চীনের হয়ে গোয়েন্দাগিরি, আদালতে দোষ স্বীকার মার্কিন সাংবাদিকের
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনে বসবাসরত ও কর্মরত একজন মার্কিন সাংবাদিক সে দেশের সরকারের হয়ে 'অবৈধ এজেন্ট' হিসেবে কাজ করার কথা মার্কিন আদালতে স্বীকার করেছেন।
৫০ বছর বয়সী থমাস পকেন (দ্বিতীয়) চীনের কাছে 'মার্কিন সরকারের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন' বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ।
আদালতের নথি অনুযায়ী, পকেন ২০১০ সাল থেকে চীনে বসবাস করছিলেন এবং সেখানে সিসিটিভি ও সিনহুয়া নিউজসহ বেশ কিছু সংবাদ সংস্থায় কাজ করেছেন।
নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তত ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি এমন কিছু মানুষের নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন, যাদের সম্পর্কে তিনি জানতেন যে তারা চীন সরকারের হয়ে কাজ করেন।
পকেন যাদের হয়ে কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন 'ক্যাথি'। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ক্যাথি তাকে বিভিন্ন কাজ দিতেন, যার মধ্যে সম্ভাব্য গোয়েন্দা তথ্যদাতাদের সাথে সাক্ষাতের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আদালতের নথিতে দেখা যায়, ২০১৭ সালে 'ট্রাম্প-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের' সময় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একজন ভাষণ লেখক পকেনকে ক্যাথির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
বিচার বিভাগ আরও জানায়, এই কাজের বিনিময়ে পকেন ক্যাথির কাছ থেকে অন্তত ১ লাখ ডলার গ্রহণ করেছেন।
২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাকে বেশ কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে তিনি সেখানে এমন কিছু মানুষের সাথে দেখা করেন যারা চীনকে দেওয়ার মতো তথ্য সরবরাহ করতে পারবেন।
এফবিআই-এর কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স এবং এসপিওনাজ বিভাগের সহকারী পরিচালক রোমান রোজাভস্কি বলেন, এই আমেরিকান সাংবাদিক 'আমেরিকান লক্ষ্যবস্তুদের ওপর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং পরে তা তার চীনা গোয়েন্দা হ্যান্ডলারদের কাছে রিপোর্ট করতেন।'
রোজাভস্কি আরও জানান, মার্কিন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নষ্ট করতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে— এই মামলাটি তার একটি উদাহরণ।
চীনে 'উইলিয়াম' এবং 'রিচার্ড' নামে আরও দুই ব্যক্তির সাথেও পকেন কাজ করেছেন। তারা তাকে জানিয়েছিলেন, তার জমা দেওয়া প্রতিবেদনগুলো জাপানে পাঠানো হচ্ছে।
এছাড়া, তিনি উহানভিত্তিক একটি গোষ্ঠীর কাছে মার্কিন বিচার বিভাগ ও প্রযুক্তিসংক্রান্ত তথ্য বিক্রি করেছেন। এমনকি সাইবার গোয়েন্দাগিরিতে সহায়তা করার জন্য কোনো বিশেষজ্ঞ খুঁজে দিতেও ওই গোষ্ঠী পকেনকে অনুরোধ করেছিল।
ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় শুনানি শেষে পকেনের আইনজীবী চার্লস বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, তার মক্কেল নিজের দায় স্বীকার করেছেন।
তবে তিনি দাবি করেন, পকেন মূলত দুই দেশের মধ্যে 'শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি এবং চীনে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসার ঘটাতে চেয়েছিলেন।'
আগামী ১ সেপ্টেম্বর পকেনের সাজা ঘোষণা করা হবে। এই অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
