Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Tuesday
June 16, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
TUESDAY, JUNE 16, 2026
মার্কিন নৌ-অবরোধ কত দিন সামলাতে পারবে ইরান? যুক্তরাষ্ট্রই বা চালিয়ে যেতে পারবে কত দিন?

আন্তর্জাতিক

আল জাজিরা
25 April, 2026, 02:10 pm
Last modified: 25 April, 2026, 02:34 pm

Related News

  • হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ‘টোল’ দিতে হবে না, তবে ‘ফি’ দিতে হবে: ইরান
  • শুক্রবারের আগেই ট্রাম্প ‘দেড় পৃষ্ঠার’ আমেরিকা-ইরান চুক্তি প্রকাশ করতে পারেন: ভ্যান্স
  • ইরান পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের খবর ‘ভুয়া’: ট্রাম্প
  • চুক্তি বহাল থাকলে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
  • ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

মার্কিন নৌ-অবরোধ কত দিন সামলাতে পারবে ইরান? যুক্তরাষ্ট্রই বা চালিয়ে যেতে পারবে কত দিন?

ওয়াশিংটন ডিসির কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের সাবেক ইরান বিশ্লেষক কেনেথ কাটজম্যান বলেন, মার্কিন অবরোধের কারণে ইরান নতুন করে তেল রপ্তানি করতে পারছে না ঠিকই, তবে এই মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন জাহাজে তাদের ১৬০ মিলিয়ন থেকে ১৭০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। 
আল জাজিরা
25 April, 2026, 02:10 pm
Last modified: 25 April, 2026, 02:34 pm
ওমানের মুসান্দাম উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও তেলের ট্যাংকার। ছবি: রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ছে। তার দাবি, ইরানি বন্দরগুলোতে ওয়াশিংটনের নৌ-অবরোধের কারণে প্রতিদিন লাখ লাখ ডলার হারাচ্ছে দেশটি।

মঙ্গলবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ট্রাম্প লেখেন, 'ইরান আর্থিকভাবে ধসে পড়ছে! তারা এখনই হরমুজ প্রণালি খুলতে চায়—নগদ টাকার জন্য হাহাকার করছে! দিনে ৫০০ মিলিয়ন ডলার হারাচ্ছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করছে।'

গত ১৩ এপ্রিল ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ শুরু হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের পতাকাবাহী একটি ট্যাংকারে গুলি চালিয়ে তা জব্দ করে এবং গভীর সমুদ্রে ইরানগামী বা ইরান থেকে আসা জাহাজগুলোকে পথ বদলাতে নির্দেশ দেয়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী একে 'জলদস্যুতার শামিল' এবং 'বেআইনি কাজ' বলে আখ্যা দিয়েছে। 

মার্কিন নৌ-অবরোধের জবাবে ইরান সব বিদেশি জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং কয়েকটি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দও করেছে। এর আগে তারা কেবল নিজেদের জন্য 'বন্ধুভাবাপন্ন' দেশের জাহাজগুলোকে ওই পথে চলার অনুমতি দিত।

১৯ এপ্রিল ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ সামাজিক মাধ্যম এক্সে বলেন, 'হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিনা মূল্যে মেলে না।' তিনি লেখেন, 'একদিকে ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করা হবে, আর অন্যদিকে সবার জন্য বিনা মূল্যে নিরাপত্তা আশা করা হবে—এমনটা হতে পারে না। পছন্দটা একদম পরিষ্কার: হয় সবার জন্য উন্মুক্ত তেলের বাজার, না হয় সবার জন্য বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি।'

তিনি আরও বলেন, 'জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারে স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে ইরান ও এর মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের নিশ্চিত ও স্থায়ী অবসানের ওপর।'

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হলেই কেবল পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই অবরোধ ইরানের বেশ ক্ষতি করছে ঠিকই, তবে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেশটির রয়েছে।

মার্কিন অবরোধে কতটা ক্ষতি হচ্ছে ইরানের?

