ইরান যুদ্ধ ও পোপের সাথে বিবাদ: ট্রাম্পের মেজাজ নিয়ে মার্কিনিদের মধ্যে সংশয়
ইরান যুদ্ধ এবং পোপ লিওর সঙ্গে বিবাদের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেজাজ ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক আমেরিকান। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্স/ইপসোস পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার রেটিং তাঁর বর্তমান মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
সোমবার শেষ হওয়া ছয় দিনব্যাপী এই জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৬ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পের কার্যক্ষমতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যা গত মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নেওয়ার কিছুদিন পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বোচ্চ ৪৭ শতাংশে পৌঁছেছিল।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলের শুরু করা ইরান যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, ৩৬ শতাংশ আমেরিকান ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন, যা ১০-১২ এপ্রিলের জরিপে ছিল ৩৫ শতাংশ। অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে ৪ হাজার ৫৫৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন। এতে ভুলের মাত্রা (মার্জিন অফ এরর) ধরা হয়েছে ২ শতাংশ।
জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের মধ্যেও ৭৯ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্টের মেজাজ ও মানসিক তীক্ষ্ণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ধারাবাহিক কিছু বিস্ফোরক আচরণের পর এই সংশয় জোরালো হয়েছে।
মাত্র ২৬ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন ট্রাম্প 'স্থির মেজাজী'। এ প্রশ্নে রিপাবলিকানরা দ্বিধাবিভক্ত—৫৩ শতাংশ তাঁকে স্থির মেজাজী মনে করলেও ৪৬ শতাংশ তা মনে করেন না। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মাত্র ৭ শতাংশ তাঁকে স্থির মেজাজী বলে মনে করেন।
এছাড়া ৫১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন গত এক বছরে ট্রাম্পের মানসিক তীক্ষ্ণতা বা সজাগতা আরও 'খারাপ' হয়েছে। এই মত পোষণকারীদের মধ্যে ১৪ শতাংশ রিপাবলিকান, ৫৪ শতাংশ স্বতন্ত্র এবং ৮৫ শতাংশ ডেমোক্র্যাট রয়েছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পকে বেশ বিচলিত দেখা গেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানের সভ্যতা মুছে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন এবং ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করায় পোপ লিওকে 'অপরাধের বিষয়ে দুর্বল' বলে আক্রমণ করেছেন। এমনকি অশালীন বা কড়া ভাষা ব্যবহার করে ইরানের সব সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করারও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
এর আগে বছরের শুরুতে ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি তুলে এবং দাবি না মানলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে মিত্র দেশগুলোকে আতঙ্কিত করেছিলেন তিনি। অবশ্য এই জরিপের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, রয়টার্স/ইপসোস-এর এই জরিপটি যখন পরিচালিত হচ্ছিল, তখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছিল, যার মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা।
পোপ লিওর ওপর ট্রাম্পের আক্রমণ সাধারণ মার্কিনিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে কারণ প্রেসিডেন্টের তুলনায় পোপের প্রতি আমেরিকানদের শ্রদ্ধা অনেক বেশি। জরিপে ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা পোপের প্রতি ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেছেন, যেখানে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৩৬ শতাংশ। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজওম এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের মতো প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাটদের চেয়েও পোপকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখছেন মার্কিনিরা।
ট্রাম্প ন্যাটো সামরিক জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিলেও জরিপে দেখা গেছে মাত্র ১৬ শতাংশ মার্কিনি এটি সমর্থন করেন।
ইরান যুদ্ধের প্রলেপে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ আমেরিকানদের ব্যক্তিগত অর্থনীতিতে বড় আঘাত হেনেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ওপর সন্তুষ্টির হার মাত্র ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তাঁর জন্য এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন। একইভাবে, মাত্র ২৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান এই বিপুল ব্যয়ের তুলনায় সার্থক। মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ (৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ও ৫৭ শতাংশ রিপাবলিকানসহ) মনে করেন যে ইরানে হামলার ফলে আমেরিকা আরও নিরাপদ হবে।
