লক্ষণ নয়। এটি বাজারকে বিকৃত করে, এটি গণতন্ত্রকেও ধ্বংস করে।"

এআই বুদবুদ ও ভবিষ্যৎ সংকট

এআই-এর এই জোয়ার বা জোয়ারের উন্মাদনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কিছু বিশ্লেষক সন্দিহান যে স্পেসএক্স এবং অন্যান্য কোম্পানিগুলো তাদের আকাশচুম্বী বাজার মূল্যায়নের যৌক্তিকতা প্রমাণ করার মতো মুনাফা অর্জন করতে পারবে কি না। যদি এই সংশয়বাদীদের ধারণাই সত্যি হয়, তবে শেয়ারের দাম নাটকীয়ভাবে কমে যেতে পারে এবং ইলন মাস্কের এই ট্রিলিয়নেয়ারের মর্যাদাও হয়তো স্বল্পস্থায়ী প্রমাণিত হতে পারে।

কিন্তু এই ধরনের পতন সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জন্যও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এআই-সংক্রান্ত বিনিয়োগগুলো এই অস্থির সময়ে মার্কিন অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে বড় সাহায্য করেছে; মজুরি বৃদ্ধি যখন থমকে গেছে, তখন শেয়ার বাজারের এই চাঙ্গা ভাব সাধারণ মানুষের খরচ করার ক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। এআই-এর এই বুদবুদ যদি ফেটে যায়, তাহলে ডেটা সেন্টারের ওয়্যারিং করা ইলেকট্রিশিয়ান থেকে শুরু করে অভিজাত রেস্তোরাঁয় ধনী বিনিয়োগকারীদের সেবা দেওয়া ওয়েটার—সব স্তরের লাখ লাখ মার্কিনীর চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে। একই সাথে এর ফলে অবসরকালীন অ্যাকাউন্ট এবং কলেজ সেভিং প্ল্যানে থাকা সাধারণ মানুষের লাখো কোটি ডলারের কাগুজে সম্পদ (অর্থাৎ তাদের ধারণ করা বন্ড বা শেয়ারমূল্য) এক নিমেষেই কর্পূরের মতো উড়ে যাবে।

এই ঘটনা এআই প্রযুক্তিকে সাধারণ কর্মীদের জন্য এক ধরনের 'ক্যাচ-২২' বা উভয়সংকটময় পরিস্থিতিতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে: এই প্রযুক্তি যদি অর্থনীতি পুনর্গঠনে সফল হয়, তবে কর্মীরা চাকরি হারাতে পারে; আর যদি এটি তার প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে সাধারণ মানুষের অবসর জীবনের সঞ্চয় ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।

বাইডেন প্রশাসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের ওপর বই লেখা হিথার বাউশে বলেন, এত সব সংকটের পর অনেক মার্কিন নাগরিক যদি মনে করেন যে এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে, তবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

তিনি বলেন, "এটা স্পষ্ট যে আমাদের অর্থনীতি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যা কেবল মুষ্টিমেয় কয়েকজন বিলিয়নেয়ার এবং একজন ট্রিলিয়নেয়ার তৈরি করতে পারে। এটি এখন আর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য সুযোগ এবং স্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে কাজ করছে না।"

Related Topics

টপ নিউজ

যুক্তরাষ্ট্র / অর্থনীতি / মজুরি / সম্পদ বৈষম্য

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • একটি বিভার। ছবি: সিবিসি
    বন্যা সমস্যার সমাধানে ৪০০ বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া এক প্রাণীকে ফিরিয়ে এনেছে এই শহর
  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩,০০০ কোটি টাকা ফেরত দিতে পারছে না আইসিবি, গ্যারান্টির মেয়াদ আরও ৩ বছর বাড়ানোর আবেদন
    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩,০০০ কোটি টাকা ফেরত দিতে পারছে না আইসিবি, গ্যারান্টির মেয়াদ আরও ৩ বছর বাড়ানোর আবেদন
  • পাকিস্তানের উদ্দেশে যাত্রাপথে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’। ছবি: এক্স/শ্রীলঙ্কান নেভি
    পাকিস্তানের প্রথম উন্নত স্টেলথ সাবমেরিন যেভাবে ভারতের সঙ্গে শক্তির সমীকরণ বদলে দিতে পারে
  • ইনফোগ্রাফ: টিবিএস
    ৫ বছরের মন্দা কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের মোটরসাইকেল বাজার
  • রাশিয়ার মস্কোয় একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় হামলার পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ছবি: সংগৃহীত
    মস্কোকে 'বাঁচাতে' চাকরির ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিয়ে ড্রোন অপারেটর খুঁজছে রাশিয়া, বেতন দেড় লাখ রুবল
  • নতুন গবেষণা অনুসারে, বিশ্ব উত্তপ্ত হওয়ার সাথে সাথে অ্যাসপারগিলাস নামক ছত্রাকের বিস্তার বাড়তে পারে। ছবি: রয়টার্স
    শরীরকে 'ভেতর থেকে খেতে শুরু করে' ছত্রাক: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে বাড়তে পারে এর বিস্তার

Related News

  • ‘৮ যুদ্ধ মিটমাট করেছি, তবু নোবেল পেলাম না’: যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প
  • যুক্তরাষ্ট্রের চাপে খামেনির জানাজায় অংশ নেয়নি অন্তত ১৩ দেশ: ইরানি গণমাধ্যম
  • নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমার বোঝাপড়া চমৎকার, ও জানে ‘আসল বস কে’: ট্রাম্প
  • ২৫০ বছরে আমেরিকা: একই সঙ্গে জৌলুস আর অবক্ষয়ের দোলাচল
  • আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার

Most Read

1
একটি বিভার। ছবি: সিবিসি
আন্তর্জাতিক

বন্যা সমস্যার সমাধানে ৪০০ বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া এক প্রাণীকে ফিরিয়ে এনেছে এই শহর

2
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩,০০০ কোটি টাকা ফেরত দিতে পারছে না আইসিবি, গ্যারান্টির মেয়াদ আরও ৩ বছর বাড়ানোর আবেদন
অর্থনীতি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩,০০০ কোটি টাকা ফেরত দিতে পারছে না আইসিবি, গ্যারান্টির মেয়াদ আরও ৩ বছর বাড়ানোর আবেদন

3
পাকিস্তানের উদ্দেশে যাত্রাপথে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’। ছবি: এক্স/শ্রীলঙ্কান নেভি
আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের প্রথম উন্নত স্টেলথ সাবমেরিন যেভাবে ভারতের সঙ্গে শক্তির সমীকরণ বদলে দিতে পারে

4
ইনফোগ্রাফ: টিবিএস
অর্থনীতি

৫ বছরের মন্দা কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের মোটরসাইকেল বাজার

5
রাশিয়ার মস্কোয় একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় হামলার পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

মস্কোকে 'বাঁচাতে' চাকরির ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিয়ে ড্রোন অপারেটর খুঁজছে রাশিয়া, বেতন দেড় লাখ রুবল

6
নতুন গবেষণা অনুসারে, বিশ্ব উত্তপ্ত হওয়ার সাথে সাথে অ্যাসপারগিলাস নামক ছত্রাকের বিস্তার বাড়তে পারে। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

শরীরকে 'ভেতর থেকে খেতে শুরু করে' ছত্রাক: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে বাড়তে পারে এর বিস্তার

EMAIL US
[email protected]
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - [email protected]

For advertisement- [email protected]