ইরান সমুদ্রপথে তেল, গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিসহ ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এই বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পরপরই তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। এরপর থেকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই রয়েছে। তবে এই পথ দিয়ে তারা নিজেদের জ্বালানি পণ্য রপ্তানি চালিয়ে গেছে। 

ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই যায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। বাণিজ্য ও তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের মতে, ইরান গত মার্চে প্রতিদিন গড়ে ১ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। এপ্রিলে এখন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পাঠিয়েছে তারা। ২০২৫ সালে তাদের গড় রপ্তানি ছিল দিনে ১ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ব্যারেল। 

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ইরান ৫৫ দশমিক ২২ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করেছে। গত এক মাসে ইরানের তিন ধরনের প্রধান তেলের (ইরানিয়ান লাইট, ইরানিয়ান হেভি এবং ফোরোজান ব্লেন্ড) দাম কোনো দিনই ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নামেনি। অনেক দিন এই দাম ১০০ ডলারও ছাড়িয়ে গেছে। 

এমনকি ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের হিসাব ধরলেও, চলমান তেল রপ্তানি থেকে গত এক মাসে ইরান অন্তত ৪ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এর বিপরীতে, যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুতে ইরান তেল রপ্তানি থেকে দিনে প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলার আয় করত, যা মাসে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। 

সহজ কথায়, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় গত এক মাসে তেল রপ্তানি থেকে ইরান ৪০ শতাংশ বেশি আয় করেছে। আর এই আয় বন্ধ করাই ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের অন্যতম প্রধান কারণ।

মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের জ্যেষ্ঠ ফেলো ফ্রেডেরিক স্নাইডার ১৪ এপ্রিল আল জাজিরাকে জানান, গত ছয় সপ্তাহে তেল রাজস্বের দিক থেকে ইরান লাভবান হয়েছে। কিন্তু মার্কিন অবরোধের কারণে সেই পরিস্থিতি পাল্টে যাবে।

তবে শুক্রবার স্নাইডার আল জাজিরাকে জানান, ইরান সম্ভবত 'দীর্ঘমেয়াদি খেলার' প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা এ ধরনের সংঘাতের আভাস আগেই পেয়েছিল এবং সে অনুযায়ী কিছু প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে। 

তিনি বলেন, 'নৌ-অবরোধ অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। তবে এই অবরোধ কতটা কার্যকর, বিপুল পরিমাণ ভাসমান তেলের জাহাজের মধ্যে কয়টি পার হতে পারছে এবং ট্রাম্প কত দিন এই অবরোধ টিকিয়ে রাখতে পারবেন—তা এখনো অস্পষ্ট।'

যুক্তরাষ্ট্র কি দীর্ঘদিন অবরোধ চালিয়ে যেতে পারবে?

স্নাইডার জানান, আগামী ১ মে একটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন ট্রাম্প। কারণ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বিদেশে কোনো সামরিক অভিযান চালানোর জন্য তার হাতে থাকা ৬০ দিনের সময়সীমা ওই দিন শেষ হবে।

তিনি জানান, যেসব জাহাজের মাধ্যমে এই অবরোধ কার্যকর রাখা হচ্ছে, সেগুলোর অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। এ ছাড়া চীনের পণ্য বহনকারী জাহাজগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্র বারবার জব্দ করতে থাকে, তবে চীন কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেটাও দেখার বিষয়।

স্নাইডার বলেন, 'চীন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে ইরানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যে অবরোধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর পাশাপাশি প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের খুব একটা ক্ষতি না করলেও, এই অঞ্চলে ও বিশ্বজুড়ে থাকা মার্কিন মিত্রদের ক্ষতি করছে। ফলে ট্রাম্পের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।'

তিনি আরও বলেন, 'দুই পক্ষের আচরণ থেকে যদি কিছু বোঝার থাকে, তবে তা হলো—ইরান ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে, আর ট্রাম্প ক্রমশ অধৈর্য হয়ে পড়ছেন।'

বাহরাইনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যাডাম এরেলি আল জাজিরার 'দিস ইজ আমেরিকা' অনুষ্ঠানে বলেন, 'ইরানিরা এই পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। তাদের নিজেদের পরিকল্পনা আছে। তেল মজুত বা বিক্রি করার বিকল্প উপায়ও তাদের হাতে আছে।'  তিনি বলেন, 'এমনকি তাদের তেল ফুরিয়ে গেলেও, এই কঠোর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও টিকে থাকার পথ তাদের জানা আছে। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় ট্রাম্প এবং আমেরিকান জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলেও ইরানিরা ঠিকই টিকে থাকবে।'

অ্যাডাম আরও বলেন, 'ট্রাম্প সব সময়ই রাজনৈতিক হাওয়া বোঝেন। তাই একদিকে তার ইরান নীতি, অন্যদিকে তার নির্বাচনী কৌশল—এই দুটির মধ্যে একটি বড় সংঘাত দেখা দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো, শেষ পর্যন্ত তিনি কোনটিকে ছাড় দেবেন?' 

হরমুজ প্রণালি। ছবি: আল জাজিরা

অবরোধের মধ্যে তেল মজুত করার জায়গা আছে ইরানের?

