মাইকেলেঞ্জেলোর নবআবিষ্কৃত পায়ের স্কেচ ১ কোটি ৬৯ লাখ পাউন্ডে বিক্রি
রেনেসাঁস যুগের প্রখ্যাত ইতালীয় চিত্রশিল্পী মাইকেলেঞ্জেলোর আঁকা নবআবিষ্কৃত একটি পায়ের স্কেচ সম্প্রতি ১ কোটি ৬৯ লাখ পাউন্ডে [২ কোটি ৩০ লাখ ডলারে/ প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা] বিক্রি হয়েছে।
এর আগে অজ্ঞাত মাইকেলেঞ্জেলোর এই স্কেচ প্রাথমিক ধারণার চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের নিলাম প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টি'স-এর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি লিবিয়ান সিবিলের পায়ের একটি স্কেচ, যেটি পরে সিস্টিন চ্যাপেলের ছাদে আঁকা চিত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল।
ক্রিস্টি'স-এর তথ্যমতে, স্কেচটির প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে কিছুই না জেনে মালিক প্রথমে একটি ছবি পাঠিয়ে নিলামমূল্যের ধারণা জানতে চেয়েছিলেন। এরপরই তিনি এর আসল গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন।
ক্রিস্টি'স-এর ওল্ড মাস্টার্স বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান অ্যান্ড্রু ফ্লেচার এ আবিষ্কারকে তার কর্মজীবনের 'সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি' বলে বর্ণনা করেন।
লাল চক দিয়ে আঁকা ছোট আকারের এই স্কেচটি ১৫১১ থেকে ১৫১২ সালের মধ্যে আঁকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই সময় মাইকেলেঞ্জেলো সিস্টিন চ্যাপেলের ছাদের দ্বিতীয় অংশে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যেখানে লিবিয়ান সিবিলের চিত্রও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কেচটির মালিক যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে বসবাস করেন।
তিনি ক্রিস্টি'সকে জানান, স্কেচটি তিনি তার দাদির কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭০০ সালের শেষ দিক থেকে এটি ইউরোপে তাদের পরিবারের মধ্যেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষিত ছিল।
ক্রিস্টি'স-এর ওল্ড মাস্টার ড্রয়িংস বিভাগের বিশেষজ্ঞ জিয়াদা দামে ইনফ্রারেড রিফ্লেক্টোগ্রাফি ব্যবহার করে স্কেচটি পরীক্ষা করেন। এতে কাগজের পেছনেও কিছু আঁকা চিত্র পাওয়া যায়, যেগুলো মাইকেলেঞ্জেলোর কাজের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এরপর দামে নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত মাইকেলেঞ্জেলোর একটি ড্রয়িংয়ের পাশে স্কেচটি রেখে তুলনা করেন এবং এটিকে আসল বলে নিশ্চিত হন।
কোটি কোটি ডলারে শিল্পকর্ম বিক্রি হওয়া নতুন কিছু নয়। ২০১৭ সালে নিউইয়র্কে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা বলে ধারণা করা ৫০০ বছর পুরোনো যিশুখ্রিস্টের একটি চিত্রকর্ম ৪৫ কোটি ডলারে বিক্রি হয়ে রেকর্ড গড়ে।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অস্ট্রিয়ার শিল্পী গুস্তাভ ক্লিম্টের আঁকা এলিজাবেথ লেডেরারের একটি প্রতিকৃতি নিউইয়র্কে ২৩ কোটি ৬৪ লাখ ডলারে বিক্রি হয়। একই মাসে মেক্সিকোর খ্যাতনামা শিল্পী ফ্রিদা কাহলোর একটি পরাবাস্তব চিত্রকর্ম ৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলারে বিক্রি হয়, যা কোনো নারী শিল্পীর শিল্পকর্মের নিলামমূল্যের রেকর্ড ভেঙে দেয়।
