হেগসেথের নেতৃত্বে লবস্টার, ফলের ঝুড়ি ও জাপানি বাঁশিতে পেন্টাগনের ব্যয় ৯৩ বিলিয়ন
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস আগে থেকেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) বড় অংকের ব্যয় শুরু হয়েছিল। পিট হেগসেথের নেতৃত্বে পেন্টাগন কেবল সামরিক সরঞ্জাম বা অস্ত্রের জন্য নয়, বরং খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য কিনতে বিপুল ব্যয় করেছে বলে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এসময় স্টেক, স্যামন, লবস্টার, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন খাতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়।
সরকারি ব্যয় তদারকি সংস্থা ওপেন দ্য বুকস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পেন্টাগন অনুদান ও বিভিন্ন চুক্তির জন্য মোট ৯৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে।
সংস্থাটি জানায়, ওই মাসের শেষ পাঁচ কার্যদিবসেই প্রতিরক্ষা দপ্তর অনুদান ও চুক্তির পেছনে ৫০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে।
ওপেন দ্য বুকস উল্লেখ করেছে, বিশ্বের মাত্র ৯টি দেশ এক বছরে তাদের সামরিক খাতে এত অর্থ ব্যয় করে।
সম্ভবত ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই অর্থ খরচে এই তাড়াহুড়া করেছিল পেন্টাগন।
ওপেন দ্য বুকস বলছে, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে যদি পেন্টাগন এই অর্থ ব্যয় না করত, তবে 'ব্যবহার করো না হলে হারাও' (ইউজ ইট অর লুজ ইট) নীতির কারণে অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দিতে হতো এবং পরবর্তী বছরে বরাদ্দ কমে যেতে পারত।
সাধারণত মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যে অর্থবছরের শেষের দিকে আসবাবপত্র কেনার প্রবণতা দেখা যায়।
ওপেন দ্য বুকস-এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ছাড়া অন্যান্য মাসে পেন্টাগন আসবাবপত্রের পেছনে ব্যয় করে গড়ে ৩ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। কিন্তু ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছরের সেপ্টেম্বরে আসবাবপত্রে ব্যয় করা হয়েছে গড়ে ২৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিরক্ষা দপ্তর আসবাবপত্রে মোট ২২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার ব্যয় করে। এর মধ্যে ফলের ঝুড়ি রাখার স্ট্যান্ডের জন্য ব্যয় করা হয় ১২ হাজার ৫৪০ ডলার এবং হারম্যান মিলার ব্র্যান্ডের চেয়ার কেনায় ব্যয় হয় ৬০ হাজার ৭১৯ ডলার, যার একটি চেয়ারের দামই ছিল ১ হাজার ৮০০ ডলার।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের এই ব্যয়ের ধারা শুধু আসবাবপত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
ওপেন দ্য বুকসের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী আলাস্কান কিং ক্র্যাব কেনায় ২০ লাখ ডলার, রিবআই স্টেক কিনতে ১ কোটি ৫১ লাখ ডলার, স্যামন মাছের জন্য ১০ লাখ ডলার ব্যয় করে।
এছাড়া আইসক্রিম মেশিনে ১ লাখ ২৪ হাজার ডলার, সুশি প্রস্তুতের টেবিলে ২৬ হাজার ডলার এবং ২৭২টি অর্ডারে ডোনাট কিনতে মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ২২৪ ডলার ব্যয় করা হয়।
ওপেন দ্য বুকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মার্চ, মে, জুন ও অক্টোবর—এই চার মাসের প্রতি মাসেই পেন্টাগন লবস্টার টেইল কিনতে ৭৪ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।
সামরিক ইতিহাসে এর আগে মাত্র একবার, ২০২৪ সালের অক্টোবরে, এমন ব্যয় হয়েছিল। আর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে লবস্টার টেইল কেনায় পেন্টাগনের ব্যয় ছিল ৬৯ লাখ ডলার।
এছাড়া, পেন্টাগন মার্কিন বিমানবাহিনীর চিফ অব স্টাফের বাসভবনের জন্য স্টেইনওয়ে অ্যান্ড সন্স ব্র্যান্ডের একটি গ্র্যান্ড পিয়ানো কিনতে ৯৮ হাজার ৩২৯ ডলার ব্যয় করে। পাশাপাশি একটি বেহালা কিনতে ২৬ হাজার ডলার এবং জাপানের বিলাসবহুল একটি ব্র্যান্ডের তৈরি কাস্টম ফ্লুট কিনতে ২১ হাজার ৭৫০ ডলার খরচ করা হয়।
সামরিক বাহিনী পায়ের বিশ্রামদানি (ফুটরেস্ট) খাতে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৭ ডলার ব্যয় করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেনা পণ্যের মধ্যে অনেকগুলোই যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি।
ওপেন দ্য বুকস জানায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পেন্টাগন বিদেশি সরকার ও বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পণ্য কিনতে রেকর্ড ৬৬০ কোটি ডলার ব্যয় করে। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে করা ব্যয়ের রেকর্ডও এতে ভেঙে যায়।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পিপল ম্যাগাজিন পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
