থালাপাতির ‘সুপারহিট’ অভিষেক: পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি আসন, কিন্তু তার দল কি সরকার গড়তে পারবে?
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফলাফল সবাইকে চমকে দিয়েছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া থালাপাতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কালাগাম (টিভিকে) রাজ্যে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় 'ম্যাজিক ফিগার' থেকে কিছুটা দূরে রয়েছে তারা।
২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় ২০২৪ সালে গঠিত বিজয়ের টিভিকে জিতেছে ১০৮টি আসনে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন, অর্থাৎ তারা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১০টি আসন পিছিয়ে আছে। অন্যদিকে, বর্তমান ক্ষমতাসীন ডিএমকে জোট ৭৩টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৫৩টি আসন পেয়ে অনেক পিছিয়ে থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এই তিনটি ব্লকের বাইরে অন্য কোনো দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি আসনও পায়নি।
যেহেতু কোনো দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, তাই প্রশ্ন উঠেছে—তামিলনাড়ুতে পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে? ১৯৬৭ সালের পর প্রথম ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে গিয়ে বিজয় কি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন?
সম্ভাব্য তিন সমীকরণ
১. ডিএমকে জোটের ছোট দলগুলোকে পাশে নেওয়া:
বিজয় এবং টিভিকে সরকার গঠনের জন্য ডিএমকে জোটের ছোট দলগুলোকে নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করতে পারে। সরকার গড়তে তাদের আরও ১০ জন বিধায়ক প্রয়োজন। বর্তমানে ডিএমকে জোটে থাকা কংগ্রেসসহ ছোট দলগুলোর হাতে মোট ১৪টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক রয়েছেন। আগে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, কংগ্রেসের একটি অংশ নির্বাচনের আগেই বিজয়ের সঙ্গে জোট করতে চেয়েছিল; তারা এখন বিজয়কে সমর্থন দিতে পারে। এছাড়া দুটি বাম দলের (সিপিআই ও সিপিআই-এম) ২ জন করে মোট ৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। এই দলগুলো বিজয়ের পাশে দাঁড়ালে তাঁর জন্য প্রয়োজন হবে মাত্র ১টি আসন, যা দলিত-ভিত্তিক দল ভিসিকে পূরণ করতে পারে। তবে এই সমীকরণের ফলে জাতীয় রাজনীতিতে 'ইন্ডিয়া' জোটের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
২. ডিএমকে জোটের পূর্ণ সমর্থন:
অন্য একটি সম্ভাবনা হলো ডিএমকে জোটের সবাই মিলে বিজয়কে সমর্থন দেওয়া। এটি গাণিতিক ও রাজনৈতিকভাবে কার্যকর হতে পারে এবং জাতীয় পর্যায়ে বিরোধী জোটকেও শক্তিশালী করবে। কিন্তু ডিএমকে কি এতে রাজি হবে? বিজয় ডিএমকে-কে তার "রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী" হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বহুবার দলটিকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এম কে স্ট্যালিন সরকারের বিরুদ্ধে জনরায়ের পর বিজয় হয়তো ডিএমকে-র সঙ্গে যেতে চাইবেন না।
৩. এআইএডিএমকে ফ্যাক্টর:
অন্য একটি পথ হতে পারে যদি প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে বিজয়কে সরকার গঠনে সমর্থন দেয়। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। উল্টো এআইএডিএমকে নেতা সি. পন্নাইয়ান সোমবার জানিয়েছেন যে, তার দল টিভিকে-র কোনো জোটের প্রস্তাব গ্রহণ করবে না। যদিও এই মন্তব্য ভোট গণনা চলাকালীন করা হয়েছিল।
এছাড়া বিজয়ের দল বিজেপি-কে তাদের "আদর্শিক শত্রু" হিসেবে ঘোষণা করেছে। টিভিকে-র কৌশলবিদ জন আরোকিয়াসামি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, "বিভাজনমূলক রাজনীতি ও দুর্নীতির" বিরোধিতার কারণে এআইএডিএমকে বা বিজেপি-র প্রতি তাদের কোনো আগ্রহ নেই। বিজয়ের এই অনড় অবস্থানের কারণে এআইএডিএমকে-র সঙ্গে কোনো সমঝোতা হতে হলে দলটিকে এনডিএ জোট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