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এফজিই এনার্জির মতে, ইরানের দেশীয় শোধনাগারগুলোর উৎপাদনক্ষমতা দিনে ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল। তাদের তেল ও গ্যাস উৎপাদনকেন্দ্রগুলো মূলত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে অবস্থিত—তেলের জন্য খুজেস্তান এবং গ্যাস ও কনডেনসেটের জন্য বুশেহর। 

অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিসের (ওপেক) তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ ইরান। তারা তাদের মোট অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশই খার্গ দ্বীপ হয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি করে।

মার্কিন নৌ-অবরোধের অর্থ হলো ইরানকে এখন আরও বেশি তেল মজুত করে রাখতে হবে এবং এর ফলে মজুত রাখার জায়গার সংকট দেখা দিতে পারে।

কেপলারের বিশ্লেষক মুয়ু জু আল জাজিরাকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আগামী দিনে ইরানের তেল লোডিং ও রপ্তানি ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে স্থলভাগের মজুতের ওপর চাপ বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত তারা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবে।

মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স বা সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ট্যাংকার ট্র্যাকার্স জানিয়েছে, তেলের মজুত রাখার জায়গার অভাব হতে পারে—এমনটা আঁচ করে ইরান খার্গ দ্বীপে 'নাশা' নামের পুরোনো একটি ট্যাংকারকে আবার কাজে ফিরিয়ে এনেছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্যাংকার ট্র্যাকার্স জানায়, 'এটি একটি ৩০ বছরের পুরোনো ভিএলসিসি (ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার বা অত্যন্ত বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ), যা গত কয়েক বছর ধরে খালি নোঙর করা ছিল। যে যাত্রায় দেড় থেকে দুই দিন লাগার কথা, সেখানে এই জাহাজটি চার দিন ধরে সাগরে ভাসছে।' ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটিকে তেল মজুত করার কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে। জাহাজটির কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য বা রুট আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। 

তেল থেকে ইরানের আয় কি অব্যাহত থাকবে?

বিশ্লেষকদের মতে, সাগরে ইতিমধ্যে ট্রানজিটে থাকা তেলের মাধ্যমে ইরান আরও কয়েক মাস রাজস্ব আয় অব্যাহত রাখতে পারবে। 

ওয়াশিংটন ডিসির কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের সাবেক ইরান বিশ্লেষক কেনেথ কাটজম্যান বলেন, মার্কিন অবরোধের কারণে ইরান নতুন করে তেল রপ্তানি করতে পারছে না ঠিকই, তবে এই মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন জাহাজে তাদের ১৬০ মিলিয়ন থেকে ১৭০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। 

আল জাজিরাকে কাটজম্যান জানান, মার্কিন অবরোধ আরোপের আগেই এই সরবরাহগুলো হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। এগুলো এখন শত শত ট্যাংকারে করে 'ডেলিভারির অপেক্ষায়' রয়েছে। তিনি জানান, এক ইরানি অধ্যাপকের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে এই সরবরাহগুলোর ওপর ভিত্তি করে মার্কিন নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও তেহরানের রাজস্ব প্রবাহ আগস্ট পর্যন্ত চলতে পারে।

কাটজম্যান বলেন, 'এটি বেশ লম্বা সময়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কি আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করার সময় আছে? সম্ভবত নেই।' তিনি মনে করেন, ট্রাম্প যদি তার কাঙ্ক্ষিত সমাধানে পৌঁছাতে চান, তবে তাকে সামরিক সংঘাত বাড়াতে হবে, না হয় তার কাঙ্ক্ষিত চুক্তির চেয়েও কম কিছু মেনে নিতে হবে।

অবশ্য সাগরে চলাচলের সময় ইরানি জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ মার্কিন নৌবাহিনী সম্প্রতি ইরানের মালবাহী জাহাজ আটকাতে শুরু করেছে। 

উদাহরণস্বরূপ, চলতি সপ্তাহের বুধবার এশিয়ার জলসীমায় অন্তত তিনটি ইরানি পতাকাবাহী ট্যাংকার আটকায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার কাছে থাকা এই জাহাজগুলোর গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে। 

বিশ্লেষক মুয়ু জু জানান, কেপলারের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সাগরে প্রায় ১৮৩ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল ভাসছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন, ওমান উপসাগরে ১১ দশমিক ৯ মিলিয়ন, আরব সাগরে ৯ মিলিয়ন এবং ভারত মহাসাগরে ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। বাকি তেল মালাক্কা প্রণালি, দক্ষিণ চীন সাগর এবং চীনের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। 

জু মনে করেন, আসন্ন ট্রাম্প-সি জিনপিং বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্র খুব বেশি আগ্রাসী হবে না। তবে তারা ইরান ও চীন—উভয়ের ওপর চাপ বজায় রাখতে বাছাই করে কিছু ইরানি চালান আটকানো অব্যাহত রাখবে। তার মতে, যত দিন সম্ভব চীন ইরানি অপরিশোধিত তেল কেনা চালিয়ে যাবে এবং ইরানও পূর্ব দিকে তেল পাঠানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। 

রাজস্ব আয়ের আর কী পথ আছে ইরানের?

