ইরানের দিকে এগোচ্ছে মার্কিন নৌবহর ‘আর্মাডা’, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫,০০০ ছাড়ানোর দাবি
ইরানের দিকে বিশাল এক মার্কিন 'আর্মাডা' বা রণতরি বহর এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কড়া নজর রাখছে। এদিকে, মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, ইরানে বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানে নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম থেকে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, 'আমাদের অনেক জাহাজ ওই দিকে যাচ্ছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে। আমি চাই না কিছু ঘটুক, তবে আমরা তাদের ওপর খুব কড়া নজর রাখছি... আমাদের একটি আর্মাডা ওই দিকে যাচ্ছে এবং হয়তো আমাদের তা ব্যবহার করতে হবে না।'
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং বেশ কয়েকটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমানঘাঁটিগুলোর সুরক্ষায় অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে। দোহার অনুরোধে কাতারকে ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
মার্কিন রণতরি পৌঁছানোর আগেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যেকোনো হামলাকে তারা 'সর্বাত্মক যুদ্ধ' হিসেবে বিবেচনা করবেন এবং 'সম্ভাব্য কঠোরতম উপায়ে' জবাব দেবেন।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের প্রধান আলী আবদোল্লাহি আলীআবাদী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানে কোনো সামরিক হামলা হলে অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু'তে পরিণত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) শুক্রবার জানিয়েছে, ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ২-এ দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭১৬ জন বিক্ষোভকারী, ২০৩ জন সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ৪৩টি শিশু এবং বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। সংস্থাটি জানায়, অন্তত ২৬ হাজার ৫৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের জরুরি অধিবেশনে মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় এবং আবাসিক এলাকায় নিহত হয়েছে। তিনি ইরানকে 'নৃশংস দমন-পীড়ন' বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পুরোপুরি স্থগিত রাখার দাবি জানান। ইরানে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার মাই সাতো দেশটিতে সরেজমিন তদন্তের সুযোগ চেয়েছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর রিয়ালের দরপতনের জেরে তেহরানের ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামলে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা সরকারপতনের আন্দোলনে রূপ নেয়, যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর দেশটিতে সবচেয়ে মারাত্মক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও কঠোর দমন-পীড়নের মুখে বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হলেও জানাজার মতো অনুষ্ঠানে এখনো 'স্বৈরাচারের মৃত্যু চাই' স্লোগান উঠছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, 'জনগণের ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে পরিণত করা হয়েছে তাদের ষড়যন্ত্রে, যারা ইরানের ক্ষতি চায়।'
অন্যদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলেই ইরানে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং ডিসেম্বরে দেশটির অর্থনীতি ধসে পড়েছে।
