পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সারাতে জাপানের শহরকে ৩৬ লাখ ডলারের সোনার বার দিলেন রহস্যময় দাতা
পুরোনো পানি সরবরাহ ব্যবস্থা মেরামতের জন্য জাপানের কানসাই অঞ্চলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ওসাকা বিশাল অংকের এক ব্যতিক্রমী অনুদান পেয়েছে। শহরটির মেয়র হিদেউকি ইয়োকোয়ামা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত নভেম্বরে অজ্ঞাতনামা এক রহস্যময় ব্যক্তি আনুমানিক ৫৬ কোটি ইয়েন (৩৬ লাখ ডলার বা ২৭ লাখ পাউন্ড) মূল্যের ২১ কেজি ওজনের সোনার বার দান করেছেন।
জাপান-এর তৃতীয় বৃহত্তম শহর ওসাকায় প্রায় ৩০ লাখ মানুষের বাস। তবে দেশটির অন্যান্য অনেক শহরের মতো এখানকার পানি ও পয়োনিষ্কাশন পাইপলাইন অবকাঠামোর বড় অংশই পুরোনো হয়ে যাওয়ায় সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শহরের পানি সরবরাহ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে ওসাকার রাস্তার নিচে পানির পাইপ লিকেজ (ছিদ্র) হওয়ার ৯০টিরও বেশি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
সোনার বার অনুদান পাওয়ার ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র ইয়োকোয়ামা বলেন, 'পুরোনো পানির পাইপ মেরামতের জন্য বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। তাই এই অনুদানের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।'
তিনি আরও বলেন, অর্থের পরিমাণটি 'বিস্ময়কর' এবং তিনি এ নিয়ে কিছু বলার 'ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন'। একই রহস্যময় দাতা এর আগে পৌর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য নগদ ৫ লাখ ইয়েনও দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার শহরের পানি সরবরাহ দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সোনার বার অনুদান পেয়ে জন্য তারা কৃতজ্ঞ এবং পানির পাইপের ক্ষয় রোধসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজে এটি যথাযথভাবে ব্যবহার করা হবে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের ২০ শতাংশেরও বেশি পানির পাইপ তাদের ৪০ বছরের আইনি সেবার মেয়াদ অতিক্রম করেছে।
এদিকে, জাপানি শহরগুলোতে সিংকহোল বা হঠাৎ মাটি দেবে গর্ত তৈরির ঘটনা ক্রমেই সাধারণ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে অনেক ক্ষেত্রেই দায়ী পুরোনো পয়োনিষ্কাশন পাইপলাইন অবকাঠামো।
গত বছর সাইতামা প্রিফেকচার-এ একটি বিশাল সিংকহোলে একটি ট্রাকের সামনের অংশ ঢুকে যায় এবং চালক নিহত হন। ধারণা করা হয়, একটি ফেটে যাওয়া পয়োনিষ্কাশন পাইপের কারণেই ওই সিংকহোলটি তৈরি হয়েছিল।
ওই ঘটনার পর জাপানজুড়ে ক্ষয়ে যাওয়া পাইপ প্রতিস্থাপনে জোর প্রচেষ্টা শুরু করে কর্তৃপক্ষ। তবে বাজেট সংকটের কারণে এই অগ্রগতির গতি অনেকটাই থমকে গেছে।