তেল বিক্রির পাশাপাশি গত মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালিতে বসানো একটি 'টোল বুথ' ব্যবস্থা থেকেও রাজস্ব আয় করছে ইরান।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজি-বাবাই জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বসানো টোলের প্রথম আয় তেহরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয়েছে। তবে এই আয়ের পরিমাণ ঠিক কত, তা স্পষ্ট নয়।

গত মার্চে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফারসি ভাষার স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি রাজনীতিক আলাউদ্দিন বোরুজেরদি জানিয়েছিলেন, প্রণালি পার হওয়ার জন্য কিছু জাহাজের কাছ থেকে তারা ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছেন। 

নৌবাণিজ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্টের মতে, এখন পর্যন্ত এই প্রণালি পার হওয়া অন্তত দুটি জাহাজ চীনের মুদ্রা ইউয়ানে টোল পরিশোধ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'চীনের একটি মেরিটাইম সার্ভিস কোম্পানি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে জাহাজ পারাপারের ব্যবস্থা করেছে এবং তারাই ইরানি কর্তৃপক্ষকে এই অর্থ পরিশোধ করেছে।' তবে জাহাজকে ঠিক কত টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে, তা জানা যায়নি।  

Related Topics

টপ নিউজ

ইরান / হরমুজ প্রণালি / নৌ অবরোধ / যুক্তরাষ্ট্র

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার। ছবি: রয়টার্স
    হরমুজে টোল আদায়, শেষ মুহূর্তের আলোচনায় যে ছাড় আদায় করল ইরান
  • ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
    ইরান ফ্রন্টে ট্রাম্পের কাছে অপমানিত হয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জ্বালিয়ে দিতে পারেন নেতানিয়াহু
  • ছবি: সংগৃহীত
    ট্যাক্স ফাইলে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদের মূল্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হচ্ছে
  • শাহে আলম। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
    বগুড়ায় ছেলে-পরিবারের নামে ৩ ইউনিয়নের নামকরণ, প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বললেন, ‘মিরাক্যালি মিলে গেছে’ 
  • প্রতীকী ছবি: টিবিএস
    মেট্রোরেল না মনোরেল? চট্টগ্রামের জন্য কোনোটিই বাস্তবসম্মত নয়, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
  • ছবি: টিবিএস
    ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংককে অভিনন্দন গ্রাহক ফোরামের, সৎ ও পেশাদারদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠনের দাবি

Related News

  • হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ‘টোল’ দিতে হবে না, তবে ‘ফি’ দিতে হবে: ইরান
  • শুক্রবারের আগেই ট্রাম্প ‘দেড় পৃষ্ঠার’ আমেরিকা-ইরান চুক্তি প্রকাশ করতে পারেন: ভ্যান্স
  • ইরান পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের খবর ‘ভুয়া’: ট্রাম্প
  • চুক্তি বহাল থাকলে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
  • ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

Most Read

1
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

হরমুজে টোল আদায়, শেষ মুহূর্তের আলোচনায় যে ছাড় আদায় করল ইরান

2
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

ইরান ফ্রন্টে ট্রাম্পের কাছে অপমানিত হয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জ্বালিয়ে দিতে পারেন নেতানিয়াহু

3
ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

ট্যাক্স ফাইলে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদের মূল্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হচ্ছে

4
শাহে আলম। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
বাংলাদেশ

বগুড়ায় ছেলে-পরিবারের নামে ৩ ইউনিয়নের নামকরণ, প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বললেন, ‘মিরাক্যালি মিলে গেছে’ 

5
প্রতীকী ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

মেট্রোরেল না মনোরেল? চট্টগ্রামের জন্য কোনোটিই বাস্তবসম্মত নয়, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

6
ছবি: টিবিএস
অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংককে অভিনন্দন গ্রাহক ফোরামের, সৎ ও পেশাদারদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠনের দাবি

EMAIL US
[email protected]
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - [email protected]

For advertisement- [email protected]